somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাহাড়ে রহস্য। (তৃতীয় পর্ব)

১৪ ই নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শীতের সকাল বেশ ঠান্ডা পরেছে। এতো সকালে রিকশা নেই তাছাড়া হেটে গেলে শরীর ও গরম হবে ভেবে, হাটা শুরু করলাম। দশ মিনিট হেটেই বাস স্ট্যান্ড এ আসতে দেখি একটা অটো রিকশা।
অনিক,”এই মামা যাবেন?’
“উনি উত্তরে, কই যাবেন?”
"চন্দ্রনাথের মন্দির যাবো।"
"উঠেন মামা। তিন জন মানুষ যা ভারা আছে তার থেকে ১০ টা টেকা বারাইয়া দিয়েন।"
”আচ্ছা সেইটা দেয়া যাবে চলেন তাহলে।”
আমরা উঠে বসতেই মামা, রিকশা ছেঁড়ে দিল। পন্থিছিলা থেকে সীতাকুণ্ড বাজারে অটো তে করে ৭-৮ মিনিট লাগে। সীতাকুণ্ড বাজারের মধ্যে দিয়ে চন্দ্রনাথ টেম্পলে যাওয়ার রোড। বাজার পার হতেই দুপাশে অনেক মন্দির আশ্রম দেখতে পেলাম। আমরা এইখানে এই প্রথম আসছি এটা শুনে মামা আমাদের সাথে গল্প জুড়ে দিল। একটু সামনেই দুইটা চিতাখোলা দেখলাম। চিতাখোলা হচ্ছে, যেখানে হিন্দু ধর্ম্যালম্বীদের মৃত দেহ সৎকার করা হয়। মামা বলল, সামনে ওই বট গাছটা দেখতাছেন না মামা অইটার নাম প্রেম তলা।" বড় পুজার সময় এখানে এতো মানুষ আসে যে হাটাই দায়। দলে দলে লোক এখানে তীর্থযাত্রায় আসে। পাহাড় নিয়ে কত রকম রহস্য আছে তার ও কিছু গল্প আমাদের কে শুনালেন। গল্পে গল্পে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের নিচে পৌঁছাইতে মিনিট বিশেক লাগলো।

রিকশা থেকে নেমে বোনাস সহ উনার ভারা দিয়ে আমরা সামনে পা বারালাম। বাড়ী থেকে নানা ভাইর থেকে সব জেনে আসছি কিভাবে যাবো তাই কোন সমস্যা ছাড়াই কিছুদুর পর্যন্ত গেলাম। শীতের দিন সকাল ৮ টা ও বেশ সকাল মনে হয়। তাই এখন ও কোন ট্যুরিস্ট দেখা যাছে না। হালকা কুয়াশা চারদিকে পাহাড় কেমন যেন এক ভৌতিক পরিবেশ। তারপরও আশেপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদের অসম্ভব ভাল লাগলো । শোভন ক্যামেরা বের করে ছবি নেয়া শুরু করল।

কিছুদুর আসতেই আমরা প্রথম মন্দিরটা দেখতে পেলাম। পাহাড়ি সিড়ি বেয়ে মন্দির এ উঠতেই দেখলাম মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বের হয়ে আসছেন। আমাদের হাতে ক্যামেরা কাধে ব্যাগ এসব দেখে উনি ধরে নিলেন আমরা ট্যুরিস্ট। সকাল বেলা তেমন কোন লোক আসেনি এখনও তাই উনিই আমাদেরকে চারদিকটা ঘুরে দেখাতে লাগলেন সাথে সাথে আমরা কোথা থেকে আসছি কি করি এসব ও জিজ্ঞেস করলেন। আমরা ও উত্তর দিলাম, আমরা তিন বন্ধু ঢাকা থেকে আসছি। এখানে ফ্রেন্ড এর নানাবাড়ি বেড়াতে। ঢাকায় একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ করছি। আমরা ভার্সিটিতে পড়ে এটা শুনে উনি মনে হয় একটু অবাক ই হলেন। একটু হেঁসে উনি বললেন, তোমাদের কে তো স্কুল পড়ুয়া লাগে। চারদিক দেখানোর সাথে সাথে উনি এই মন্দিরের ইতিহাস বলতে শুরু করলেন। এই চন্দ্রনাথ মন্দির নিয়ে বিখ্যাত অনেক কিংবদন্তী আছে তার মধ্য থেকে উনি আমাদেরকে একটা বললেন,“ সত্য যুগে দক্ষ যজ্ঞের পর সতী দেবী দেহ ত্যাগ করলে মহাদেব সতীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রলয় নৃত্য শুরু করলে বিষ্ণু দেব সুদর্শন চক্র দ্বারা সতীর মৃতদেহ ছেদন করেন। এতে সতী মাতার দেহখন্ডসমূহ ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে পতিত হয় এবং এ সকল স্থানসমূহ শক্তিপীঠ হিসেবে পরিচিতি পায়।“ চন্দ্রনাথ মন্দির ও অন্যতম বিখ্যাত শক্তিপীঠ। তাই এটা হিন্দু ধর্ম্যালম্বিদের পবিত্র স্থান। হাজারও হিন্দু ধর্মানুসারী এখানে তীর্থযাত্রায় আসেন।

