somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জাদিদ
তুমি আমার রাতবন্দিনী। ধূসর স্বপ্নের অমসৃণ সুউচ্চ দেয়াল তুলে তোমাকে আমি বন্দী করেছি আমার প্রিয় কালোর রাজত্বে। ঘুটঘুটে কালোর এই রাজত্বে কোন আলো নেই। তোমার চোখ থেকে বের হওয়া তীব্র আলো, আমার হৃদয়ে প্রতিফলিত হয়ে সৃষ্টি করে এক অপার্থিব জ্যোৎস্না।

যাপিত জীবন কড়চা ১০: ঢাকাইয়া চাইনিজ।

০২ রা অক্টোবর, ২০২০ রাত ২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অসুস্থ থাকায় আমার স্ত্রীর মুখে স্বাদ নাই, রুচি নাই। এই অবস্থায় মাঝে মাঝে তার নানা ধরনের অদ্ভুত জিনিস খাইতে ইচ্ছে করে এবং কিনে আনার পর যথারীতি দুই এক চামচের বেশি সে খাইতে পারে না। ফলে আমাকেই সেই সব জিনিস খাইতে হয়। কারন আমার স্ত্রী খাবারের অপচয় একদম পছন্দ করেন না।

আমার স্ত্রীর খেতে চাওয়া জিনিসপত্র এতটাই অদ্ভুত যে মাঝে মাঝে আমি ভয় পাই, কখন না আমাকে ডেকে বলে - এ্যাই শুনছ! আমার না খুব বাঘের দুধের মালাই আইসক্রিম খেতে মন চাইছে। একটু আনবা প্লীজ?

তরুনরা অনেকেই মুরুব্বীদের দোয়াকে গুরুত্ব দেন না। অথচ উপযুক্ত পরিস্থিতিতে ময় মুরুব্বীদের দোয়া ছাড়া আপনাকে বাঁচানোর কেউ থাকবে না। তাই বোধ করি, বেচারী রুচি ফেরানোর জন্য এখনও এমন কিছু খেতে চায় নি।

গত বছর দুয়েক ধরে পুরানো ঢাকার বিখ্যাত রয়েল হোটেল চাইনিজ খাবার বিক্রি শুরু করছে। চাইনিজ নামে সেখানে যা চলে সেটার ফুড রিভিউ করার সাহস অদ্যাবধি আমার পরিচিত কারো তো দূরে থাক ভোজন রসিক হিসাবে আমারও সাহসে কুলায় নি।

কিন্তু আজকে আর রক্ষে পাওয়া গেলো না। আজ সন্ধ্যায় আমার স্ত্রীর ইচ্ছে হলো - রয়েল রেস্টুরেন্টের চাইনিজ বক্স খাবার জন্য। চমকে উঠে বললাম, এই শরীরে এখনই এই ধকল নিবা? কিছুদিন পরে হলে হয় না?
স্ত্রী গোসসা হয়ে বললেন, না আমি এটাই খাবো।

অতঃপর রয়েলে গেলাম। যদিও রয়েল হোটেল এখন আর আগের মত নাই, তবুও ঐ হোটেলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মোরগ পোলাউ, কাচ্চি কিংবা কাবাবের গন্ধে আপনার পেটে একটা মোচড় দিবেই। রয়েলে গিয়ে চাইনিজ খাবার চাওয়া আর বৃন্দাবনে বা কাশীতে গিয়ে গো মাংস চাওয়া প্রায়ই এক কথা। যাইহোক, বললাম আপনাদের চাইনিজ মেন্যু দেখি। দেখলাম আলাকাটের বাইরে সেখানে ১২০ টাকা থেকে শুরু করে ২৪০ টাকা পর্যন্ত প্যাকেজ প্ল্যাটার পাওয়া যায়।

ফ্রাইড রাইস, ফ্রায়েড চিকেন, ফ্রায়েড প্রণ, চিকেন কারি, ভেজিটেবল, চাউমিন ও কোল্ড ড্রিংস সমেত এই প্ল্যাটারের দাম দেখে আমার চক্ষু চড়ক গাছ! মাত্র ১৭০ টাকা! এত কম টাকায় এত খাবার!!! দ্বিধায় পড়ে ভাবলাম ফেরত যাবো নাকি?

