somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাহাড়ে রহস্য। (প্রথম পর্ব)

১৩ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শুক্রবার ০৯.১২.১৬

মাত্রই নাস্তা শেষ করে পিসি তে বসে ফেইসবুকের ওয়াল দেখছি। বেশির ভাগ ফ্রেন্ডদেরই সেমিস্টার ফাইনাল শেষ। সবাই দেখছি ঘুরতে গিয়ে চেক ইন দিচ্ছে। ফ্রেন্ডদের ট্যুরের এসব পিকচার দেখে নিজের মন টা বলে উঠছে জমীরউদ্দীন তুই ও ঘুরতে যা। এসব ভাবতে ভাবতেই মাথায় ট্যুর এ যাওয়ার ভুত চাপল। ট্যুর এ যেহেতু যাবো, সবার আগেই শোভন এর নামটাই মনে পড়ল। কারন এর আগের সেমিস্টার এ শোভন এর সাথে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করে ও যেতে পারিনি। সাথে সাথে শোভন কে নক করলাম। ও অনলাইনেই ছিল। কুশলাদি জিজ্ঞেস করার পর বললাম, “ফ্রি আছিস তো?”
শোভন বলল,” হ্যাঁ ফাইনাল তো শেষ, এখন তো বেকার বসে আছি।“
“চল তাহলে একটা ট্যুর দিয়ে আসি।“
শোভন হেসে,” তুই বাটপার আগের বার প্ল্যান করে ও যাস নাই, এবার ও ওমন করবি আমি জানি ফুট শালা। তোর সাথে আমি নাই।“
“দোস্ত সরি অইবার আম্মু ঝামেলা করসে তাই যাইতে পারি নাই, এইবার শিওর আমি যাব, চল না প্লীজ।“ আমি মিনতি করে বলে উঠলাম।
“আচ্ছা কই যাইতে চাস বল। আমারও অনেক ইচ্ছা করতেছে। সবাই যেভাবে ট্যুরের পিক দিচ্ছে।“আমি বললাম,” যেখানেই ট্যুর দেই না কেন ফুল এডভেঞ্চার থাকতে হবে।
শোভন বলল,” দাঁড়া একটু ভাবতে দে, বাজেট এর মধ্যে কোথায় এডভেঞ্চার এ যাওয়া যায়।“
আমি বললাম,” তাড়াতাড়ি ভাবা শেষ করে আমারে জানা আর আমিও দেখি কই ফিক্সড করা যায়।“ শোভন,”আচ্ছা আমি রাতে তোকে নক দিবো।“ ওকে দিস।

রাত ১১.৩০
রাতের খাওয়া শেষ করে পিসি তে বসে ফেইসবুকে ঢুকতেই দেখি শোভন এর টেক্সট। শোভন লিখছে,” দোস্ত একটা টেক্সটিং গ্রুপ খুলছি ওইটাতে নক দে।“
আমি,“ দাঁড়া দিচ্ছি।“ ইনবক্স চেক করে দেখি চিটাগং ট্যুর নামে একটা গ্রুপ খুলছে শোভন। গ্রুপে আমাদের আরও এক বন্ধু অনিক ও এড আছে।
আমি টেক্সট দিলাম,” অনিক দোস্ত কি খবর?” অনিক,” ভাল, কি খবর তোর?”
আমি উত্তর দিলাম,”এইতো ভাল।“ শোভন কিছু বলছে তোরে ?
অনিক,” হ্যাঁ বলল তো।
“কিছু ঠিক করলি”, জিজ্ঞেস করলাম।
অনিক বলল,”দোস্ত আমি আর শোভন চট্টগ্রাম এর প্ল্যান করছি কারন ওইখানে নানা বাড়ী আছে, অল্প খরচে ঘুরা হয়ে যাবে।
” দ্যাটস গ্রেট বাট কি কি আছে অইখানে?”, লাফিং ইমো দিয়ে লিখালাম আমি। আর অবশ্যই কিন্তু এডভেঞ্চার থাকতে হবে নইলে তোদের দুইটারে আমি শেষ কইরা ফালামু।
”আরে রাখ বেটা কি নাই চট্টগ্রাম! সব পাবি আগে সব ফাইনাল কর।“লাফিং ইমো দিয়ে অনিক লিখলো।।

