somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প - প্রতিশোধ

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কিছু গল্পে কখনো কখনো অপূর্ণতাই স্থান পায়, কখনো হারিয়ে যায় কিংবা কখনো কাছে থেকেও বহুদূর রয়ে যায়।
গল্পের চরিত্রগুলো কখনো কখনো জন্মদেয় নতুন কোন গল্পের আবার কেউ সেই পুরানো গল্পেই মজে থাকে আমৃত্যু।
কাঁকতালীয় ভাবে যদি কখনো চরিত্রগুলোর মুখোমুখি হতে হয় তখন দুজনার ভিতরকার অনভূতি কেমন হয় তা শুধু দুজনেই অনুভব করে। ইচ্ছে হয় তখন প্রকাশ পেয়ে যাক সকল অনুভূতি, কিন্তু রাগ অভিমান আর ইগোকে প্রাধান্য দিয়ে মানুষ এড়িয়ে যায় তার গল্পের মূল চরিত্রকে।
গল্পটাই এমনই এক গল্প, যে গল্প পায়নি পূর্ণতা, অপূর্ণতাই টানতে হয়েছিল যবনিকা। গল্পটা একটি ভেঙ্গে যাওয়া ভালোবাসার গল্পকে ঘিরে, দুই পৃথিবী দূরত্বে বাস করা দুজন মানুষকে নিয়েই বিচ্ছেদে বেড়ে উঠা দূরত্বে হঠাৎ কাঁকতালীয় ভাবে দুটি মানুষের দেখা হয়ে উঠা অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মূহুর্তে।
যান্ত্রিকতার শহরেই আজকাল বসবাস আমার, ব্যস্ত নিজের স্বপ্নকে ঘিরে। বড় হওয়ার সেই স্বপ্ন। ব্যর্থতার গ্লানি পার করে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি আবার, এখন লক্ষ্য একটাই - বড় হতে হবে আমাকে।
শহরে স্বপ্নরা ঘুরে, মানুষ স্বপ্নের টানে ছুটে আসে যান্ত্রিকতার এই শহরে। কমলাপুর রেলওয়ে, সদরঘাট লঞ্চ ঘাট আর সায়েদাবাদ, গাবতলী, বাস স্ট্যান্ডে ঘুরলেই দেখা মিলে সহস্রাধিক মানুষ প্রতিদিনই শহরে পা রাখে তাদের সৃষ্ট করা স্বপ্নের টানে। এই শহর জাদুর শহর । সব জাতের মানুষেরই বসবাস এই শহরে । রাত গভীরে রাস্তায় বেরুলে দেখা মিলে অবহেলিত শ্রেণীর মানুষজনের। আবার বড় হোটেল রেস্টুরেন্টে এ গেলে দেখা যায় অভিজাত শ্রেণীর মানুষদের। বৈচিত্র্যতায় ভরপুর এই শহর।
শহরের আরেক শ্রেণীর নিরিহ মানুষ বাস করে যাদেরকে আমরা ব্যাচেলর বলে চিনি। বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে সবকিছুতেই বৈষম্যের শিকার এই শ্রেণীর মানুষ। যদিও আমি নিজেও একজন ব্যাচেলর। কখনো কখনো আমাদের ডিনার হয়ে থাকে একপিস রুটি আর এক কাপ চায়। কখনো বা একশলাকা গোল্ডলিফ কিংবা বেনসন সিগারেটে।
যান্ত্রিকতার এই শহরে যখন হাপিয়ে যাই আমরা তখন একটু শান্তির খোঁজে পা রাখি মফস্বলের ছোট্ট গ্রামে। যে গ্রামে জন্ম , বেড়ে উঠা সহ জীবনের একটি পর্বের সকল স্মৃতিই বিজড়িত। সবার মত আমিও শান্তির খোঁজে গ্রামে এসেছিলাম বহুদিন পর।
গ্রামে আজকাল সবই যেন বদলে গেছে, সবাই ব্যস্ত যে যাকে নিয়ে । সময় কাটাতে বন্ধুর দোকানে গিয়ে আড্ডা দেওয়া ছাড়া কোন অপশন হাতে ছিল না।
মেডিসিন এর ব্যাবসা বন্ধুর, সকালের দিকেই তার দোকানে গিয়ে বসলাম। সুঃখ দুঃখের গল্প আরো কত কি.!
সেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করায় বিভিন্ন ফাউন্ডেশন থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার টের্নিং নিছিলাম। কিন্তু কে জানে, এই ট্রেনিংই স্পর্শ করতে দিবে হারিয়ে যাওয়া কোন এক প্রিয়জনকে। সে মানুষটিকেই, যাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছিল এক কাব্যিক জগৎএর এবং জন্মেছিল হাজারো কবিতারা।
ভালোবাসার সৃষ্টি তাকে ঘিরেই, আমার জীবনের প্রথম মানবী, সেই'ই যাকে ভালোবেসেছিলাম, যাকে ঘিরেই স্বপ্ন বুনেছিলাম সাজানো একটি পৃথিবীর ।

