ভাবিয়াছিলাম এবার ঈদে কোথাও বাহির হইব না।সারাদিন ঘরে থাকিব আর আমার প্রিয় ল্যাপটপটাকে সময় দিব।ফাঁকে ফাঁকে আম্মাজানকে কাজে সাহায্য করিব।আম্মাজানকে এ কথা কহিতেই একগাল হাসিয়া কহিলেন,'' আর রঙ্গ করিওনা।প্রতিবারই এইরূপ বলিয়ে থাক''।ইহা বলিয়া নিজ কার্যে মনোনিবেশ করিলেন।মনে মনে বলিলাম,''সময় হইলেই দেখাইয়া দিব''।
তো প্রভাতে ঘুম থেকে উঠিয়াই মন ঈদের পুলকে পুলকিত হইয়া উঠিল।সকাল ১০ঘটিকা পর্যন্ত পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সব চলিতেছিল।হঠাৎ মুঠোফোন বাজিয়া উঠিল।ফোনের ওপাশ হইতে প্রাণপ্রিয় বান্ধবী প্রবল উৎসাহে কহিল,''আসিতেছ তো?''একথা শুনিয়া আঁতকিয়া উঠিলাম।প্রবল আপত্তির মুখে সে ক্ষান্ত দিল।ভাবিলাম,যাক্ ফাঁড়া কাটিয়াছে।কিনতু তখনো বুঝিতে পারিনাই কি ফন্দি সে আটিয়াছে।সে আর আমার অপর কয়জন নিকটতম সখী মিলিয়া আমাকে ফোনে ব্যতিব্যস্ত করিয়া তুলিল।শেষে ঘন্টা দেড়েক পর আমার আর ঘরে মন টিকিল না।
তারপর আর কি,নারীসমাজের ঐতিহ্য অনুসারের রূপচর্চায় মনোনিবেশ করিলাম।আম্মা আড়ালে মিটিমিটি হাসিতেছেন দেখিয়াও তা অগ্রাহ্য করিতেই হইল।আধঘন্টা পর চক্ষুলজ্জার মাথা খাইয়া বাহির হইলাম!
পথিমধ্যে পরিচিত কতজনের সাথে যে দেখা হইল তা আর কি বলিব।তাহাদের কারো কারো সাজপোশাক দেখে আমি ভিরমি খাইলাম,কেহ কেহ আবার আমারটা দেখিয়াও ভিরমি খাইল।
তবে সে যাই হোক দিনটা কাটিল খাসা।আমরা কয় সখীতে মিলিয়া কত কি যে মজা করিলাম তা আর বলিব।উচ্ছ্বাসে হৃদয় পূর্ণ হইয়া উঠল ; হাসিতে হাসিতে পেটে খিল ধরিয়া গেল।দিনটা যে কিভাবে উড়িয়া গেল তা বড় ঠাওর করে উঠতে পারলুম নে।গোধূলি লগ্নে ওদেরকে পরদিন আসিবার নেমন্তন্ন করিয়া বিদায় নিলাম।উহারা কথা দিল আসিবে।
বাড়ি ফিরিয়া মুদ্রার অপর পিঠ স্পষ্ট দেখিলাম।সারাদিনের ক্লান্তির ফলস্বরূপ প্রচন্ড মাথাব্যথা শুরু হইল।বাড়িতে মেহমান আসিয়া কত মজা করিল।মাথাযন্ত্রণার দাপটে আমার কিছুই ভালো লাগিল না।
ঘাট হয়েছে বাবা,এই কান মলছি,পরের ঈদে আর বাহির হইব না,তার চেয়ে বরং আমার ল্যাপটপটাকে সময় দিব আর লক্ষী মেয়ের মত আম্মাজানকে সাহায্য করিব..............!!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