উনার থেকে বিদায় নিয়ে আমরা সামনে পা বাড়ালাম। উনিই তখন বলে দিল সামনে ছোট একটা দোকান পাবে খাবার পানি না থাকলে নিয়ে নিও আর একটা করে লাঠি অবশ্যই নিও। অনেক উঁচু পাহাড় নইলে উঠতে পারবে না। কিছুদুর আসতেই দেখতে পেলাম দোকানটা। দোকান বলতে ছোট্ট একটা মাচা বানিয়ে দুইজন বসে আছে, “সামনে কিছু পানির বোতল, কলা এরকম হালকা খাবার আর আছে কিছু চিকন বাঁশ। আমাদের কে দেখেই ওরা দু জন বলে উঠলো সামনে আর দোকান নেই কিছু লাগলে নিয়ে যান আর লাঠি ছাড়া উঠতে পারবেন না, লাঠি নিয়ে যান। আমরা খাবার পানি নিয়ে আসছি তাই তিনটা বাশের লাঠি কিনলাম। আমরা সামনে পা বাড়াতেই দোকানের ছেলেটা বলে উঠল ভাইয়া সামনে দুইটা রাস্তা পাবেন বা দিকের টা দিয়ে উঠবেন, ওটা দিয়ে সহজে উঠা যায়। আমরা ও ধন্যবাদ জানিয়ে বললাম, আচ্ছা।

কিছুদুর আসতেই একটা পাহাড়ি ছরা দেখতে পেলাম। শীতকাল হওয়ায় তেমন পানি নেই অল্প অল্প পানি আসছে পাথরের ফাক ফোকর দিয়ে। ছরার দুই পাশেই দুইটা রাস্তা উপর দিক উঠে গেসে। আমরা দোকানি ছেলেটার কোথা মত বা দিকের রাস্তা টাই ধরে উপরে উঠা শুরু করলাম। তিনজন ই আনাড়ি, আগে অনিক একবার আসলে ও সেইটা অনেক আগে। কিছুদুর উঠতেই তিনজন ই হাপিয়ে উঠলাম। তখন বুঝলাম পাহাড়ে উঠার জন্য একটা লাঠি কত দরকারি। অনিক ব্যাগ থেকে ডাবের পানির একটা বোতল বের করে আমাদের দিকে বাড়িয়ে দিল আর একটা বোতল বের করে ও নিজেও কিছুটা পানি খেল। পানি খাওয়ার পর এখন একটু সুস্থির লাগছে। শোভন ক্যামেরা বের করে আশেপাশের ছবি নিচ্ছে। হটাত করেই শোভন বলে উঠল ওমর, অনিক ওই দেখ পেয়ারা গাছে দুইটা পেয়ারা আছে মনে হচ্ছে। আসার সময় ও অনেক পেয়ারা গাছ দেখছি তাই আমরা ও ভাল মত তাকাতেই দেখি সত্যি একটা পেয়ারা গাছের ডালে দুইটা পেয়ারা ঝুলছে একসাথে। আমি বললাম দাঁড়া আমি নিয়ে আসি। শোভন, না দরকার নাই চল উপরে যাই। ধুর শালা এইখানেই তো এডভেঞ্চার এর শুরু ,আমি বলেই গাছের দিকে পা বাড়ালাম।