বন্ধুর মেডিসিন দোকানে বসে বন্ধুকে সাহায্য করেছিলাম, বেশ কয়েকজনকেই বিপি চেক করে দিছিলাম। এরপর খেয়াল করলাম বোরকা পরিহিতা তিনজন নারী এবং দশ-বারো বছরের একটি বাচ্চা ছেলে আসলো।
তিন নারীর মাঝে সবচেয়ে কমবয়সী যে জন তার বাম হাত দিয়ে রক্ত গড়াচ্ছে। বাচ্চা ছেলেটিকে দেখে আমার চিনতে বাকী রইলো না এরা কারা. ?
প্রথমবার যখন বাচ্চাটির আমার দেখা হয়েছিল তাও প্রায় বছর পাঁচেক আগে। সেবার তাকে কনফেকশনারি নিয়ে কিছু কিনে দেওয়ার সময় বাচ্চাটি বলেছিল - আমি জানি, তুই আমার দুলাভাই, নাদিয়া তোকে বিয়ে করবে। আমাকে আর কিছু কিনে দিতে হবে না। তুই সুন্দর আছোস, তোরে আমার পছন্দ হইছে। তুই না ভালা, আর কিছু কিনে দিস না দুলাভাই।
বাচ্চাটির কথায় সেদিন হেসেছিলাম এবং কনফেকশনারিতে থাকা সকলেও হেসেছিল।
নাদিয়ার সাথে তখন আমার সম্পর্ক ছিল, ভালোবাসতাম দুজন দুজনকে। কিন্তু আজ, দুজানার বাস দুই পৃথিবীতে ।
তামিম আমাকে দেখে বলে তাহমিদ ভাইয়া আপনি.? তামিম বাচ্চা ছেলেটির নাম, অনেকে তামি বলেও ডাকে। নাদিয়ার একমাত্র ছোট ভাই। এবার সম্ভবত প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা দিবে।
আর তাহমিদ.?
আমিই তাহমিদ, চার বছর আগেকার নাদিয়ার তাহমিদ। এখনো নাদিয়ার হয়েই রয়ে গেছি । যদিও নাদিয়া এখন আর তাহমিদের নেই।
মফস্বলে বোরকা পরে বের হওয়াটাই রীতি, রীতি অনুসারে তারাও বোরকা পরেই এসেছিল। সবচেয়ে বয়স্ক যিনি তিনি বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে বললেন - কেউ নাই আর.?
বন্ধু বললো - কি লাগবে.?
তামিম এর মাঝেই উঠে বললো - নাদিয়া আপু বাম হাত কেটে ফেলছে ব্যান্ডেজ করতে হবে।
বন্ধু বললো - দেখি. ?
দ্বিতীয়জন নাদিয়ার বা হাত সামনে এনে দেখালো।
একি.? ব্লেড এ কাটা দাগ.? নাদিয়া সত্যিই অন্যের হয়ে গেছে.? স্মৃতিপটেও নেই বুঝি আর আমি। কারো বিরহে রাগ করে হাতও কাটে বুঝি আজকাল।
ব্লেড দিয়ে হাত কাটা আজকালকার তরুণ-তরুণীদের স্বভাব হয়ে দাড়িয়েছে। অল্প কিছুতেই ব্লেড দিয়ে হাত কেটে নেয় । হাত কাটা কিংবা সুইসাইডাল সিদ্ধান্তগুলো যে, কোন সমস্যার সমাধান দেয় ঠিক না। তবুও মানুষ ভুলগুলো করে থাকে। এরজন্য কে দায়ী নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। একটা উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীর সাথে তার পরিবারের মধ্যকার গ্যাপটাই এর জন্য বাহ্যিক ভাবে দায়ী । পরিবার বুঝতে চায় না তার সন্তানকে, চাপিয়ে দেয় নিজেদের নেয়া কোন সিদ্ধান্ত অথচ বুঝতে চায় না তার সন্তান কি চায়. ?