শোভন অনলাইনে এসেই,”হাই পিপল। কি ঠিক করলি ?”
আমি,”দোস্ত চট্টগ্রাম এর কথা বলতেছে অনিক, তুই কি বলিস?”
শোভন,” হ্যাঁ , অনিক এর সাথে কথা বললাম ও বলল ওইখানে ওর নানা বাড়ী সো আই থিংক এটাই বেটার কারন আমাদের কাছে বেশি টাকা নাই।“
হ্যাঁ এইটা ঠিক বলছিস। বাট অনিক বল কি কি আছে অইখানে যেইখনে আমরা ঘুরব?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।
অনিক,” দাঁড়া একটু পর জানাচ্ছি।
অনিক,” দোস্ত , চট্টগ্রাম ঘোরার প্লেইস এর অভাব নাই। আমি কয়েকটার নাম বলি তোরা ফিক্সড কর।“
আমি বললাম ওকে বল।
শোভন ,” ওকে বল।“
অনিক ,” আমার নানা বাড়ী সীতাকুণ্ডতে, ওইখান থেকে কাছে আছে সিতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় আর পাহাড়ের উপরে আছে চন্দ্রনাথ মন্দির, খইয়াছরা ঝর্ণা, ইকো পার্ক ফটিকছরি এসব। আর ওমর তোকে তো বলি নাই। চন্দ্রনাথ পাহাড় নিয়ে অনেক রহসসময় গল্প আছে।তুই যেহেতু এডভেঞ্চার পাগল, আই থিংক তোর এডভেঞ্চার ওখানে মিটবে। আর চন্দ্রনাথ পাহাড় চট্টগ্রাম এর সবচেয়ে উঁচু পাহাড়।“
কি বলিস ! তাহলে আমরা ওখানেই যাবো ফাইনাল কর সব,” বললাম আমি।
শোভন,’সব ই ঠিক আছে বাট বাসায় ম্যানেজ করবি কিভাবে চিন্তা করছিস কিছু?”
আমি,”চিন্তা ভাবনার কিছু নাই এবার যাবই যাবো।“
ওকে দেখা যাবে বাট যদি মিস করিস, আর কিছু কইলাম না।“ এংরি ইমো দিয়ে শোভন লিখল। আমি,”না দোস্ত মিস হওয়ার চান্স নাই শিওর থাক।
অনিক,”আচ্ছা শোন, আম্মু ও যেতে চাচ্ছে আমাদের সাথে। আম্মু ওইখান থেকে ছোট খালার বাড়ী যাবে আর আমরা নানা বাড়ী থাকবো।“
আমি বললাম,”তাহলে তো ভালই হইলো , আন্টি গেলে বাসায় ম্যানেজ করা সহজ হবে।“
আমি জিজ্ঞেস করলাম,”শোভন , অনিক কবে টিকেট কাটতে চাচ্ছিস তোরা?”
অনিক,” বৃহস্পতি বারের টিকেট কাটি কি বলিস?”
ওকে কাট তাহলে।“ আমি লিখলাম
শোভন লিখল,” দোস্ত অনলাইনে টিকেট কাট তাহলে ডিস্কাউন্ট পাওয়া যাবে।“
অনিক,” দাঁড়া আম্মুর থেকে শিওর হয়ে টিকেট কাটছি।“
আন্টি ও বৃহস্পতিবার যেতে চাওয়ায় রাতেই অনিক অনলাইনে চারটা টিকেট বুকিং দিল।

চলবে.।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১:১৯
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দু'টি ছোট গল্প বলতে চাই

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:২৫



১। গ্রামের নাম রসুলপুর।
একেবারে সুন্দরবনের কাছে। অন্যসব গ্রামের মতোই একটি সহজ সরল সুন্দর গ্রাম। এই রসুলপুর গ্রামই আমাকে শিখিয়েছে কি করে পৃথিবীকে ভালোবাসতে হয়। মানুষকে ভালোবাসতে হয়। এই গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলফোর রোড টু কাশ্মীর ! : সভ্যতার ব্লাকহোলে সত্য, বিবেক, মানবতা!

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৪০

ফিলিস্তিন আর কাশ্মীর! যেন আয়নার একই পিঠ!
একটার ভাগ্য নিধ্যারিত হয়েছিল একশ বছর আগে ১৯১৭ সালে; আর অন্যটি অতি সম্প্রতি ২০১৯ এ!
বর্তমানকে বুঝতেই তাই অতীতের সিড়িঘরে উঁকি দেয়া। পুরানো পত্রিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চামড়ার মূল্য- মানুষ ভার্সেস গরু

লিখেছেন কাওসার চৌধুরী, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৪


২০১০ সালের কথা; তখন পূর্ব লন্ডনের ক্যানরি ওয়ার্ফ (Canory Wharf) এর একটি বাসায় ক্লাস নাইনে পড়া একটি ছাত্রীকে ম্যাথমেটিকস্ পড়াতাম। মেয়েটির আঙ্কেল সময়-সুযোগ পেলে আমার সাথে গল্পগুজব করতেন। একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দাদীজান ও হ্যাজাক লাইট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০০



সময় ১৯৮০ এর দশক, প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসের শেষ শুক্রবার আমার দাদাজানের মৃত্যুবার্ষিকী’তে বড় চাচা, আব্বা বেশ খরচ করে গ্রামবাসী ও আত্মীয় পরিজনদের খাবারের একটা ব্যাবস্থা করতেন, বড় চাচা আর আব্বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গত কিছু সময়ে সামুতে যা যা হয়েছে, ব্লগারদের ওপর দিয়ে যা গিয়েছে, সেসকল কিছু স্টেজ বাই স্টেজ বর্ণনা!

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:১৪



কনফিউশন: ধুর! কি হলো! ব্লগে কেন ঢুকতে পারছিনা? কোন সমস্যা হয়েছে মনে হয়, পরের বেলায় চেক করে যাব। বেলার পর বেলা পার হলো, সামুতে ঢোকা যাচ্ছে না! কি সমস্যা!... ...বাকিটুকু পড়ুন

×