কিন্তু ময়মনসিংহ জেলায় ভালুকা উপজেলার কাদিগড় গ্রামের এই ভণ্ড, নারী লোভী , প্রতারক ''ফরিদ আলী'' ''ওরফে ''ফরিদ পাগলা'' নিজেকে অলৌকিক শক্তির অধিকারী দাবী করে কত রকম ভণ্ডামি যে করে যাচ্ছে তাঁর কোন শেষ নেই ।
কথিত অলৌকিক শক্তির অধিকারী দাবী করে সর্ব রোগের চিকিৎসা এবং সব সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার নাম করে রাতের অন্ধকারে পবিত্র রমজান মাসে সুন্দরী মেয়ে অথবা নারীদের সাথে চিকিৎসার নাম করে নিজের ঘরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে রাতভর অসামাজিক কার্যকলাপ, মেয়ে ছেলে একসাথে নিয়ে বাতি নিবিয়ে বুকের উড়না ছাড়া গান বাজনার সাথে অশ্লীল নৃত্য, চিকিৎসার নাম করে শত মানুষের সামনে মহিলাদের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া, উপস্থিত শত শত মানুষের সামনে পবিত্র রমজান মাসেও ধূমপান করা, ইসলাম ধর্ম নিয়ে বাজে মন্তব্য করা, মামলা জিতিয়ে দেওয়া অথবা মামলা শেষ করে দেওয়ার নাম করে গোপনে টাকা নেওয়া, রোগ সারানোর কথা বলে শিরনীর মাধ্যমে টাকা নেওয়া সহ নানা ধরনের অপকর্ম করে যাচ্ছে এই ভণ্ড, প্রতারক, নারী লোভী ''ফরিদ আলী'' ওরফে ''ফরিদ পাগলা'' ওরফে ''মহান নগদ পাগলা ।
ফরিদ পাগলার এইসব অপকর্ম ফাঁস করে দিয়েছে ভালুকার একমাত্র অনলাইন পত্রিকা ভালুকা ডট কম । বিস্তারিত জানতে নিচের লিংকটি ক্লিক করুন ।
Click This Link
অলৌকিক শক্তিধর, ভণ্ড, প্রতারক ‘’ফরিদ পাগলার’’ চাঞ্চল্যকর সব কুকীর্তির তথ্য ফাঁস
ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের কাদিগড় গ্রামের এক অলৌকিক শক্তিধর ভণ্ড, প্রতারক, নারী লোভী, কথিত চিকিৎসক ‘’ফরিদ পাগলার’’ চাঞ্চল্যকর সব কুকীর্তির তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন তাঁর এক জাকের (অনুসারী)! তাঁর নাম মোঃ সফিক (২৮), সে একই উপজেলার পালগাঁও গ্রামের সমেশ আলীর পুত্র ।
চিকিৎসার নাম করে সুন্দরী মেয়েদের সাথে রাত কাটানো, বাতি নিভিয়ে বুকের কাপড় ফেলে গান বাজনার তালে তালে নারী – পুরুষের এক সাথে নাচানাচি, মামলায় জিতিয়ে দেওয়া অথবা মামালা থেকে খালাস করে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া, চিকিৎসার নাম করে গোপনে টাকা নেওয়া সহ এই ভণ্ড, প্রতারক, নারী লোভী ‘’ফরিদ পাগলা’’ সম্পর্কে এরকম অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য ভালুকা ডট কমের কাছে প্রকাশ করেছেন তিনি ।