নাদিয়া তখনো হিজাব খুলে নাই, চোখের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলাম তার চোখে ভাসমান ভয় আর লজ্জার আবছায়া। কি যেন লুকাতে চেষ্টা করছে ।
হাতে সর্বোমোট ৭টা দাগ, ভীষণ কষ্ট পেয়েছে হয়তো নাদিয়া। কষ্টের শোধ নিতে নিজেকেই বলি দেওয়ার চেষ্টা।
বন্ধু জানতো আমার আর নাদিয়ার অপূর্ণ গল্পটা, এবং বন্ধু এটাও জানে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ নেওয়া আমি।
বন্ধু বললো - তাহমিদ তুই ভিতরের রুমে গিয়ে ড্রেসিং করে ব্যান্ডেজ করে দে আমি সামনের দিকে দেখছি।
নাদিয়াদের ভিতরের রুমে পাঠিয়ে দিলাম, এবং ড্রেসিং এর সুবিধার্থে নাদিয়ার বড় বোন মারিয়াকে বললাম- আপু ওর বোরকাটা খুলে দিন তাতে ড্রেসিং এ সুবিধা হবে। আর বোরকা খোলার পর আমাকে ডাকবেন। আমি সামনেই অপেক্ষা করছি।
তিন নারীর মাঝে একজনের পরিচয় তো পেয়েই গেছেন - নাদিয়া আমার প্রাক্তন, দ্বিতীয় জন মারিয়া ওর বড় বোন, আর তৃতীয় জন নাদিয়ার আম্মু ।
ভিতর থেকে তামিম আমাকে ডেকে বললো - তাহমিদ ভাইয়া, আপনাকে ডাকে ।
আমি ড্রেসিং এর সরঞ্জামাদি নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে দেখি নাদিয়া কাঁদছে। এই কান্না কেন তার.? কাটা ক্ষতের ব্যাথায়.? নাকি পুরানো কোন স্মৃতি মনে পড়ায় ..?

আমি কখনো ভাবিনি, এভাবে আমাদের দেখা হবে। নাদিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে আমি নিজেকে সামলাতে পারছিলাম না। ভালোবাসার মানুষটা এভাবে কষ্ট পাচ্ছে।
নাদিয়া লজ্জা পাচ্ছে আমার সামনে, কিন্তু কি আর করার ড্রেসিং করে ব্যান্ডেজ তো করতে হবে।
নাদিয়ার হাত স্পর্শ করে প্রথমেই কাটা জায়গাগুলো পরিস্কার করতে লাগলাম।
এরই মাঝে তামিম বলে উঠলো - ভাইয়া আপনি কি এখন আর আপুর সাথে কথা বলেন না.? আপনাকে কতদিন পর দেখলাম।
- তামিম চুপ করবি তুই.? একটু রাগান্বিত স্বরে এই প্রথম নাদিয়া কথা বলে উঠলো।
- হাত নাড়াবে না, ব্যাথা পাবে।
- আপনি আমার হাত ধরবেন না.?
- হাত না ধরতে পারলে তো ড্রেসিং করতে পারবো না।
- ড্রেসিং করা লাগবে না
- ড্রেসিং না করলে ইনফেকশন হয়ে যাবে
- হয়ে যাক ! আপনার কি..? মরলে আমি মরবো আপনার তো কিছু আসে যায় না।
আন্টি এতোক্ষণ নীরবতা ভেঙ্গে বললেন - চুপ করবি তুই নাদিয়া..? উনাকে উনার কাজ করতে দে।

