কতদিন লিখি না তোকে! অথচ রোজই ভাবি আজ লিখবোই। কিন্তু কেমন যে একটা আলস্য পেয়ে বসে, তাই লিখতে বসাই হয় না। রাগ হয়েচে মার ওপর? একটু একটু রাগতো এখন তোর হয়ই, খুব জানি। কিন্তু মার ওপর কি আর বেশিক্ষণ রাগ করে থাকা যায়!
এখনতো তুই বেশ বড়সড় হয়ে উঠেছিস। পাক্কা এক ফুট। আর দেখতেও একদম ছোট্ট একটা ডলপুতুল হয়ে গেছিস। হাত, পা, নাক, ছোট ছোট চোখ, একটা মুখ, হাঁসের বাচ্চার রোমের মতন চুল, মুখের ভেতরে ছোট ছোট দাঁতের গোড়াও গজিয়ে গেছে। আমার সোনামণিটা দেখতে দেখতে কত বড় হয়ে গেছে!
যেদিন তোকে প্রথম দেখলাম আল্ট্রাসনোগ্রামের স্ক্রীনে, ছোট্ট মানুষটা তুই ভেসে বেড়াচ্ছিস, হাত দুটো বুকের কাছে জড়ো করে রাখা, আর তোর বুকটা কী ভীষণ শব্দে ধুকপুক করে যাচ্ছে! তোকে কেমন করে বোঝাবো কেমন লাগছিল! টলোমলো চোখে শুধু চেয়ে ছিলাম। কিছুক্ষণ পর স্ক্রীনটা ঝাপসা হয়ে এল। তোর বাবাকে ডাকা হল দেখার জন্য। তার চেহারাটা যদি দেখতি তখন। মুখ-চোখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে, বুঝতে পারছিলাম গলা শুকিয়ে কাঠ, চোখে কেমন উদভ্রান্ত দৃষ্টি! ওই বিশাল মানুষটা, বের হয়ে দেখি সেও চোখ মুছছে। সোনামানিক, তোকে আমরা অনেক অনেক ভালবাসি।
আর যেদিন তুই প্রথম নড়ে উঠলি, সেওতো চব্বিশদিন হয়ে গেল। পেটের ভেতর ছোট্ট নরম একটা ধাক্কা। একেবারে বোঝা যায় কি যায় না, এতই হালকা। ওই প্রথম, তোর অস্তিত্বের জানান দিলি তুই। কেঁদেছিলাম ওইদিনও, বড় সুখের কান্না সেটা।
আর এখনতো তুই খুব সেয়ানা হয়ে গেছিস। রীতিমত যুদ্ধ চালিয়ে যাস মাঝে মাঝে। আর জোরেসোরে গান চললেতো কথাই নেই। একেবারে ব্রেক ড্যান্স শুরু হয়ে যায়। বাবার মতই গানপাগলা হচ্ছিস বুঝি দিনকে দিন! কাল রাতেইতো, বাংলাদেশের খেলায় সাপোর্ট দিতে তোর সে কি লাফালাফি! কালতো আমার হেরেই গেলাম সোনা। মন খারাপ হয়েছিল খুব, বাবার মত? এইজন্যই আজ এত চুপচাপ হয়ে আছিস? কাল হেরেছি তো কি হয়েছে? এরপরের বার আমরা ঠিকই জিতবো দেখিস। তোকে অবশ্যই এটা মেনে নেয়া শিখতে হবে যে, খেলায় হারজিত আছে, থাকবেই। কিন্তু আমরা চেষ্টা করে যাবো।
মার শরীর আজকাল খুব খারাপ থাকে, তুই কি বুঝিস? খুব কষ্ট করে কাটাতে হচ্ছে দিনগুলো। কিন্তু তোর জন্য মা সব করতে পারে। শুধু তুই যেন ভাল থাকিস, সেজন্য যেকোন কষ্ট সহ্য করতে পারে। এই বিশ্বাসটুকু রাখিস।
তোকে অনেক ভালবাসি ছোট্ট পাখি...অনেক অনেক বেশি...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


