একদম আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লিখছি।ঘটনা দুটি খুবই তিক্ত আর সেই সাথে ভীষণ লজ্জাজনক।
ঘটনা১:
আমি আর আমার ছোট ভাই রিকশায় করে বাসায় ফিরছিলাম।হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে একটা মিছিল আসতে দেখা গেল।আকারটা বেশ বড়ই বলতে হবে।সরকারী দলের মিছিল।রিকশাওয়ালা রিকশাটাকে একটু পাশে দাঁড় করালেন।মিছিলটা আমাদের ক্রস করে যাচ্ছিল।তো মিছিলের প্রথমদিকে বেশ কজন ভদ্র চেহারার লোকজন।তারা তাদের মত চলে গেল।কিনতু পেছনের দিকের লোকগুলো মোটেও সেরকম ছিলনা।তাদের বেশীর ভাগের বয়সই হয়ত ১৭ থেকে ২০ হবে।আমাদের পার হবার সময় আমাদের দিকে তাকাচ্ছিল।বলা বাহুল্য তাদের দৃষ্টিটা মোটেও শোভন ছিলনা।শিষের শব্দ আর সস্তা বাংলা গানের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম।একজনতো আমার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলেই বসল,''তুমি নেমে আস,আমি উঠে বসি''।আমি মাথা উচু করতে পারছিলাম না আর আমার ভাইয়ের মুখ লাল।কোন প্রতিবাদ সেদিন আমি করতে পারিনি।
ঘটনা২:
অন্য একদিনের ঘটনা।কোচিং থেকে ফিরছিলাম।পথে আবারো এক মিছিল আমার রিকশার মুখোমুখি।আবারো একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।একজনতো কারণ ছাড়াই রিকশার হুডে জোরে একটা ধাক্কা দিয়ে বসল।আশেপাশে অনেকেই ছিলেন।কেউ ভীষণ বিরক্তি নিয়ে ওদের দিকে তাকালেন।কারো চোখে আমার জন্য সহানুভূতিও ছিল।কিন্তু কেউ কোন প্রতিবাদ করেননি।হয়তো বা ঝামেলা করতে চাননি।তাদের দোষ দিতে পারিনা।আমি নিজেই যে নিশ্চুপ ছিলাম।কারণটাও যে একই।
নিশ্চয় আমার মত অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে।সরকার ইভটিজিং এর বিরুদ্ধে বিশাল! আন্দোলন করছে।কিন্তু তাদেরই দলীয় কেউ নিজেই এই অপরাধ করছে।আমার মনে হয়না ইভটিজিং এর বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপ কোন কাজে আসবে।সর্ষে দিয়ে ভূত তাড়ানো যায় কিন্তু ভূতটা যদি সর্ষেরই ভেতরই থাকে,তখন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