আন্টি হয়তো চিনেন না আমাকে, না চিনার ও কথা একবারই দেখেছিলেন নাদিয়ার সাথে রিলেশন থাকা কালীন অবস্থায়।
আন্টির কথাতেও নাদিয়া থামলো না। আমাকে উদ্দেশ্য করেই বললো - আপনাকে বলছি না আমার হাত ধরবেন না.? তারপরও কেন ধরছেন.?
ইগোতে লাগলো বিষয়টা, কিন্তু মানুষটা ছিল ভালোবাসা ইগো বিসর্জন দেওয়াটাই শ্রেয়।
ড্রেসিং শেষে ব্যান্ডোজ করে দিলাম, নাদিয়ার দিকে তাকাতে পারছিলাম না। অনুভূতি গুলো আবার নাড়া দিয়ে উঠে।
রাগান্বিত অবস্থা নাদিয়ার চেহারা লাল হয়ে যায়, আর এই রাগান্বিত চেহারা দেখার জন্যই বারবার রাগাতাম ওরে।
নাদিয়া কাঁদছে। আন্টিকে সামনে পাঠালাম বন্ধুর নিকট মেডিসিন নিতে। আর মারিয়া আপু আগে থেকেই সামনে ছিল।
জিজ্ঞেস করলাম - কি হয়েছে.?
- কিছুনা
- নিঃসংকোচে বলতে পারো, আমার নিকট তোমার অবস্থান এখনো আগের মতই রয়েছে হয়তো কখনো এর কমতি হবে না।
- সরি
- সরি কেন.?
- সেদিন এর জন্য, সেদিন যদি দেখা করতাম তাহলে দূরত্বটা আর এভাবে বাড়তো না
- আমি চেষ্টা করেছিলাম তোমাকে ফিরাতে কিন্তু তুমি তো ফিরতে চাও নাই
- অপরাধবোধ কাজ করেছিল, যদি আপনি প্রতিশোধ নেন সেই ভয়ে আর ফিরতে চাইনি।
- হাত কাটলা কেন.?
- এমনিতেই
- আচ্ছা
- যদি ফিরতে চাই গ্রহন করবেন.?
- জানিনা

এরই মাঝে বন্ধু ডাক দিলো - মেডিসিন গুলো দেখিয়ে বললো আর কিছু দিতে হবে.?
আমি বললাম - ডাক্তার না আমি
নাদিয়াও বেরিয়ে সামনে আসলো, নাদিয়াকে দেখিয়েই ওয়ালেট থেকে আমার ভিজিটিং কার্ড বের করে ওর ঔষধের ব্যাগে রাখলাম।

নাদিয়াদের প্রস্থানের পর বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে বললাম - ব্রেকাপের পর প্রাক্তন সুন্দর হয়ে যায়।
বন্ধু বললো - মামা এখন কি খাওয়াবা তা বলো. ?
আমি - দূর শালা, মনে হয় যেন আমি বিয়ে করছি।
বন্ধুর দোকান থেকে সন্ধ্যার পর'ই চলে আসি। সারাক্ষণ চোখে ভাসমান নাদিয়ার রক্তবর্ণ চেহারা, আর চেহারার মাঝে লুকায়িত সরলতা।
আমি এখনো অপেক্ষা করি তার জন্য কিন্তু সে কি ফিরবে আর আমার মাঝে.??

