somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাহাড়ে রহস্য। (চতুর্থ পর্ব)

১৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মিনিট দশেক হাটার পর মনে হল একটা ট্রেইল পেলাম। এখানকার লতা গুল্ম গুলো কেমন যেন একটু নুয়ে আছে। আমি অনিক আর শোভন কে বললাম,” দেখত দোস্ত মনে হয় না এখান দিয়ে মাঝে মধ্যে মানুষ যাওয়া আসা করে।
“ অনিক বলে উঠল মানুষ কেন, কোন বন্য প্রাণী ও তো যাওয়া আসা করতে পারে।"
অনিকের কোথায় সতবিৎ ফিরল। এতখন এটা মাথাতেই আসে নাই।
কিন্তু শোভন যখন ডাক দিয়ে বলল, দোস্ত দেখ এইখানে ও একটা আধপোড়া সিগারেটের অংশ পড়ে আছে ঠিক আগের টার মতই।" আমরা তিনজনই শিওর হলাম এইখান দিয়ে কিছুক্ষণ আগেই কেউ গেসে নইলে পর পর দুই জাগায় দুইটা জলন্ত সিগারেটের ফিল্টার পাওয়া যেত না। কিন্তু কথা হল যে এই পথ দিয়ে গেসে সেকি পথ ভুল করসে নাকি জঙ্গলেরই বাসিন্দা। কিন্তু আমরা যতটুকু শুনে আসছি এই জঙ্গলে কোন জনবসতি নেই। আর গভীর জঙ্গলেতো পারতপক্ষে মানুষ পা ই ফেলে না। গত কয়েক বছরে বেশ কয় জন মানুষ এখানে নিখোঁজ হয়েছে। এসব ভেবে একটু ভয়ই পেলাম আবার এটা ও ভাবলাম যে এখানে সিগারেটের পোড়া অংশ ফেলে গেসে সে হয়তো কাছে পিঠেই কোথাও আছে। তাকে পেলেই সব রহস্যের সমাধান হয়ে যাবে।

আমি বললাম চল সামনের দিকে একটু দেখে আসি। অনিক বলল,” পাগল হয়ে গেছিস? আর সামনে যাবো না, পড়ে নিজেরাই পথ হারিয়ে বসে থাকবো।"
আরে পথ হারাব কেন? আমরা তো বেশি দূর আসিনি। চল একটু সামনে দেখে চলে আসব । কাউকে পেলে পাবো না পেলে ও আমরা ব্যাক করবো। শোভন বলে উঠল আচ্ছা চল যদি লোকটাকে পাওয়া যায় ভালই হবে আমরা ও সিগারেট নিতে পারবো দুই একটা। বেশ খানিকটা উপরে চলে এসেছি আমরা। আবছা যে ট্রেইল্টা পেলাম ওইটা সামনের দিকে বাঁক নিয়ে পাহাড়ের ওপাশে হারিয়ে গেছে মনে হচ্ছে। কিছুদুর যাওয়ার পর মনে হচ্ছে আমরা পাহাড়ের ওপর পাশে চলে আসছি। এখানে জঙ্গল বেশ ঘন। সুনসান নিরবতা। মাঝে মধ্যে দু একটা নাম না জানা পাহাড়ি পাখি সেই নিরবতা ভেঙ্গে খান খান করে দিচ্ছে। আর একটু ভেতরে যেতেই দেখলাম ট্রেইলের পাশেই একটু পানি জমে আছে, দুই তিন হাত দুরেই একটা এনার্জি ড্রিংক এর বোতল পড়ে আছে। বুঝলাম যে আমাদের সামনে আছে সে এখানে মুত্র বিসর্জন দিয়েছে। অনিক বলে উঠল এভাবে পিছু পিছু না গিয়ে জোরে ডাক দেই শুনতে পেলে নিজ থেকেই আসবে। আমি বললাম সামনে কে আছে না জেনে ডাকাডাকির দরকার নেই। শোভন বলল,” দোস্ত হাঁপিয়ে গেসি পানি দে তো। আর খাবার বের কর একটু খেয়ে নেই।আমরা খাবার বের করে তিনজনই অল্প অল্প করে খেলাম পানি খেয়ে রওনা হওয়ার আগে সামনের লোকটা যেখানে মুত্র বিসর্জন দিসে আমরা তিনজন ও সেখানে মুত্র বিসর্জন দিলাম।

