
ইসমাঈল মৃধা বাসার সামনের বারান্দায় পায়চারী করছে। তৈয়বটা গেছে সেই কোন সময় এখনো আসার নাম নাই। তার আর তর সইছে না! সেই কবে থেকে আজকের রাতটার কথা সে চিন্তা করে রাখছে। আমেনার স্বামী চলে যাওয়ার পরপরই সে তার কাজ চালিয়ে গেছে। উপকারতো কম করে নাই! গ্রামের ভাল দোকানে সেলাইএর কাজ মিলায়ে না দিলে কি করতো? বাজারের নটি বেটি হইত। কিন্তু তারপরো এতদিন গড়িমসি কইরা আসছে, কোন ভাবেই ধরতে পারতেছিল না। আইজকা সুযোগ পাওয়া গেছে, না আইলে কাজতো যাবেই গ্রামও ছাড়া করবে তারে। দুরের হালকা টুংটাং শব্দে মাথা আরো গরম হইতাছে, এই পাগলগুলার আর কাম নাই, রাইতবিরাইতে গানাবাজনা!
তৈয়বটা গাছপালার মধ্যে থাইকা বাইর হইয়া আসলো, একা!
ওস্তাদ তারে খুইজা পাইতেসি না, মনে হয় ভাগছে।
কি কস? যাইব কই? মরজিনার ঘরে দেখছস?
হ দেখছি। নাই।
চিন্তা আরো বেরে গেল। রাতের বেলাতো খোঁজ নিতে বের হতে পারবেনা সে। সবাই সন্দেহ করবে।
কি করা যায় সেই চিন্তা করতে লাগল।
এরমধ্যে তাফাদার দুই তিনজন লইয়া ছুটতে ছুটতে আসলো।
চাচা আরকতো সহ্য করুম? আপনে কিছু একটা করেন?
কি হইছে?
বাউলগুলা আসর বসাইছে। মাইয়া মানুষ লইয়া ফুর্তি করতাছে! গ্রামের মানইজ্জততো গেল।
মৃধার ক্ষুধার্ত শরীরের গরম মাথা আরো গরম হয়ে গেল।
চল তোরা দেখি, আমরা কি মইরা গেছি নাকি? বাইচা থাকতে এইরকম কাম হইতে দিমু না। পাশের বাড়ির মোসলেম আর গফুরগো খবর দে।
বাড়ির উঠানে আগুন জ্বালায়ে গোল হয়ে বসছে গ্রামের টিকেথাকা শেষ বাউল দল। আজ ভরা পূর্ণিমা, সারা রাত একমনে গান গাইবে তারা। গান গাইতে গাইতে চলে যেতে চাইবে স্বর্গের কাছাকাছি কোন একজায়গাতে। পাকা চুলদাড়ি আর সাদা পোশাকের সাথে চাঁদের গঁলে পরা আলো। নুয়েপরা শরীর, ভাঙ্গা গলায়, বাঁশের পুরানো একতারা গুলো বাজিয়ে স্বপ্নপুরীর দরজাটাকে নাড়াবে। ঘুম ভাঙ্গাবে আজ অদৃশ্যলোকের জোনাকিদের।
হঠাৎ করে তফাদার আর তার লোকজন ঝাঁপিয়ে পড়লো আধোজাগরিত মানুষগুলোর উপর আর মৃধা পিছনে দাড়ায়ে রইল।
তারপরের গল্প আমি জানিনা। আপনারা কি জানেন? তবে পরেরটুকু আমরা সাম্প্রতিক কোন ঘটনার সাথে মিলিয়ে গল্পটা শেষ করতে পারি।
আসবার কালে কি জাত ছিলে
এসে তুমি কি জাত নিলে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

