১. ফেসবুক মন্ত্রী
২. টক শো মন্ত্রী
৩. পদ্মা সেতু মন্ত্রী
৪. ছাত্রলীগ মন্ত্রী
৫. এমএলএম মন্ত্রী
ফেসবুক মন্ত্রী
দেশে ফেসবুকে যেভাবে আমাদের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে লেখা হয়, তাঁদের ব্যঙ্গ করে কার্টুনসহ আপত্তিকর অনেক মন্তব্য ইদানীং ফেসবুকে দেখা যায়, এতে নেতা-নেত্রীদের সম্মানহানি হয়। ফেসবুক যেহেতু একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইট, তাই এটা নিষিদ্ধও করা যাবে না। তা হলে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো পার্থক্য থাকবে না। আবার এই সরকারের স্লোগান ছিল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। তাই এই সংকট নিরসনে একজনকে ‘ফেসবুক মন্ত্রী’ করা যেতে পারে। সেই মন্ত্রীর কাজ হবে, সারা দিন ফেসবুকে বসে বসে নজরদারি করা। কেউ ফেসবুকে কোনো মন্ত্রী বা সরকারের বিপক্ষে কিছু কমেন্টস বা স্ট্যাটাস দিলেই, ঘপাস্! পালাবি কোথায়?
টক শো মন্ত্রী
বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো যে হারে এখন টক শো নিয়ে ব্যস্ত, আর সেসব টক শোতে যেসব সুশীল সমাজের লোকেরা সরকারের বারোটা বাজান, সবাই যেন একেকজন বুদ্ধিজীবীর বংশধর! এসব টক শো নিয়ন্ত্রণে একজন ‘টক শো মন্ত্রী’ এখন খুবই দরকার। কোন চ্যানেলে, কোন টক শোতে, কোন সুশীল কী বলছেন, তা নোট করে একটা ব্যবস্থা নেওয়াই হবে টক শো মন্ত্রীর প্রধান কাজ। টক শো কিন্তু বন্ধ হবে না। তবে সেখানে কী বিষয়ে এবং কে কী বলবেন, তা আগে টক শো মন্ত্রী থেকে পাস করিয়ে আনতে হতে পারে।
পদ্মা সেতু মন্ত্রী
পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক কাহিনি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও হবে। আর পদ্মা সেতু যদিও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে, তার পরও দেখা গেছে অর্থমন্ত্রীকে পদ্মা সেতু নিয়ে আবোলতাবোল কথা বলে সরকারকে বিব্রত করতে। তাই শুধু পদ্মা সেতুর জন্য একজন মন্ত্রী থাকা প্রয়োজন। ‘পদ্মা সেতু মন্ত্রী’র প্রধান এবং একমাত্র কাজই হবে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার সঙ্গে লিয়াজোঁ রক্ষা করা এবং পদ্মা সেতুর তদারক করা। তিনিই কেবল পদ্মা সেতু বিষয়ে কথা বলবেন, অন্য কোনো মন্ত্রী নন।
ছাত্রলীগ মন্ত্রী
ইদানীং ছাত্রলীগ যে রকম মারমুখী, তাতে এই সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে! সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তারা খাতা-কলমের পরিবর্তে লাঠি আর বন্দুক নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। বিরোধী দল হলেই, দে মাইর! এদের কন্ট্রোল করা না গেলে সামনের নির্বাচনে নির্ঘাত ভরাডুবি। তাই ছাত্রলীগকে সামলানোর জন্য একজন ‘ছাত্রলীগ মন্ত্রী’ অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। তাতে ছাত্রলীগের ছাত্রনেতারাও একজন অভিভাবক পাবেন, যাঁর কাছে তাঁরা সরাসরি কিছু দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করতে পারবেন। আর ছাত্রলীগ মন্ত্রীও ছাত্রলীগকে কমান্ড দিতে পারবেন—কাকে পেটাতে হবে আর কাকে নয়।
এমএলএম মন্ত্রী
দেশের মানুষের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কয়েকটি এমএলএম কোম্পানি, সরকার টেরই পায়নি! এটা কিছু হলো? এত এত টাকা লেনদেন হয়ে গেল, আর সরকার কিছুই পেল না! নাহ্, ডেসটিনি, ইউনিপেটুইউ, স্পিক এশিয়া, ডোলেন্সারসহ ব্যাঙের ছাতার মতো কত শত এমএলএম কোম্পানি গজিয়ে দেশের টাকা হাতিয়ে নিল, এদের দেখভাল করার মতো কোনো মন্ত্রী থাকলে এই দুরবস্থা হতো না। তাই ‘এমএলএম মন্ত্রী’ করা এখন অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে ডেসটিনির মতো অর্থ কেলেঙ্কারি থেকে দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব থাকবে এমএলএম মন্ত্রী মহোদয়ের হাতে। (প্রথম আলো)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