রাত পৌনে নয়টা, অপরিচিত একটা নাম্বার থেকে ইনকামিং কল, রিসিভ করতে পারি নাই । পুনরায় একই নাম্বার থেকে কল আসলো এবার রিসিভ করলাম।
ওপাশ থেকে ভেসে আসলো - হ্যালো
আমি - জ্বী বলুন
- চিনতে পেরেছেন ..?
- নাহ ভয়েসটা চিনা মনে হয় কিন্তু চিনতে পারি নাই
- নাদিয়া
- সরি, আসলে তোমার ভয়েস টোন চেঞ্জ হয়া গেছে
- হয়তো
- হাতের কি অবস্থা এখন .? মেডিসিন নিসো..?
- হ্যাঁ, আর হাতের অবস্থা ভালোই। আপনার কি অবস্থা?
- যাচ্ছে ভালোই, গুঁছিয়ে নিয়েছি নিজেকে
- পেরেছেন কি গোঁছাতে.?
- সময় সব কিছু শিখিয়ে দেয়
- হইছে
- হুমম
- যদি ফিরতে চাই গ্রহন করবেন.?
- কারো জায়গা এখনো খালি হয় নাই বা অন্য কেউ দখলে নেয় নাই
- ক্ষমা করতে পারবেন আমাকে.? এতকিছুর পরেও
- ক্ষমা না করার অধিকারটুকু নেই
- যদি ফিরিয়ে দিতে চাই.?
- হয়তো গ্রহন করবো
- বিয়ে করবেন আমাকে.?
- চেয়েছিলাম তো সুন্দর একটি পৃথিবী সাজাতে কিন্তু তুমিই তো চলে গেলে
- ক্ষমা করে দিন না সবকিছু, আমি সত্যিই আপানাকে বিয়ের প্রপোজাল দিচ্ছি । বিয়ে করবেন আমাকে.?
- আমার ক্যারিয়ার..?
- পালিয়ে করবো বিয়ে কেউ জানতে পারবে না, আর হারাতে চাই না আপনাকে । প্লিজ আপনার সিদ্ধান্ত জানান। আমাকে ফিরিয়ে দিবেন না। দ
- যদি বলি এখনই বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে, পারবে.?
- আপনি একবার বলেই দেখুন না হয়
ভাবতে লাগলাম কি সিদ্ধান্ত নিবো আমি. ? ক্যারিয়ার এর চিন্তা করবো.? নাকি হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার ফিরে আসাটা গ্রহন করবো.?
সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম সর্বশেষে। এটাই সুযোগ, সুতারং সুযোগ হাতছাড়া করা চলবেনা।

