-তুই কই?
মোবাইলে কেউ প্রশ্ন করলে আমি কখনো উত্তর দেইনা। বদলে আমি বলি, 'আপনি ভাল আছেন?'
-ব্যাটা ফাইজলামি করস? হালারপুত, আমি টিটু। কই তুই?
আবার প্রশ্ন। আমি বিগলিত গলায় বলি,
-আসসালামুআলাইকুম। কেমন আছেন টিটু ভাই?
-হারামি, আমার মোবাইলে বেশী ট্যাকা নাই, ফাইজালামি করিস না, হীরা। তোর জন্য ব্যাটা রইদে দাড়াইয়া আছি পাক্কা বিশ মিনিট। আইবি না?
গু খা বলে আমি লাইন কেটে দেই।
কালকে নিয়াজের জন্মদিন। আজ রাতে এই উপলক্ষে পার্টি। রাত বারোটায়, নিয়াজের মেসে।
আমার আর টিটুর উপর দায়িত্ব দুই বোতল মাল কেনার। এক বোতল কেরু আর এক বোতল বিদেশী, যেটা পাওয়া যায়।
টিটুর এসএমএস আসে- 'আমি গ্যালাক্সির সামনে। কাম কুইক।'
দূর থেকে টিটুকে দেখে মায়া হয়। বেচারা সত্যি সত্যি এই দুপুরের রোদে দাড়িয়ে আছে। এত তাড়াতাড়ি বের হবার প্ল্যান করা ঠিক হয়নি।
আমি রিকসা ছেড়ে দিয়ে টিটুর কাছে যাই। আমাকে দেখে টিটু বোধহয় স্বস্তিবোধ করে। বলে, কিরে হালা, এতক্ষণ লাগে আসতে?
আমি শুধু বলি, চল্।
দুজনে সিড়ি বেয়ে উঠে হোটেলে ঢুকি।
কিছুক্ষণ পর আমাদেরকে আবার রিকশা নিতে হয়। কেরু পাওয়া যায়নি। এরা নাকি বাংলা মদ বিক্রি করে না।
আবার রোদ।
গ্রীনরোডের দোকান বন্ধ। এক বোতলে এতগুলা পোলাপানের হবে না।তখনই আরেকটা বিদেশী কিনলে ভাল হতো।
মগবাজারের দোকানটাও দোতলায়। সিড়িতে সিগারেটের তীব্র গন্ধ। মদের দোকানে সিগারেটের গন্ধ কেমন বেমানান মনে হয় আমার কাছে। মদের দোকানে থাকবে মদের গন্ধ। ভুড়ভুড়ে নয়,এলকোহলের মিষ্টি গন্ধ। আমি সিগারেট খাই না। বমি আসে। একারনেই হয়তোবা আমার ভাল লাগে না।
যে লোকটা দোকানে ছিল সে বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছে। আমার হাতে হ্যাভারসেক। ভেতরে অন্য দোকানের মাল। লোকটা গন্ধ পেয়ে গেছে নাকি।
এখানেও কেরু নেই। রাম পাওয়া গেল। ফালতু জিনিস। তবে বোতলটা সুন্দর। কিনে ব্যাগে ভরার সময় দুই বোতলে ঠোক্কর খাওয়ার শব্দ হলো। লোকটার চোখে চোখ পড়তেই দেখি সে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। থাক ব্যাটা। কার কি।
জিগাতলা ফিরতে ফিরতে সন্ধা। চারদিকে অন্ধকার। কারেন্ট চলে গেছে।
হাতড়ে হাতড়ে সিড়ি বেয়ে মেসবাড়িটার ছয়তলায় উঠা। এই তলায় এখনও কাজ চলছে। একটাই ঘর। বাকী অংশে নতুন ছাদ উঠছে। বাঁশ, কাঠ, ইট বালুর স্তুপ। হিসু পেলে এখানেই ছেড়ে দেয়া। সুব্যবস্থাই বলা যায়। ঝামেলা কম। আর অন্যটার জন্য পাঁচতলার বাথরুম। গোসলের জন্যও তাই।
খাবার নিচ থেকে আসে।
মোমবাতির আলোতে কটা মুখ দেখা যায়, বাকীগুলো জলন্ত সিগারেটের আড়ালে পড়ে থাকে।
মেঝেতে মোমটা ঘিরে অমল, বশির, হাদু (গুরু) আর সুমনের (সাধু) হাতে তাস।
নিয়াজ, রনি (ভাবিস্ট) আর কমল চৌকিতে শুয়ে বসা। ওখানে কোনায় কিছুটা জমাট বাধা আঁধার।
পাশে চার বোতল স্প্রাইটের বোতল, কয়েকটা গ্লাস, আর পলিথিন ব্যাগে হয়তো চানাচুড়। সেরকমই কথা ছিল।
সবাই আমাদের ঢুকতে দেখে ঘুরে তাকায়। ব্যাগটা খালি চেয়ারটায় রাখতেই এক হাতে তাস নিয়ে সাধু ডান পা দোলাতে দোলাতে আমাদের দিকে চেয়ে বলে উঠে, খবর খারাপ রে। কালকে তুলির বিয়া।
চট করে নিয়াজের মুখের দিকে তাকাই। ঘরের কোনায় জমে থাকা অন্ধকার এখন নিয়াজের মুখ ঢেকে রাখে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০০৭ দুপুর ২:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