যদি জানতাম সামনে এমন বিপত্তি ঘটবে তাহলে হয়তো আর আমরা সামনে না গিয়ে যে পথ দিয়ে আসছি সে পথ দিয়েই ব্যাক করতাম। ঘড়িতে দেখালাম বাজে সারে নয়টা। আমরা ৫ মিনিট ও হাটি নাই, শোভন লতার সাথে বেঁধে গিয়ে পড়ে গেল। ওরে ধরবো কি ধরার আগেই বিদ্যুৎ গতিতে ১৫ ফুট নিচে হরহরিয়ে নেমে গেলো। আমি আর অনিক তো শোভন বলে চিৎকার। তাড়াতাড়ি নিচে নেমে ওরে ধরে উঠালাম। হাত পা সব দেখে টেখে বুঝলাম হাত পা ভাঙ্গে নাই কিছু জাস্ট এখানে ওখানে একটু ছিলে গেসে। শোভন ব্যাথায় মুখ বিকৃত করে রাখছে। আর আমাকে যা মুখে আসছে তাই বলে গালি দিচ্ছে। শালা তোরে বলছিলাম যাওয়ার দরকার নাই তোর জন্য এই খানে আসছি। আমি বললাম দোস্ত আগে একটু রেস্ট নে দেন আমরা ব্যাক করবো। আর সামনে যাওয়া দরকার নেই।

কালু বেপারি গতকাল সকালে এই জঙ্গলের আস্তানা থেকে বের হয়ে শহরে গেসিল একটু ফুর্তি করতে। প্রতি মাসে একদিনই ছুটি থাকে। কালু ওই দিনটা শহরে কাটায়। কিন্তু চাকরি কর্তার নিয়ম বড়ই কঠিন আস্তানার বাইরে যাও ভাল কথা গোপনীয়তা যাতে ১০০ ভাগ বজায় থাকে। কালু ভাল করেই জানে এদের কথার ভঙ্গ হলে কোনদিন আর আকাশের মুখ দেখা লাগবে না। কালুও কখন নিয়মের বাত্যায় করে নি। গোপনীয়তা রক্ষার জন্য আস্তানা থেকে বের হয়ে শহরে যায় এক রাস্তা দিয়ে আর ফিরে আসে এক রাস্তা দিয়ে।
কালু ভাবছে,”গতকাল রাত টা শহরে ভালই কাটছে। এতো সকালে আসতে একটু খারাপ লাগার ই কথা শীতের দিনে। তবে কালুর অভ্যাস হয়ে গেসে। গত তিন বছর সে এখানে আছে। কি কাজ যে ওই গুহার মধ্যে করে আল্লাহ্‌ মালুম। কালু কখন জানতে ও চায় ও না কারন চাকরি কর্তা অহেতুক কৌতূহল পছন্দ করে না আর কাজের তুলনায় মাশআল্লাহ্‌ বেতন অনেক ভাল। এসব ভাবতে ভাবতেই কালু আস্তানার দিকে এগুচ্ছিল হটাত করেই চিৎকার টা কানে আসতে কান খারা করে কালু দাঁড়িয়ে পরল। কালু শিওর যে এটা কোন মানুষের চিৎকার কিন্তু ভেবে পাচ্ছে না এই সকাল বেলা এইখানে মানুষ আসলো কোথা থেকে। এইখান থেকে মাত্র ২০ মিনিটের দুরুত্বে আস্তানা এইখানে মানুষ থাকা তো বিপদজনক। কালু সিগেরেট টা ফেলে দিয়ে রিভলবারটা বের করে যে পথ ধরে যাচ্ছিলো সেই পথে আবার ফেরত আসছে চিৎকার এর উৎস খুজতে।

দশ মিনিট হাটতেই কালু দেখতে পেল যেখানে প্রসাব করছিলো সেখানে একটা ছোট খাটো পুকুর। আমরা দুইজন গত দশ মিনিট ধরে শোভন এর সেবা যত্ন করে মোটামুটি ওরে ঠিক ঠাক করে ব্যাক করার জন্য উঠতেই দেখি লুঙ্গি পরা কালো এক লোক রিভালবার হাতে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। রিভালবার হাতে লোকটাকে দেখে মনে হচ্ছে ইতিহাসের প্রাচীন কোন চরিত্র। কালু ও কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আমদেরকে দেখল। আমরা এতটুকু বুঝলাম, এই সকালবেলা আর যাই হোক কোন ভাল লোক এই জঙ্গলে পিস্তল নিয়ে ঘুরবে না। কালু মিয়া পিস্তল তোলার আগেই এই দাঁড়া বলে যখন চিৎকার করছে। কে শোনে কার কথা আমি হাতের লাঠি টা লোকটার দিকে ছুরে দিয়েই চিৎকার করে বললাম,” শোভন, অনিক নিচের দিকে নাম জলদি।“ সাথে সাথেই ওরা রিয়্যাক্ট করল। দ্রুত বেগে আমরা তিনজন নিচের দিকে নামতে শুরু করলাম। ছুরে দেয়া লাঠির আঘাতে রিভালবার টা ছিটকে পড়ে গেসে। ওইটা খুজতেই কালু মিয়ার মিনিট তিনেক ব্যয় হয়ে গেল। আমরা মরিয়া হয়ে নামছি। এদিকে জঙ্গল ঘন গাছ ধরে ধরে নামলে ও তেমন সুবিধা করতে পারছি না। কালু মিয়া যখন নামা শুরু করল আমরা বেশ খানিকটা এগিয়ে গেসি।