সফিকের বর্ণনা মতে এই ভণ্ড, প্রতারক, নারী লোভী ‘’ফরিদ পাগলার’’ আস্তানার চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য বের হয়ে এসেছে । এমন একটি চাঞ্চল্যকর অডিও টেপ এখন ভালুকা ডট কম এর হাতে । জানা যায়, এই সফিক প্রায় নয় মাস যাবত ফরিদ পাগলার সাথে থেকে তাঁর হয়ে কাজ করেছেন । অনেক কিছুই খুব কাছে থেকে দেখেছেন এবং জেনেছেন । মানুষকে ‘’নগদ’’ চিকিৎসা দেবার নাম করে ''ফরিদ পাগলা'' যেভাবে মানুষকে প্রতারিত করছেন এবং টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তা স্বীকার করেছেন তিনি । আর ফরিদ পাগলা বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেবার নাম করে যে ‘’শিরনীর’’ কথা বলত তা রোগীদের উপর জোর করে চাপিয়ে দেয়া হত বলেও জানান তিনি । ‘’শিরনী’’ না দিলে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হবে বলেও রোগীদের ভয় দেখানো হত । এতে করে রোগীরা ভয়ে তাঁর আস্তানায় আসা বন্ধ করে দিত নয়ত কেও কেও ‘’শিরনী’’ সহ টাকা দিয়ে যেত । তিনি বলেন, একবার যে রোগী তার কাছে আসতো পরের বার তাঁদের অনেকেই আর তাঁর কাছে আসতনা ।
গত ৭ আগস্ট সাপে কাটার পর ‘’ফরিদ পাগলার’’ ভুয়া চিকিৎসা নিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে ভুল ভাঙ্গে তাঁর । তাঁর ভুল চিকিৎসার খবর এলাকায় জানা জানি হলে তাঁর গ্রামের দুই থেকে তিন শতাধিক লোকজন কথিত চিকিৎসক, ভণ্ড, প্রতারক ‘’ফরিদ পাগলাকে’’ গত ৯ আগস্ট পালগাঁও চৌরাস্তা নামক স্থানে অবরুদ্ধ করে ।
সফিক জানান, চিকিৎসার নাম করে রাতের অন্ধকারে নারী লোভী ‘’ফরিদ পাগলা’’ প্রায়ই বিভিন্ন মহিলা ও সুন্দরী মেয়েদের সাথে অবৈধ ভাবে রাত্রি যাপন করে আসছেন। তিনি বলেন, রাত হলেই তাঁর ঘরে তিন থেকে চার জন মেয়ে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করত ফরিদ পাগলা । তাঁর পর রাত একটু গভীর হলেই ঘরের দরজা বন্ধ করে দিত সে। ভোর হওয়ার আগ পর্যন্ত ঘরের দরজা বন্ধ করে কথিত চিকিৎসার নাম করে চলত অসামাজিক কার্যকলাপ । এই সময় ঐ ঘরের আসে পাশে অন্য কোন লোক এমনকি ফরিদ পাগলার স্ত্রীও যাতে না যেতে পারে তাঁর জন্য সতর্ক পাহারায় থাকত তাঁর চার থেকে পাঁচজন অনুসারী । ঘরের ভিতরে ছাড়াও বাইরে একটি চালা ঘরে মাঝে মধ্যে প্রায় শ' খানেক মহিলা রাতের বেলা থাকত বলেও জানান তিনি ।
রাত কাটানোর পর ‘’ফরিদ পাগলার’’ ব্যাবহৃত কাঁথা ধৌত করত তাঁরই স্ত্রী মতি।মহিলাদের সাথে রাত কাটনোর পর কাঁথায় মহিলাদের পস্রাব পাওয়া যেত এমন কথা ফরিদ পাগলার স্ত্রীর বরাদ দিয়ে জানিছেন সফিক । ফরিদ পাগলা যে রাতের অন্ধকারে অবৈধ অসামাজিক কার্যকলাপ করত তাঁর প্রমান পাওয়া যায় ফরিদ পাগলার স্ত্রীর কথায় । ফরিদ পাগলার স্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে সফিক এই প্রতিবেদক কে বলেন , ‘’এই সব মহিলারা কি কাঁথায় এমনি এমনি প্রস্রাব করে? ঠ্যালায় প্রস্রাব করে !’’
