হুমায়ূন আহমেদ আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে যে জায়গা দখল করে আছেন তা অভাবনীয় কিন্তু সমালোচকের দৃষ্টিতে বাংলা সাহিত্যে তার অবদান স্বীকার করার জন্য অপেক্ষা করতে হল তার 'না ফেরার দেশে'- ঈশ্বর দর্শনে যাওয়া পর্যন্ত, যদিও আমার মত অসংখ্য পাঠক তার লেখায় হাসি কান্নায় গড়া বাস্তব পৃথিবীর না দেখা জগতটাকে অথবা বাঙালি পরিবারে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলির সুনিপুন বর্ণনা পড়েছেন এই জাদুকরের জাদুর কলম হতে বিচ্ছুরিত ৩৬২ টি গ্রন্হ ও আরও অনেক গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস আর নাটকে। তাই অমর এই কথাশিল্পীর প্রয়াণে দৈনিক পত্রিকাগুলোর শুক্রবারের সাহিত্য সাময়িকীগুলো নিজেদের কিভাবে উপস্হাপন করেছে তা দেখে নেই এক নজরে-
সমকাল (কালের খেয়া )
আমার সবচেয়ে ভাল লাগল কালের খেয়ার আয়োজন তাই সবার আগে এইটা দিলাম.....
এখানে আছে সাহিত্যিক ইব্রাহিম খাঁকে নিয়ে তার অগ্রন্থিত রচনা- "একজন মানুষের গল্প"
চুম্বক অংশ:
১৯৭৬ সালের এপ্রিল মাসে আমি ইবরাহীম খাঁ সাহেবের মেজো নাতনিকে বিয়ে করি [বার বছরের সেই বালিকা পাঠিকা]। বাংলাদেশের অন্য সব নাত-জামাইদের মতো তখন আমি তাঁকে যেকোন সময় বিরক্ত করার পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করি। কত সময় যে কাটিয়েছি তাঁর ঘরে! কত বিচিত্র বিষয় নিয়ে কত বিচিত্র আলোচনা! তাঁর প্রিয় বিষয় হচ্ছে ইতিহাস। তিনি শুরু করতেন ইতিহাস। আমি তাঁকে টেনেটুনে নিয়ে আসতাম ভূত-প্রেতের গল্পে। ভূত-প্রেত আমার সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে পুরোপুরি নাস্তিক ছিলেন। আমি কিছু কিছু অলৌকিক গল্প বলে তাঁকে ব্যাখ্যা করতে বলতাম। তিনি দেখতাম কিভাবে কিভাবে খুবই বিশ্বাসযোগ্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতেন। তার নিজের জীবনে অলৌকিক ঘটনার তিনি অবিশ্যি কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এছাড়াও আছে শওকত আলীর রচনায় "হুমায়ূননামা", নাসির আলী মামুনের রচনায় "হুমায়ূন আহমেদের ক্যামেরা", ফরিদ আহমেদ লিখেছেন ''প্রকাশনার বরপুত্র''।
মাহবুব আজীজ এর " আনন্দ, বেঁচে থাকা, নিয়তি এবং হুমায়ূন আহমেদ" এই লেখাটিতে তার ব্যক্তিদর্শণের একটা দিক উম্মোচিত হয়েছে এভাবে-
আত্মবিশ্বাসী হুমায়ূন বলে চলছিলেন...এক পর্যায়ে বললেন-
_টেপ রেকর্ডার বন্ধ কর। এখন যা বলব, তা ইন্টারভিউয়ের অংশ না।
আমি টেপ রেকর্ডার বন্ধ করলাম।
_শোনো। দেখে তো লেখক বলেই মনে হয়; আর যা-ই কর, নিজের সংসার ভেঙে কিছু করো না....
এরপর তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। সমানে সিগারেট টেনে চললেন।
আরও আছে ১৯৮৬ সালে লেখা তার গল্প 'আনন্দ বেদনার কাব্য', ১৯৯০ সালে লেখা গল্প "ছায়াসঙ্গী", তার মায়ের লেখা 'কাজল', তার রচিত বহুল জনপ্রিয় ৫ টি গানের কথা 'একগুচ্ছ গান',
লিংক: কালের খেয়া
প্রথম আলো:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, মাহমুদুল হক এদের মতই যার কথা সাহিত্য আমাকে আন্দোলিত করে সেই আনিসুল হক সব পাঠকের হয়ে সবচেয়ে সুন্দরভাবে হুমায়ুনকে উপস্হাপন করেছেন প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকী হুমায়ূন স্মরনেতে- "পাঠকের নিজস্ব হুমায়ূন" -এই লেখায়।
'অন্য সব পাঠকের মতো, দর্শকের মতো আমারও আছে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে অনেক ব্যক্তিগত স্মৃতি। না, আমি তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়া না-হওয়ার কথা বলছি না। বলছি একজন পাঠক বা দর্শক হিসেবে হুমায়ূনকে কখন পেলাম, কীভাবে পেলাম, সেসব কথা।'
২২ মে ২০১১ সালে নেওয়া আলীম আজিজ ও তৈমুর রেজার সাক্ষাৎকারটির প্রেম ও সৃষ্টিরহস্য-বিষয়ক আলাপচারিতার কিছু চুম্বক অংশ তুলে ধরা হয়েছে "কিছু অলৌকিক ঘটনার বয়ান" - এই লেখায়। এটি হুমায়ূন আহমেদের অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার।
দেয়াল হুমায়ূন আহমেদের রাজনৈতিক উপন্যাস। এর তিনটি অধ্যায় লেখক প্রথম আলোকে দিয়েছিলেন। যার দুটি অধ্যায় ১১ মে ২০১২ তারিখে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটির অপ্রকাশিত সপ্তম অধ্যায়টি এবার প্রকাশ করেছে প্রথম আলো। দেখা যাক মৃত্যুর পর তার এই উপন্যাস নিয়ে কে কিভাবে সমালোচনা করেন.....
