বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, টাঙ্গাইল। সংক্ষেপে 'বিটেক' টাঙ্গাইল নামে পরিচিত। কলেজটি ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত কলেজ হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে। ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সম্পন্নকারী ছাত্রছাত্রীরা একমাত্র উচ্চ শিক্ষা তথা বি.এস.সি কোর্স করার সুযোগ পায়, এই প্রতিষ্টানে। ফলে দিনে দিনে প্রতিষ্টানটি সারাদেশের টেক্সটাইল ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য উচ্চ শিক্ষার আস্তার প্রতিক হয়ে দাড়িয়েছে।
"চম্পা সাহা"।
এই কলেজের ২য় ব্যাচের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। প্রকৌশল অঙ্গনে মেয়েদের পদচারনা তুলনামুলক কম হলেও, তিনি প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফলে অনন্য স্বাক্ষর রাখতেন।
প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাঙ্থিত স্বপ্ন ভাল ফলাফল করা। গত বছরে ২য় বর্ষের সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতিও তার ভাল ছিল। খুব যত্ন করে প্রতিটি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতেন আর পরীক্ষা দিয়ে স্বত্বির নি:শ্বাস ফেলতেন। যথারিতী "স্ট্যাটিসটিকস" পরীক্ষা ভাল দেয়ার পর স্বত্বির নি:শ্বাস ফেলতে না ফেলতেই এক কলেজ শিক্ষকের ফোন মারফত শুনতে পান, সেদিনের পরীক্ষার উত্তরপত্রটি তার হারিয়ে গেছে। তার স্বত্বির নি:শ্বাস হয়ে যায় চরম দির্ঘশ্বাসের আর কষ্টের।
কলেজ কতৃপক্ষ যথারিতী দায়সাড়া ভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সচরাচর বাংলাদেশের প্রতিটি তদন্ত কমিটি যা করে এই কলেজের তদন্ত কমিটিও তাই করে। দীর্ঘ ৬ মাস ধরে তাদের তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আদৌ সেই তদন্ত কমিটির তদন্তের ফলাফল উর্ধত্বন কতৃপক্ষের কাছে জমা দিতে পারবে কি না(!!!!), সন্দিহান।
তদন্তের ফলাফল বেরিয়ে না আসলেও চম্পা সাহার ফলাফল স্থগিত রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২য় বর্ষের ফলাফল ঘোষনা করে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উক্ত শিক্ষার্থীর ৩য় বর্ষের ভর্তির বিষয়ে কোন নির্দেশনা না আসায় কলেজ কতৃপক্ষও উক্ত শিক্ষার্থীকে ৩য় বর্ষে ভর্তি করতে পারছে না। ফলে শিক্ষার্থীটির এই গর্বিত শিক্ষা জীবন চরম হুমকির আর অনিশ্চয়তার সম্মুখিন।
কলেজ প্রশাসনের চরম অদক্ষতা আর সীমাহীন অদক্ষতার ফল স্বরুপ চম্পা সাহার শিক্ষাজীবন আজ বিপর্যস্ত। উপরন্তু যেসব শিক্ষকের ছত্রছায়ায় উত্তর পত্রটি হারিয়ে যায় কলেজ প্রশাসনে সেই সব শিক্ষকরা বহাল তবিয়তে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীটি ৬টি মাস ধরে কলেজ প্রশাসনের নিকট অনেক আবেদন, স্মারকলিপি দেয়া সত্বেও, পেয়েছে চরম অবহেলা আর অধ্যক্ষের কথার ফুলঝুড়ি। না পেয়েছে ফলাফল, না পেয়েছে শিক্ষা জীবনের নিশ্চয়তা, না পয়েছে সান্তনা সেই সব পিতৃতুল্য শিক্ষকের কাছে।
শিক্ষকেরা পিতৃতুল্য। প্রতিটি শিক্ষার্থীই তাদের শিক্ষকদেরকে পিতার মত সম্মান করে। শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা করে সেই সব পিতৃতুল্য "শিক্ষক বেশধারী শিক্ষক"দের প্রতি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিটেক কলেজ প্রশাসন ও বস্ত্রদপ্তরের কাছে দাবী জানাচ্ছি যে অনতিবিলম্বে উক্ত শিক্ষার্থীর ফলাফল ঘোষনা আর শিক্ষাজীবনের নিশ্চয়তা দেয়া হোক। কথিত তদন্ত কমিটির প্রতিবিদেন প্রকাশ করা হোক। এই ঘটনার পেছনে যাদের মদদ বা হস্তক্ষেপ বা লম্বা হাত রয়েছে, তাদের বের করে কঠোর শাস্তি দেয়া হোক। সেদিনের পরীক্ষার পরীক্ষক ও পরীক্ষার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের অবিলম্বে কলেজ প্রশাসন থেকে বহিষ্কার করা হোক। অধ্যক্ষের চরম অবহেলা আর অদক্ষতার জন্য অধ্যক্ষকে কলেজ প্রশাসন থেকে অব্যাহতি দেয়া হোক। অনতিবিলম্বে এই কলেজের স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পড়াশুনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