কিন্তু ভালোবাসার তাগিদে পরাজিত হলাম। বেচারা স্ত্রীর ক্লান্ত জীর্ণ চেহারা মনে ভাসতেই বিসমিল্লাহ বলে অর্ডার দিলাম এই ১৭০ টাকার প্ল্যাটার। পরক্ষনেই ভাবলাম, এত ভালোবাসার দায় শেষ পর্যন্ত আমাকেই মেটাতে হবে। কেননা খাবারটা আমাকেই শেষ করতে হবে, স্ত্রীর দৌড় বড়জোর ৩/৪ চামুচ। তাই বাসায় ফেরার পথে ওরস্যালাইন কেনা অতি অবশ্যক।

বাসায় ফিরে প্যাকেট খুলে খাবার স্ত্রীকে দিলাম। খাবার দেখতে যতটা খারাপ ভেবেছিলাম, ততটা খারাপ নয়! মোটামুটি। যথারীতি স্ত্রী কয়েক লোকমা খেয়ে বললেন, শেষ করো আমি আর পারছি না।

আমি মনে মনে বিসমিল্লাহ বলে শুরু করলাম। স্বাদ খারাপ না। কাচ্চির বাবুর্চি দিয়া চাইনিজ রান্না করলে যা হয়, এখানেই তাই হয়েছে। চিকেন কারীতে গোলাপজলের স্বাদ পেলাম, আর ফ্রায়েড রাইসে রোজ ওয়াটার + সামান্য কেওড়া জল। আমি খুব মনযোগ দিয়ে ফ্রাইড রাইসে কিছু আলু বোখারা খুঁজেছিলাম। কিন্তু পাই নি।

চাইনিজদের সম্মান রক্ষা হয়েছে। এই কারনেই বোধ হয় কৃতজ্ঞতা স্বরুপ চাইনিজরা ইদানিং তিস্তা নদীতে বিনিয়োগের আশ্বাস দিচ্ছে।

কাচ্চি ফ্লেভারে কেউ চাইনিজ খাইতে চাইলে অবশ্যই রয়েলের চাইনিজ ট্রাই করবেন। সব মিলিয়ে আমার ব্যক্তিগত রেটিং ৫.৫ ( শুধু প্রণ ফ্রাইয়ের রেটিং ৮/১০)।

আর স্ত্রীকে বেশি করে ভালোবাসবেন। প্রেমিকাদের কথা বাদ। পরিবর্তনশীল ধ্রুবক নিয়ে কোন রিস্ক না নেয়াই ভালো।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৩:৩৯
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ৮৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১২:৪২


ছবিঃ আমার তোলা।

মন মেজাজ ভালো নেই।
তাই ব্লগে কম আসি। কম লিখি। যদিও বেশ কিছু লেখা মাথায় জমে আছে। ইচ্ছার বিরুদ্ধে ব্লগে আসলে ঝামেলা হয়ে যাবে। দেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতাস বুঝে ছুইটেন !

লিখেছেন স্প্যানকড, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১:৪১

ছবি নেট।

হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেনঃ "মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ, তবে বাঙালির ওপর বিশ্বাস রাখা বিপদজনক! " 

আসলেই তাই! খবরে দেখলাম ইকবাল নামের একজন ব্যক্তি পবিত্র কুরআন মুর্তির কাছে রেখে চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন ভবঘুরে ইকবাল হোসেন জন্য সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ল

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:৩৫



গত বুধবার ভোরে শারদীয় দুর্গাপূজার মহা অষ্টমীর দিন কুমিল্লা শহরের নানুয়া দীঘির উত্তর পাড়ে দর্পণ সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন দেখা যায়। ব্যস আর যায় কোথায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ও আমার পৃথিবী......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:৫১

আমি ও আমার পৃথিবী......

আজও খুব ভোরে উঠেছি প্রতিদিনের মতো। আকাশে তখনও আলগোছে লেগে রয়েছে রাত্রির মিহি প্রলেপ। আমার চেনা পাখিরা জেগে ওঠেনি তখনও। মনটা কেমন যেন একটু বিস্বাদে ভরে আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পেডাগোজিকাল ট্রানজিশন- শিশু শিক্ষনে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কি ধরনের উদ্যোগ নেয়া যায়

লিখেছেন শায়মা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২১ বিকাল ৩:৪৪


করোনাকালীন চার দেওয়ালে বন্দী জীবন ও অনলাইনের ক্লাসরুমের মাঝে গত বছর নভেম্বরে BEN Virtual Discussion "শিশুদের নিয়ে সব কথা" একটি টক শো প্রোগ্রাম থেকে ইনভিটেশন এলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×