কতখন এভাবে দৌড়াচ্ছি বলেতে পারবো না। জঙ্গলটাকে গোলোক ধাঁধা মনে হছে। সবদিকেই একইরকম লাগছে। শোভন আর অনিক কে হারিয়ে ফেলছি বেশ অনেক খন আগেই। ঘড়িটা ও হাতে নেই কোথাও যেন পড়ে গেসে। ওদেরকে যে কল দিবো তার উপায় ও নেই তিনজনের ফোন ই ছিলো শোভন এর ক্যামেরার ব্যাগে। মাথার উপর তাকাতেই দেখলাম সূর্য মাথার উপর থেকে একটু হেলে পড়ছে ধরে নিলাম ১ টা বাজে। ব্যাগ টা কাধে ছিল তাই এটা আর হারায় নাই। একটু সুস্থির হতেই ব্যাগ থেকে খাবার বের করে খেলাম। খাওয়ার পর হোল আর এক বিপত্তি। আমার কাছে তো পানি নাই। যাইহোক খাওয়ার পর এখন কিছুটা শক্তি ফিরে পেলাম মনে হচ্ছে।

চলবে...।

প্রথম পর্বের লিংকঃ Click This Link
দ্বিতীয় পর্বের লিংকঃ Click This Link
তৃতীয় পর্বের লিংকঃ Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:২৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গিবত, মারাত্মক এক সামাজিক ব্যাধি; গিবত থেকে বাঁচার উপায়

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৬ ই জুন, ২০১৯ সকাল ১১:১৯



অধিকাংশ গিবতের আসরের সূচনাটা যেভাবে হয়..........:
'যদিও গীবত করা ভালো না, তারপরও একটা সত্য কথা বলি...'। হ্যাঁ, এই কথাটি দিয়েই আমরা শুরু করি। গিবতের সূচনাটা এখন এভাবেই, একটা সত্য কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের কাশ্মীর ভ্রমণঃ অনিশ্চয়তার দোলাচলে যে যাত্রার শুরু - ৪

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৬ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ১:১১

অবশেষে লোকটাকে দেখা গেল, কালো ব্যাগটা হাতে নিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসতে। আমার কাছে এসে বললো ব্যাগের তালা খুলে দেখাতে। আমি এটা আগে থেকেই আন্দাজ করতে পেরে চাবিটা হাতের তালুতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবাক বাংলাদেশের অবাক বাজেট !!!

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৬ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:০৯



বাংলাদেশের একটি নির্বাচিত সরকার হোক আর অনির্বাচিত সরকার তাঁর মেয়াদকাল পাঁচ বছর। আর এই পাঁচ বছরে তাঁরা পাঁচ পাঁচটি বাজেট ঘোষণা করেন। এই পাঁচ বছরের পাঁচটি বাজেটের শুধু মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

» প্রকৃতির ছবি, দেশের ছবি (ক্যানন ক্যামেরায় তোলা-৬)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৬ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:১১



আমার_দেশ_আমার_অহংকার
ছুঁয়ে দিলেই স্নিগ্ধতা ঝরে পড়ে,
ধানের পাতায় পাতায় কেবল ভোরের শিশিরের খেলা
সাঁই সাঁই হাওয়া এসে কাঁপিয়ে দেয় ধানের শিষ'দের,
মুগ্ধতাগুলো এখানেই ঝরে পড়ে
আর আমার চোখে থাকে সেঁটে।

চোখের ক্যানভাসে এঁকে রাখি সবুজ রঙ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালো টাকার কালো ধনীরা ও আমাদের অতিবিজ্ঞ অর্থমন্ত্রীগণ

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৬ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৪



কালো টাকার ডেফিনেশন আপনারা জানেন, অসৎ পথে আয় করা টাকা: চাঁদাবাজীর টাকা, টেন্ডার বিক্রয়ের টাকা, ওভার ইনভয়েসের টাকা, আন্ডার ইনভয়েসের টাকা কালোবাজারীর টাকা, সোনা চোরাকারবারীদের টাকা, মাফিয়ার টাকা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×