somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গোল চেয়ার [১]

২৫ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভদ্রলোককে আমার নামটা বলতেই এমনভাবে আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন যে আমি ভয়ই পেয়ে গেলাম।ফারুক আমার নাম;খুবই সাধারণ নাম,অনেকেরই আছে।তবু তিনি আমার দিকে কিছুক্ষণ হা করে তাকিয়ে বললেন,"আসুন"।
ঘটনাটা দুই দিন আগের।ভাড়া নেবার জন্য নতুন বাসা খু্ঁজতে গিয়েই এই বিপত্তি।বাড়িওয়ালা লোকটার মুরুব্বী ধরণের ভালমানুষ চেহারা।প্রথমে আমার নাম জিজ্ঞাসা করেই তো থতমত খেলেন।তারপর রুম দেখাতে নিয়ে গেলেন।
আমি একা মানুষ।লেখালেখি করি।দুই রুমের ছোট্ট ফ্লাট টা পছন্দ হয়ে গেল।বাসাটা নিয়ে নিলাম।কিন্তু বাড়িওয়ালা যেন কিছু বলতে চাইছিলেন।তারপর বলেই ফেললেন,"আসলে.....মানে ঐযে চেয়ারটা"।ঘরের কোনে একটা চেয়ার রাখা ছিল।ভেবেছিলাম হয়ত উনাদের চেয়ার,আমি উঠার সময় সরিয়ে নেবেন।বললাম,"তো?" "ও..ওটা অভিশপ্ত!''
আমার অবাক দৃষ্টি উপেক্ষা করে উনি আমার হাত ধরে টেনে উনাদের ঘরে নিয়ে গেলেন।তারপর শুরুকরলেন এক আষাঢ়ে গল্প [অন্তত তখন তাই মনে হয়েছিল],''বারো বছর ধরে ঐ ফ্লাটে এক ভদ্রলোক থাকতেন।ফারুক সাহেব।চেয়ারটা তার খুব প্রিয় ছিল।কিন্তু দুই বছর আগে তিনি গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।আশ্চর্য হল চেয়ারটা কোনমতেই ঐ ঘর থেকে বের করা যাচ্ছে না।প্রথম যেবার বের করতে গেলাম,তখনই আমার ছেলেটা সিড়ি থেকে পড়ে গেল।পরেরবার আমার স্ত্রীর হাত পুড়ে গেল।তারপর আমি আর চেষ্টা করিনি।আপনার আগে এক ভাড়াটে ছিল।চেয়ারটা ঘরে রাখতে রাজি করিয়েছিলাম।কিন্তু একের পর এক দুর্ঘটনায় সে থাকতে পারেনি।আপনার নামও ফারুক শুনে অবাক হয়েছিলাম।এখন আপনিই সিদ্ধান্ত নিন কী করবেন।'
আজ সকালে বাড়িটাতে উঠেছি।এখনও পর্যন্ত কোন ঝামেলা করেনি।আবশ্য আআমিও চেয়ারটা সরানোর কোন চেষ্টা করিনি।বলতে কি আমার খানিকটা কৌতুহলই হচ্ছে চেয়ারটার ব্যাপারে।তবে আমার অ্যালার্ম ঘড়িটা পাচ্ছিনা।স্পষ্ট মনে আছে ঘড়িটা সাথে নিয়ে এসেছি।যাকগে কালকের জন্য অনেক কাজ পড়ে আছে।তাই তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম।
কানফাটা অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভেঙে গেল।চোখ না খুলেই অ্যালার্ম বন্ধ করলাম।পরক্ষণেই লাফ দিয়ে উঠ বসলাম।ঘড়িটা খাটের পাশে রহস্যময় চেয়ারটার উপর।চট করে দরজার দিকে তাকালাম।বন্ধ।আমি যে অ্যালার্ম দিই নি এটা শিওর।তাহলে কে দিল?চেয়ারটাই বা কি করে এল?ঘড়িটাই বা কি করে...............।
হঠাৎ করেই আমার কেমন যেন শীত শীত লাগছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:১১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×