তোর বুঝি এক্ষুণি এক্ষুণি চলে আসবার খুব তাড়া হয়েছিল! এইজন্যই মাকে আর বাড়িসুদ্ধ লোককে এইভাবে ভয় দেখালি সেদিন। সকাল থেকে যখন হঠাৎ দেখলাম তোর কোন সাড়া-শব্দ নেই, নেই তো নেই...প্রায় বারটা বেজে যাওয়ার পরেও, আমিতো ভয়েই অস্থির। তোর বাবাকে বললাম, সে প্রথমে বুঝতেই পারল না। ভয়ে ভয়ে তোর নানুমণিকে ফোন করলাম। উনিতো সাথে সাথেই বললেন, তক্ষুণি হাসপাতালে চলে যেতে। তারপরও একবার ডাক্তারকে ফোন করে নিলাম। ডাক্তারও যখন একই কথা বলল, তখন সত্যিই ঘাবড়ে গেলাম। কোন কিছু চিন্তা করার আর সুযোগ ছিল না। তৈরি হয়ে তোর বাবার সাথে চলে গেলাম হাসপাতালে। তারও বেশ কিছুক্ষণ পর টের পেলাম তোর নড়া-চড়া একটু একটু করে। ওফ কি ভয়টাই না পেয়েছিলাম!
হাসপাতালে যেতেই ডাক্তার পেটের ওপরে একটা যন্ত্র রেখে তোর হার্টবিট মাপলেন। ধুক পুক...ধুক পুক...ধুক পুক...ওহ, মনে হচ্ছিল যেন টগবগ টগবগ করে পাগলা ঘোড়া ছুটেছে। অত অস্থির কেন রে? এক্কেবারে বাবার মতই হয়েছিস। যে নার্স হার্টবিট মাপছিল সে তো এই নিয়ে এমন মজা করছিল!
অত জোড়ে আর দ্রুত ধুক পুক হচ্ছিল শুনে সে বলছিল, ছেলে হবে তোমার। আমার জামাই আসবে। ১৬ই ডিসেম্বরে বিজয়ের মিছিল নিয়ে।
সত্যি যদি তুই আজ চলে আসতি, বেশ হতো। কিন্তু সোনা আমার, এখনো সময় হয়নি কিন্তু। যদিও জানি চলে আসবার জন্য তুই অস্থির হয়ে আছিস খুব। আমিও অস্থির হয়ে আছি অপেক্ষার এই দিনগুলো কবে শেষ হবে সে আশায়। তারপরও আরো কিছুদিন তোকে অপেক্ষা করতেই হবে। আমাকেও।
আর অল্প কয়টা দিন সোনা। এই কয়টা দিন একটু ধৈর্য ধরে থাক। আর ভাল থাকিস খুব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