নাদিয়াকে কনফার্ম করে নির্দিষ্ট একটি স্থানে দাড়াতে বললাম। কিছু সময় পর আমিও নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে পৌঁছুলাম। রাত তখন প্রায় দশটা আশেপাশে মানুষজনের আনাগোনা। দ্রুততার সহিত সিনএনজিতে উঠে সোজা লঞ্চ ঘাট। গন্তব্য ঢাকায়। বাই রোড যেতে চাইনি কেননা সমস্যা হলেও হতে পারে নৌ-পথই নিরাপদ।
লঞ্চ ঘাটে পৌঁছে দেখি একটা লঞ্চই ছাড়ার বাকী। দ্রুত নাদিয়া সহ উঠে গেলাম লঞ্চে। যাত্রী কম থাকায় কেবিন পেতে বেগ পোহাতে হয় নি। দো-তলায় জানালার পাশে কেবিন। দুজনে গিয়ে কেবিনে বসলাম। সারারাস্তায় দুজনে চুপ ছিলাম। এতক্ষণে নাদিয়া মুখ খুললো
- সরি, আমি যদি ঐ দিন এমন না করতাম তাহলে আপনার লাইফের উপর দিয়ে এতো ঝড় যেতো না। বিশ্বাস করেন আমি ইচ্ছে করি নাই এমন, আমাকে বাধ্য করা হইছে।
- বাদ দাও এসব বিষয়, তোমার জন্য আমার দরজা সর্বদাই খোলা।
- ভালোবাসেন এখনো.?
- যদি নাই ভালোবাসতাম তাহলে এখন দুজন একত্রে থাকতাম না।
- ভালোবাসি বলে নাদিয়া কান্নারত অবস্থা আমার বক্ষে মুখ লুকাতে চাইলো।
আমি নাদিয়ার পিঠে হাত দিয়ে কপালে একটা চুমু খেয়ে বললাম - এই পাগলী কাঁদো কেনো.? আমি তো আছি তোমার সাথে। ভালোবাসি তোমাকে।
নাদিয়া আমার চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে আছে, তার তাকানোটা নেশা ধরিয়ে দিচ্ছে মনে। এভাবে তাকালে কি ঠিক থাকা যায়.?
নেশায় মত্ত আমি, এভাবে আর কিছুক্ষণ চলতে থাকলে খুন হয়ে যাবো আমি। আর টিকে থাকতে পারলাম না কাছে টেনে এনেই ওষ্ঠযুগলে চুমু খেতে লাগলাম, দেখলাম নাদিয়াও ভালো রেসপন্স করছে। নারীর ঠোঁটে যে এত মধু আগে জানতাম না। দুনিয়ার সর্বোচ্চ সুখ যেন নারীর দু ঠোটের মাঝেই লুকায়িত। ঠৌঁট থেকে ঠোঁট সরিয়ে ঘাড়ে চুমু খেলাম, সেখানে চুলের গন্ধ আমাকে আরো মাতাল করে দিচ্ছে।
নারীর মাঝে এমন কিছু লুকিয়ে আছে, যা পারে একজন পুরুষকে পুরাপুরি বদলে দিতে।
ঘাড়ে চুমু দেওয়ায় নাদিয়া কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠলো। শুনেছিলাম নারীর ঘাড়ে নাকি হরমোনের প্রভাব বেশি থাকে। ঘাড় থেকে সরে আবার ঠোঁটের মাঝে ফিরে আসলাম, কেননা এই ঠোঁটেই রয়েছে অমৃত। নাদিয়া আঁকড়ে ধরে আছে আমাকে। আকস্মিক হাত টেনে নিয়ে গেল তার বক্ষদেশে। এই প্রথম কারো বক্ষস্পর্শ করা। সু-উচ্চ দুটি নরম মাংস পিন্ড।
নাদিয়া ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল আমায় এবং উন্মুক্ত করে নিল তার দেহ।
নারী এতটাই সুন্দর হতে পারে, সৃষ্টি কর্তার সৃষ্টি সত্যিই অপরূপ। এতসুন্দর করে সাজিয়েছেন একজন নারীকে। উন্মুক্ত দেহ সামনে দেখে আর নিজেকে কন্ট্রোল করার ক্ষমতা আর ছিল না।

