তোর বাবার স্বপ্নে এলি কাল তুই। তোকে কোলে নিতে গিয়ে সেতো কি নার্ভাস, একেবারে কাপাকাপি অবস্থা। যদি ছোট্ট তুই ব্যথা পাস, হাড়গোড় ভেঙে যায়! কে যেন তখন বলল, ' ও তো তোমারই রক্ত। বাবাকে ও খুব ভাল করেই চেনে।' তখন সে তোকে কোলে তুলে নিল। আর তুই হাসতে লাগলি খুব করে।
দুইদিন ধরে তোর বাবা খুব জল্পনা-কল্পনা করে যাচ্ছে, তুই ছেলে হবি নাকি মেয়ে, দেখতে কেমন হবি, চোখের রঙ কেমন হবে, চুল বাবার মত নাকি মায়ের মত, নাকটা খাড়া না বোঁচা...এমনি আরো কত কি...
আমি শুধু হাসি আর হাসি এসব শুনে। তুই যে আসছিস তাতেই আমি অন্য কোন ঘোরে বাস করছি। এতকিছু ভাবনা আসেই না। আমাদের স্বপ্নে, কল্পনায়, কথায় আমরা 'ছেলে, ছেলে' করে অস্থির। তাহলে তুই আমার বাবানটাই আসছিস বুঝি?
তোর দাদী কিন্তু তার একজন বান্ধবী চাইছেন খুব করে। তোকে প্রজাপতির মত উড়ো উড়ো ফ্রক পরাবেন, লাল-নীল রিবন দিয়ে প্রপেলারের মতন চুল বাঁধবেন, তোর সাথে কত সুখ-দু:খের গল্প করবেন।
তা হোক, তুই যদি আমাদের ছেলেটাই হোস তাহলেও দাদীর বন্ধু হতে পারবি। আর নান্নানের বয়ফ্রেন্ড। খুব করে জ্বালাবি নাকি দুজনকে?
মাথায় কত ভাবনাই না আসে!
দুদিন ধরে তুই বুঝি একটু একটু করে জানান দিচ্ছিস তুই আসছিস। একটু একটু করে টের পাচ্ছি ভেতরের পরিবর্তন। কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু সেই কষ্টেই কত যে আনন্দ!
তোর বাবাতো অস্থির হয়ে বলছে, 'এত লম্বা প্রসেস কেন?' তাইতো রে সোনাটা, এত্ত দেরি করলে হয়! তোর জন্য যে আমরা অধীর হয়ে অপেক্ষা করে আছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


