আচ্ছা কেউ কি বলবেন ৭১ এর সেই জাতীয় পতাকাটা এখনও বাংলাদেশের পতাকা আছে কিনা? ওটার সাথে কি কোনই আবেগ জড়িত নেই? সব আবেগ জাতীয় সংগীতের সাথে? পতাকা পরিবর্তনে কিছূ হলো না, জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের কথা বললেই দেশ বিরোধি হয়ে গেল? আপনাদের কি মনে পড়েনা সেই যে পতাকাটির কথা যার মাঝের গোল বৃত্তের মধ্যে খোদাই করা বাংলাদেশের মানচিত্র। মুক্তিযোদ্ধারা সেই পতাকার দিকে তাকিয়েই তো একটি স্বাধীন আবাসভূমির স্বপ্ন দেখতেন। কত স্মৃতি, কত আবেগ, অশ্রুসজল কত কাহিনী সেই পতাকার সাথে জড়িয়ে আছে।
কিন্তু সময়ের আবর্তনে সে পতাকা পরিবর্তিত হয়েছে। আজকের পতাকার মাঝে সেই মানচিত্রটি আর নেই। তাতে কি দেশের ক্ষতি হয়ে গেল? স্বাধীনতার চেতনা কি বিনষ্ট হলো? কাউকে তো বলতে শুনিনি কখোনো! তাহলে সময়ের বিবর্তনে যদি জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের কথা ওঠে, আরো সুন্দর জাতীয় সংগীতের প্রস্তাব আসে তাতে স্বাধীনতার চেতনা বিরোধি হবার কি থাকতে পারে? যে কোন সাধারণ মানুষের মনেই এ একই প্রশ্ন। পৃথিবীর অনেক দেশেই জাতীয় সংগীত পরিবর্তিত হয়েছে। আমাদেরটাতে এমন হৈ চৈ কেন?
কারণ অবশ্যই আছে, অনেক গভীর কারণ নিহিত। যতটুকু আন্দাজ করতে পারছি, বুঝতে পারছি, জানতে পেরেছি, বলবো সে কথা?
আসলে সকল উত্তেজনার মাঝে, শংকার মাঝে নিহিত রয়েছেন আমাদের কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। স্বাধীনতাকালীন বাংলাদেশের সেই মানচিত্র খোদাই করা পতাকাটির ডিজাইনার যদি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হতেন তাহলে আন্দাজ করি সে পতাকা পরিবর্তনেও হৈ চৈ হতো, চিৎকার হতো।
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক দর্শনে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক বিশাল ফ্যাক্টর। রবীন্দ্রনাথ এদেশের একটি গোষ্ঠির নিকট অনেকটা পুজনীয়। রবীন্দ্র সংগীত অনেকের নিকট ইবাদত স্বরূপ। রবীন্দ্রনাথ অনেকের নিকট ভক্তিশ্রদ্ধার চুড়ান্ত নমস্য। বাংলাদেশের ইসলামী দর্শন ও ইসলামী সংস্কৃতির বিরোধিতার জন্য রবীন্দ্রনাথ একটি গোষ্ঠির জন্য দেবতা ও আশির্বাদ। এদেশের ইতিহাস হাজার বছরের ইতিহাস। এদেশের সাধারণ মানুষ জাত-পাত আর বর্ণ বৈষম্যে যখন নিষ্পেষিত ঠিক তখনই তাদের মাঝে সাম্যের বারতা নিয়ে আসে ইসলাম। সাধারণ মানুষগুলো মুহুর্তেই ইসলামকে, ইসলামী সংস্কৃতিকে নিজেদের আত্নার সংস্কৃতি হিসেবে চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করে নিলেন। সেই শুরু আর পেছনে ফেরা নয়। নাস্তিক্যবাদী আর পৌত্তলিক গোষ্ঠি বারংবার সে সাম্য সংস্কৃতি এদেশের মানুষের মন থেকে ভুলিয়ে দিতে চেয়েছে। অংশীবাদী সংস্কৃতির ধারকরা ইসলামী সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যখন যা পেয়েছে আকাড়ে ধরেছে। বর্তমানে তারা রবীন্দ্রনাথকে জড়িয়ে ধরেই বাংলাদেশে সে অংশীবাদী সংস্কৃতির জোয়ার আনার চেষ্টায় রত। অতএব, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের কাছে একজন বিশ্বকবি, বাংলা সাহিত্যের একজন সম্পদ বিবেচিত হলেও অংশীবাদি সংস্কৃতির ধারকদের জন্য রবীন্দ্রনাথ আরো অনেক কিছূ । অতএব বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের কথা বললে এ গোষ্ঠির কোথায় আঘাতটা লাগে তা সহজেই অনুমেয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