ঢাকায় বড় হলে ও গ্রামে প্রতি বছরই দুই একবার যাওয়া হয়। আর নানার বাড়িতে বাগান থাকার সুবাদে গাছে ভালই উঠতে পারি। লাফ দিয়ে পেয়ারা গাছটায় উঠে পরলাম। পেয়ারা দুটো নিয়ে গাছ থেকে নামতে যাব দেখি একটা সিগারেটের ফিল্টার পড়ে আছে! ওটা থেকে এখন ও একটু একটু ধোঁয়া বের হচ্ছে। আমি একটু অবাক ই হলাম কারন এখন পর্যন্ত একটা কাকপক্ষি ও দেখি নাই আসে পাশে তাহলে এই ফিল্টার আসল কোথা থেকে? আমি কোন কোথা না বলে ইশারায় শোভন আর অনিক কে ডাক দিলাম। ইশারায় ডাক দেয়ায় ওরা একটু অবাক হলেও কোন কোথা না বলে পেয়ারা গাছের নিচে এসে দাঁড়ালো। আমি ওদের কানে ফিস ফিস করে বললাম দোস্ত দেখ একটা সিগারেটের আধপোড়া অংশ, ফিল্টার থেকে এখন ও ধোঁয়া বের হচ্ছে। ওরাও দেখে আমার মতই অবাক হল। শোভন বলে উঠল কাউরে তো দেখলাম না এটা কে ফেলল এইখানে? আমি বললাম সেটাই তো কথা। খুব সম্ভবত সামনে রাস্তা আছে চল গিয়ে দেখি। অনিক বলল না দরকার নেই চল যেদিকে যাবো ঠিক করছি ওইদিকেই চল। শোভন ও দেখি অনিক এর সাথে একমত। আমি বললাম দোস্ত কেউ মনে হয় এদিকে এসে পথ হারিয়ে ফেলছে। দেখা দরকার না এরকম হল কিনা? আর বুঝিস ই তো এই জঙ্গলে পথ হারালে আর উপায় নাই। শোভন কিছুটা খেপে গিয়ে,”শালা সারাদিন থ্রিলার আর এডভেঞ্চার বই পড়ে তোর মাথা গেসে। তারাতারি এখান থেকে বের হ। আমি বললাম দোস্ত চল না আমরা একটু সামনে দেখেই ফিরে আসব। আমার জোরাজুরিতে অগত্যাই শোভন আর অনিক রাজি হল।

চলবে...।

প্রথম পর্বের লিংকঃ Click This Link
দ্বিতীয় পর্বের লিংকঃ Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৫১
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের কাশ্মীর ভ্রমণ- ৫: অবশেষে শ্রীনগরে!

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৯ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:২৬

গাড়ীচালক মোহাম্মাদ শাফি শাহ সালাম জানিয়ে তড়িঘড়ি করে আমাদের লাগেজগুলো তার সুপরিসর জীপে তুলে নিল। আমরা গাড়ীতে ওঠার পর অনুমতি নিয়ে গাড়ী স্টার্ট দিল। প্রথমে অনেকক্ষণ চুপ করেই গাড়ী চালাচ্ছিল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারিদিকে বকধার্মিকদের আস্ফালন!!

লিখেছেন ঘূণে পোকা, ১৯ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:৩৭

জাতি হিসেবে দিনে দিনে আমাদের মধ্যে এক অদ্ভুত মানসিকতা গড়ে উঠছে।
আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্যকে বিচার করার এক অসাধারন দক্ষতা অর্জন করতে শিখে গেছি। আমাদের এই জাজমেন্টাল মেন্টালিটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন জনকের চোখে

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৯ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১:১৬


আমি ছিলাম আল্লাহর কাছে প্রার্থনারত
হসপিটালের ফ্লোরে —পরিবারের সবাই
প্রতীক্ষার ডালি নিয়ে নতমস্তকে —আসিতেছে শিশু
ফুলের মতোন — ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শুভাগমন
কোন সে মহেন্দ্র ক্ষণে — পরম বিস্ময়ে সেই
... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা প্রেম!

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৪০



ইনবক্সের প্রেমের আর কী বিশ্বাস বলো
এসব ধুচ্ছাই বলে উড়িয়ে দেই হরহামেশা
অথচ
সারাদিন ডেকে যাও প্রিয় প্রিয় বলে.....
একাকিত্বের পাল তুলে যে একলা নদীতে কাটো সাঁতার
সঙ্গী হতে ডাকো প্রাণখুলে।

এসব ছাইফাঁস আবেগী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগারদের কিছু ফেসবুক ছবি

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ৮:৩৭


হাজী জুম্মুন আলি ব্যাপারী
:P

জাহিদ অনিক
এখানে কেউ খোঁজে না কাউকে কেউ যায়নি হারিয়ে।

গিয়াস উদ্দিন লিটন ভাই।

শাহিন বিন রফিক
... ...বাকিটুকু পড়ুন

×