somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হেমন্তের বিকেল

১৪ ই নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময় ঠিক বিকেল ৪:৩০;
অফিস বন্ধ থাকায় আরাম করে বসেছি নস্টালজিয়ায় ভোগার জন্য। কিছুক্ষন নরম রোদ আর ফুরফুরে বাতাস গায়ে মাখাবো আর কিছু আগোছালো চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাওয়াবো। মজাটা নেয়া শুরু করার সাথে সাথে আশানরূপ ভাবে বাতাসে মিষ্টি গন্ধ পাচ্ছি। এইটা যে আসলে কিসের গন্ধ সেটা ভাবতে মননিবেশ করলাম। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে ঘাস মারালে যে রকম ঠিক সেই রকম, আবার মনে হচ্ছে ধান কাটার পরে বেশ কিছুদিন যাওয়ার পরে মাঝের আঁইল ধরে হেটে গেলে যে গন্ধটা পাওয়া যায় সেটাই প্রকৃতি কোন এক ভাবে নিজের মধ্যে নিয়ে ঘুরে বেরাচ্ছে আর একটু পরপর নিজের ভাণ্ডার খুলে আমাদের জন্য কিছুটা দিয়ে যাচ্ছে। আবার মনে হচ্ছে আরে না এইটাতো আগে এই সময়ে ক্রিকেট খেলার পরে সারা হাতেপায়ে ধূলা নিয়ে যখন ক্লান্ত হয়ে বসতাম তখন তরতাজা করার জন্য এই ঘ্রাণ চলে আসতো।
সেটা যাই হোক না কেন এইটা আসলে আমার ছোটবেলার নানা বাড়ির গ্রাঁমের ঘ্রাঁণ।
সেদিন কই যেন পড়লাম ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক এর কারনে ধিরে ধিরে চড়ুই সমাজ নাকি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, এরপরে মন কিছুটা বিষণ্ণ হয়ে গেলেও এখন চনমনে লাগছে কারন আমার আশেপাশে শতখানেক চড়ুই দিনশেষে নিজেদের সাথে খুনসটিতে ব্যাস্ত আছে। যদিও অনেক আগে এইরকম এক বিকেলে বড়ভাই এর সাথে শিকারে যেয়ে ১১টা চড়ুই আর ৫টা সাদা বক মেরেছিলাম, সেই জন্যে মনে মনে তাদের নাতিপুতিদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলাম। আগেনা আমাদের ওখানে প্রচুর চড়ুই ছিল, বাড়ির দরজাতে একটা ধানের মিল, রোজ সকালে তারা ধান শুঁকাতে দিত আর কোত্থেকে অনেক চড়ুই আর কিছু কবুতর ওই ধান খেতে চলে আসতো আর আমরা ওঁত পেতে থাকতাম কি করে একটা কবুতর ধরা যায়। এখন আর ওই ধানের মিলটা নেই, ওটাকে পরে আমার বাবাজান সরিষা তেলের মিল বানালো আর এখন সব বন্ধ, পরে হয়তো চাহিদা মোতাবেক অন্যকিছু করা হবে।
বিকেল প্রায় শেষ, মাথার উপরে কতগুলা চিল উড়ছে শেষ রোদটুকু শুষে নেয়ার জন্য। পোলাপানগুলা খেলা শেষে ক্লান্ত হয়ে ঘরের দিকে হাঁটা দিছে। এদিকে হালকা কুঁয়াশা মন খারাপ করে এলোমেলো ভাবে লেপটে আছে চারিদিকে, শীত আসে নাই বলে তারা এখনো জমে উঠতে পারেনি। অবশেষে প্রকৃতি দর্শন আজকের মত এখনে শেষ করলাম, যাই নিচে যেয়ে গরম এক কাপ চা খাই......

হেমন্তের পাড়ে বসে দেখছি আমি আজ
কি করে ধুলায় লুটায় স্বর্ণালি ঐ সাঁজ।

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৩:২৮
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×