নাদিয়া বিশ্বাস ঘাতকতা করলো আমার সাথে.? তারজীবনে প্রথম পুরুষ আমি না। আমার আগেও অন্য পুরুষের সঙ্গে। নাহ মানতে পারছি না আমি। কিভাবে পারলো সে, আমি ভালোবাসতাম তাকে কিন্তু আমার ভালোবাসার অবমূল্যায়ন করতে পারলো সে.? রাগ চটে গেছে মাথায়। কিভাবে পারলো এমন করতে সে. ?
নাহ, নাদিয়াকে বুঝতে দেওয়া যাবে না, আমি যে জেনে গেছি। কিন্তু আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা.? এর ফল নাদিয়াকে পেতেই হবে। অনেক কাঁদিয়েছে আমাকে, অনেক খেলেছে আমার জীবন নিয়ে।
ভিতরকার সত্ত্বা জেগে উঠে বলে - তাহমিদ আজই সময় সকল হিসেব নিকাশ মিটিয়েনে। দুনিয়া থেকে সরিয়ে দে এসব বিশ্বাস ঘাতকদের।
নাদিয়াকে আমি সরিয়ে দিবো দুনিয়া থেকে, আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতার ফল তাকে পেতেই হবে। নাদিয়ার সাথে আবার রোমাঞ্চে মেতে উঠলাম, চিরন্তন সুখের পাশাপাশি বক্ষের মাংসপিন্ড দুটি থেকে হাত সরিয়ে ক্রমান্বয়ে গলার দিকে নিয়ে গেলাম। অন্তিম সুখের ইতি ঘটার পূর্বেই নাদিয়ার হৃদস্পন্দন থেমে গেল । চটফট করেও রেহাই পায়নি সে। বিশ্বাসঘাতকার ফল তাকে পেতে হয়েছে। আমি সব হিসেব- নিকেশ মিটিয়ে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললাম - হ্যাঁ, আজ তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি বিশ্বাসঘাতকার প্রতিশোধ নিজ হাতেই নিয়েছি।
নাদিয়ার নিথর দেহ পড়ে রয়েছে উন্মুক্ত হয়ে, কপালে একটা চুমু খেয়ে বললাম ভালোবাসি কিন্তু তুমি আমার ভালোবাসার মূল্য দাওনি, তুমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছো এবং তার ফল পেয়েছো, আমাকেও ক্ষমা করে দিও।
যান্ত্রিকতার শহরে আবার ব্যস্ত হয়ে পড়লাম নিজেকে নিয়ে, কোন কিছুই মাথায় নেই আর। দুদিন পর পত্রিকার পাতায় হঠাৎ চোখ পড়লো - “ধলেশ্বরী তীরে অজ্ঞাত তরুণীর লাশ উদ্ধার ” ।

#চাইরচোখ
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফেবু ই জীবন, ফেবু ই মরন!!!!!!!!!!!!

লিখেছেন সোহানী, ২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৮:৪৯



অফিসে রীতিমত দৈাড়রে উপর আছি এমন সময় মেসেন্জারে ফোন। সাধারনত মেসেন্জারে তার উপর অফিস টাইমে ফোন পেলে একটু টেনশানে ভুগী কারন দেশের সবাই রাতে বা উইকএন্ডে ফোন দেয়, দুপুরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রত্যাশা

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ১১:০১



আজকের দিনটায় —মন ভালো হোক
রবির আলোয় উদ্ভাসিত হোক— চারিদিক
আজকের দিনটায় কবিতা হোক
তোমার রংতুলিতে রঙধনু সাতরঙ আঁকা হোক
দুঃখ ভোলা খামখেয়ালিতে—উৎফুল্লচিত্তে,
আজকের দিনটা মন ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তিনকাল

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ১১:৩৬



সবাই জানেন, আমাদের দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে বেশ অনেকগুলো। স্বাভাবিকভাবেই তাতে শিক্ষকরাও আছেন; অবশ্যই শিক্ষা দানের জন্য। আর হল আছে ছাত্র ছাত্রীদেরকে আবাসিক সুবিধা দানের জন্য এবং ম্যানার শেখানোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ থাকি আমি চুপ থাকি... হই না প্রতিবাদী

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৩



©কাজী ফাতেমা ছবি
--------------------------
অবাক চোখে দেখে গেলাম
এই দুনিয়ার রঙ্গ
ন্যায়ের প্রতীক মানুষগুলো
নীতি করে ভঙ্গ।

বুকের বামে ন্যায়ের তিলক
মনে পোষে অন্যায়
ভাসে মানুষ ভাসে শুধু
নিজ স্বার্থেরই বন্যায়।

কোথায় আছে ন্যায় আর নীতি
কোথায় শুদ্ধ মানুষ
উড়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভোলায় ৪ জনের মৃত্যু, ৬ দফা দাবী নিয়ে ভাবুন

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৪:৩০



ভোলায়, ফেইসবুকে নবী (স: )'কে গালি দেয়া হয়েছে; এই কাজ কি ফেইবুকের আইডির মালিক নিজে করেছে, নাকি হ্যাকার করেছে, সেটা আগামী ২/৪ দিনের মাঝে পুলিশের বিশেষজ্ঞ টিম ফেইসবুকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×