এই গল্পের শুরু যখন হয়েছিল,তখন আমার জন্ম হয়নি।আর কবে শেষ হবে তাও জানিনা।
৮-৯ বছর আগেকার কথা।আমাদের বাসায় যে মহিলা কাজ করতেন তার একটা মেয়ে ছিল।নাম আদুরী। আমার থেকে তিন-চার বছরের বড়।মার সাথে আমাদের বাসায় আসত।আমাকে আপু বলে ডাকত।মাঝে মাঝে ওর সাথে আমি খেলা করতাম।
এরপর আমি যখন ক্লাস থ্রির বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্ট আনতে গেলাম,ও তখন শ্বশুরবাড়ি চলে গেল।(মানে ওর বিয়ে হয়ে গেল।)
এরপর আমি যখন ক্লাস ফোরের বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে ফিরে এলাম তখন ও ওর মেয়ে নিয়ে বাপের বাড়ি বেড়াতে এল।মেয়ের নাম লিজা।সম্পর্কে আমার ভাগ্নি।
আমি যখন ফাইভের বৃত্তির রেজাল্ট নিয়ে ফিরে এলাম আদুরী ওর ছেলে নিয়ে বাপের বাড়ি বেড়াতে এল।
এখন আদুরী এখানে থাকে।রিকশাওয়ালা বরের ইনকাম ভালো না।ছোট দুটো বাচ্চা নিয়েও চার পা্ঁচ বাড়ি কাজ করে।আমাদের বাসায়ও করে।ও এখন অনেক ব্যস্ত।
সামনে আমার এস.এস.সি. পরীক্ষা।স্কুল-কোচিং-টিউটর মিলে লেজেগোবরে অবস্থা।আমিও এখন মহা ব্যস্ত।
সেদিন আম্মু আদুরীকে বলছিলেন,''লিজা পড়াশোনা কেমন পারে?'' আদুরী উত্তর দিল,''গরীব মাইনষের মাইয়া আর কিরকম পারব?''।আম্মু বললেন,
''লেখাপড়া না ভাল করে না শিখলে হবে?''উত্তর এল,''কি আর হবে?সিক-স্যাবেনে(সিক্স সেভেন) উঠলি বিয়া দিয়ে দিতে হবে।''
অর্থাৎ আমি যখন ফিজিক্স পড়ছি,তখন আদুরী মেয়ের বিয়ের চিন্তা করছে।
আমার খেলার সাথী আদুরী আর এখনকার আদুরীকে ঠিক মেলাতে পারিনা।তবে ওকে বোঝাতে চেয়েছিলাম যাতে ওর মেয়ের বিয়ে যেন অত তাড়াতাড়ি না দেয়।ও বুঝল না।বলল,''আমরা গরীব মানুষ,মাইয়া ঘরে পুষতে নাই।বয়স চৌদ্দ-পুনারো হলিই বিয়া দিয়ে দিব।''
লিজার বয়স যখন চৌদ্দ হবে তখনও আমার আব্বুআম্মু আমার বিয়ের কথা ভাববে কিনা জানিনা।কিন্তু লিজার বিয়ে হয়ে যাবে।বছর ঘুরতেই ওর একটা ছেলে বা মেয়ে হবে।আমি সম্পর্কে সেই পিচ্চির নানী হব।
বাচ্চাদের সাথে আমার খুব ভাব হয়ে যায়।
''আইজকা আমার নানীর বিয়া''
শুনেছি জেনারেশন টু জেনারেশন স্ট্যাটাস আপগ্রেড হয়।কথাটা আমার জন্য ঠিক।আমার বড় আপুর এই বয়সে পারসোনাল মোবাইল ছিল,আমার আছে পারসোনাল ল্যাপটপ।আমার সন্তানের হয়ত একটা পারসোনাল রোবটই থাকবে!
কিন্তু আদুরী,লিজা ওদের স্ট্যাটাসতো একই জায়গায় থেমে রয়েছে।
এভাবে আর কতদিন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

