দেশের তিনটি সার কারখানার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ১৩ জন কর্মকর্তা কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে দেশ ছাড়ছিলেন। বেশি বেতনের লোভে সরকারি নিয়ম অমান্য করে ‘আলজেরিয়া-ওমান ফার্টিলাইজার কারখানায়’ চাকরি নিয়েছেন তাঁরা। নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে আলজেরিয়ার উদ্দেশে রওনা হলে ধরা পড়েন তাঁরা। পাসপোর্ট জব্দ করে তাঁদের অবশ্য ছেড়ে দেওয়া হয়।
গতকাল শনিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাতার এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজ থেকে আটক করা হয় তাঁদের। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিমানবন্দরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দারা তাঁদের আটক করে।
বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, জামালপুরের যমুনা সার কারখানা, নরসিংদীর ঘোড়াশাল সার কারখানা ও চট্টগ্রামের ইউরিয়া সার কারখানার ১৩ জন কর্মকর্তা গতকাল সকাল আটটায় কাতার এয়ারের কিউআর-০৩৪৫ ফ্লাইটে ওঠার পর তাঁদের নামিয়ে আনা হয়। সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় গোপন করে নতুন পাসপোর্ট নিয়ে তাঁরা দোহা হয়ে আলজিয়ার্সে যাচ্ছিলেন। এই কর্মকর্তারা সার কারখানা কর্তৃপক্ষকে কিছু না জানিয়ে আলজেরিয়া-ওমান সার কারখানায় চাকরি নিয়েছেন।
জানা গেছে, মোট ৫৪ জন কর্মকর্তা ওই কারখানায় চাকরি নিয়েছেন। প্রথম পর্যায়ে ১৩ জন আলজেরিয়ায় যাচ্ছিলেন। বাংলাদেশে আলজেরিয়ার কোনো দূতাবাস না থাকায় তাঁরা পাকিস্তান থেকে ভিসা নিয়েছেন।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তা বিদেশে যাওয়ার আগে তাঁকে সরকারি অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু ওই ৫৪ কর্মকর্তার কেউই এ নিয়ম মানেননি। অসুস্থতাজনিত ও নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে তাঁরা বিদেশে কর্মস্থলে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘোড়াশাল ইউরিয়া সার কারখানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ওই কারখানার তিন কর্মকর্তা বিভিন্ন মেয়াদে ছুটি নিয়ে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিদেশে যাচ্ছিলেন।
এই কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ঘোড়াশাল সার কারখানার ব্যাগিং বিভাগের সহকারী কেমিস্ট নুরুল ইসলাম, উপসহকারী কেমিস্ট সুকুমার পাল ও মাস্টার অপারেটর মামুন কবির; যমুনা সার কারখানার ইউটিলিটি বিভাগের সুলতান নাসিরউদ্দিন, অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টের উৎপাদন কর্মকর্তা এ মান্নান, মাস্টার অপারেটর আজিজুর রহমান, ইউটিলিটি বিভাগের মাস্টার অপারেটর আসাদুজ্জামান মিঞা, মাহতাব উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান ও চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানার সাধন দত্ত। দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন কারখানারটির সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমানে ওমান ফার্টিলাইজার কারখানায় কর্মরত আইনুল হক।
সাধন দত্ত এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, এর আগে এভাবে অনেকেই বিদেশে গেছেন। তিনি গত জানুয়ারি থেকে লিয়েনে আছেন। লিয়েনে থাকা অবস্থায় বিদেশে চাকরি নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয় কি না, তা ঠিকমতো জানেন না উল্লেখ করে সাধন দত্ত বলেন, কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে যা ব্যবস্থা নেবে, তিনি তা মেনে নেবেন।
যমুনা সার কারখানার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক অচিন্ত কুমার দে প্রথম আলোকে বলেন, বিমানবন্দরে আটক হওয়া কর্মকর্তারা কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটি নেননি। বিদেশে যাওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ পেলে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সার কারখানাগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশনের (বিসিআইসি) কর্মচারী প্রধান (চিফ অব পারসোনেল) তপন কুমার দে প্রথম আলোকে বলেন, বিমানবন্দর বা সরকারি অন্য কোনো বিভাগ থেকে এখনো এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে চাকরি বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