ফরিদ পাগলার স্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে সফিক আরও বলেন, ‘’ও(ফরিদ পাগলা) যেসব কাম করে এলাকার মানুষ যদি তা জানতে পারে তাহলে মানুষ আমগরে বাইড়াইয়া ( পিটিয়ে) মাইরা ফালাইব ।‘’
সফিক বলেন, মামলায় জিতিয়ে দেবার কথা বলে অথবা মামলা থেকে নাম কাটার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিত এই ফরিদ পাগলা । তাঁর কাছে মোটর সাইকেলে করে বিভিন্ন জায়গা থেকে কোন রোগী বা সমস্যাগ্রস্থ কেও আসলে তাঁদের নাম পরিচয় গোপন রেখে সাংবাদিক বা পুলিশের লোক বলে এলাকার মানুষের কাছে জাহির করত যাতে কেও বুঝতে না পারে । অন্য একটি সুত্র জানিয়েছে, প্রেম ঘটিত বা অন্যের বউ বাগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও ফরিদ পাগলা মানুষের কাছ থেকে টাকা পয়সা নিত ।
তাঁর অদ্ভুত চিকিৎসার ধরন দেখতে তাঁর আস্তানায় প্রতিদিন প্রায় কয়েকশত উৎসুক মানুষ ভীড় জমত । ‘’মহিলাদের শত শত মানুষের সামনে তল পেটে হাত দিয়ে, নাভিতে হাত দেওয়া সহ বিভিন্ন স্পরশকাতর স্থানে হাত দিয়ে চিকিৎসার নাম করে ভণ্ডামি করত এই ফরিদ পাগলা’’, বলেন সফিক ।
সফিক আরও বলেন, ফরিদ পাগলার এই সব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তাঁর স্ত্রীকেও সে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করত ।
সফিকের দেওয়া এই সব কথার সত্যতা স্বীকার করেছেন কাদিগড় গ্রামের রফিকুল ইসলাম হীরা খাঁন । তিনি বলেন, চিকিৎসার নাম করে ফরিদ পাগলা যে অসামাজিক কাজ করছে সফিকের কথায় তা প্রমান হয়ে গেল । তিনি সহ তাঁর গ্রামের অনেকেই ফরিদ পাগলার এই সব অপকর্ম এবং প্রতারনার সুষ্ঠু বিচার চান বলে এই প্রতিবেদক কে জানিয়েছেন।
কোন চিকিৎসা সনদ না থাকার পরও বেশ দাপটের সঙ্গে গত এক মাসেরও বেশী সময় যাবত এলাকার এবং দূরের হাজার হাজার মানুষের সাথে ‘’ফুঁ’’ দিয়ে চিকিৎসার নাম করে প্রতারনা করে আসছে ভালুকার বহুল আলোচিত এই ‘’ফরিদ পাগলা’’. শুধু চিকিৎসা নয় ধর্ম নিয়ে অপব্যাখ্যা সহ বেশ কিছুদিন যাবত তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ তোলে আসছে এলাকাবাসী । দিনে দুপুরে শত শত মানুষের সামনে ধূমপান, নারী পুরুষদের তাঁর পায়ে ধরে দোয়া নেওয়া, এবং সেজদা করা, রাতে বাতি নিভিয়ে একপাশে বুকের কাপড় রেখে মেয়ে নিয়ে গান বাজনা করা প্রভৃতি ধর্ম বিরোধী কাজ এলাকার শত শত ধর্ম ভীরু মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করে আসছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী ।
সুত্র জানায়, অলৌকিক কিছু পেয়েছেন দাবী করে প্রায় মাস খানেক আগে প্রথমে এলাকার এবং আশে পাশের গ্রামের মানুষকে ডায়বেটিস, কিডনি সমস্যা, প্যারালাইসিস, হাঁপানি, বাতে ব্যথা, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা, জিনে ধরা সহ পুরুষ ও মহিলাদের বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা ‘’ফুঁ’’ দিয়ে এবং চড়, থাপ্পড় দিয়ে ''নগদ'' চিকিৎসার নাম করে এলাকায় রীতিমত চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন এই ফরিদ পাগলা । তাঁর পর ধীরে ধীরে তাঁর এই অলৌকিক শক্তির কথা দূর দুরান্তে ছড়িয়ে পড়লে ফরিদ পাগলার বাড়িতে শত শত মানুষের ঢল নামে ।
চিকিৎসার সাথে সাথে রোগী সুস্থ হয়ে উঠেন দাবী করে নিজের নাম ‘’ফরিদ আলী’’ থেকে প্রথমে ‘’ফরিদ পাগলা’’ তারপর হয়ে যান ‘’মহান নগদ পাগলা’’ ।
চিকিৎসাবিদ্যা না জেনে এভাবে চিকিৎসা দেওয়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে সম্পূর্ণ প্রতারনার শামিল । এতে করে যে কোন সময় যে কারও বড় ধরনের ক্ষতি এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে বলে জানান তাঁরা । ডিজিটাল যুগে ফরিদ পাগলার মত একজন চিকিৎসক সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিনে ভুয়া চিকিৎসা দিয়ে প্রতারনা করা, মেয়েদের ব্যাবহার করে অসামাজিক কাজ করা এবং সর্বোপরি ভালুকার প্রশাসনের নীরব ভূমিকা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে ।
অভাব অনটনের সংসারে ''ফরিদ আলী'' ওরফে ''ফরিদ পাগলা'' বেশ কয়েক বছর যাবত ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হকারি এবং জমির দালালি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে । তাঁর গ্রামের এবং আশে পাশের গ্রামের অনেক সাধারন মানুষ ফরিদ পাগলাকে ‘’ভণ্ড’’,‘’প্রতারক’’ ‘’চরিত্রহীন’’ আখ্যায়িত করে এই ভণ্ডামি এবং প্রতারনা বন্ধে ভালুকার প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