'শাহ আবদুল করিম শুধু নয় হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন আরও অনেক বাউল-শিল্পীর সমঝদার'- এই বলে শাকুর মজিদ লিখেছেন- " হুমায়ূন, ভাটির পুরুষ ও কিছু মুগ্ধতার গল্প "।
"মৃদু মানুষের দ্রষ্টা" - শিরোনামে ফারুক ওয়াসিফ আমাদের প্রিয় কথার জাদুকর হুমায়ূনকে নিয়ে বলেছেন এভাবে-
'আশির দশকে এই মধ্যবিত্ত বড় স্বপ্ন হারিয়ে ফেলেছে। ঘর-সংসার-চাকরি-প্রেম এবং হঠাৎ গরিমার মধ্যে নিজেকে দেখার সাধ ছাড়া তাদের আর কিছু নেই। এদের কথা পশ্চিমবঙ্গের নিমাই-শংকর-সুনীল-শীর্ষেন্দুরা কোনো দিন বলেননি। বলার কথাও নয়। মহান কথাশিল্পীরা চিরটা কাল এদের শ্লেষভরা রসকষ উপেক্ষা করে মানবতার প্রবাহ খুঁজেছেন আরও তলার মানুষের জীবনে। অথচ এরা আছে, একটু একটু করে জীবন গোছাচ্ছে, জগৎ-সংসারের মধ্যে আরও ঘন হয়ে লেপ্টে থাকতে চাচ্ছে। এই বিরাট মধ্যবিত্ত সমাজের সাংসারিক আর অলীক আকাঙ্ক্ষার বিশ্বাসী জীবনীকার তিনি। আর কিছু না হোক, উঠতি বাঙালি মুসলমান সমাজের আটপৌরে জীবনী খুঁজতে হুমায়ূনকে আমাদের লাগবেই।'
এছাড়াও রয়েছে তার সেরা গল্পের একটি- "চোখ" ।
লিংক: প্রথম আলো- সাহিত্য সাময়িকী
যুগান্তর:
সালেহ চৌধুরী লিখেছেন 'ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্বের স্মৃতি', মুহম্মদ নূরুল হুদা লিখেছেন 'নুহাশপল্লীর হুমায়ূন', বই নিয়ে এক পৃষ্ঠায় রয়েছে তার কিছু বইয়ের উপর একটা প্রতিবেদন। তবে যুগান্তর সাহিত্যে-হুমায়ূনকে নিয়ে সেরা লেখাটা লিখেছেন আন্দলিব রাশদী ' ঈদসংখ্যায় হুমায়ূন আহমেদের লেখা আছে তো?' এই শিরোনামে। এছাড়াও রয়েছে নিবেদিত কবিতা 'চিরজীবিত হুমায়ূনের জন্য' .....
লিংক:যুগান্তর সাহিত্য
কালের কন্ঠ (শিলালিপি):
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত "জোছনা ও জননীর গল্প" কে মহাকাব্য আখ্যা দিয়ে ইমদাদুল হক মিলন লিখেছেন -
'হুমায়ূন আহমেদের 'জোছনা ও জননীর গল্প' শুধু উপন্যাস নয়, উপন্যাসের চেয়ে বেশি কিছু। এ হচ্ছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত এক মহাকাব্য। এত সার্থক সুন্দরভাবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আর কিছু রচিত হয়নি। বাঙালির ঘরে ঘরে এই গ্রন্থ অত্যন্ত যত্নে ও মায়ায় রক্ষিত হবে। কোনো কোনো জোছনা রাতে বাংলার গ্রাম-প্রান্তরের দাওয়ায় বসে একজন তাঁর উদাত্ত গলায় পড়বেন এই উপন্যাসের একেকটি অধ্যায় আর তাঁর চারপাশ ঘিরে বসে থাকা শ্রোতারা চোখের জলে ভাসবে। এই উপন্যাস তাদের ফিরিয়ে নেবে স্বপ্ন ও দুঃস্বপ্নের সেই মিশ্র সময়ে_ ১৯৭১।'
নাটক-উপন্যাসে অনেক জনপ্রিয় চরিত্র জন্ম দিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। সবচেয়ে আলোচিত হিমু, মিসির আলি আর বাকের ভাই। এই তিন চরিত্র নিয়ে আহমেদ রিয়াজ লিখেছেন "হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট চরিত্র হিমু-মিসির আলি-বাকের ভাই "। রয়েছে তার বায়োডাটা 'একনজরে হুমায়ূন আহমেদ'।
হুমায়ূন আহমেদের ৬২তম জন্মদিন উপলক্ষে ধানমণ্ডিতে তাঁর 'দখিন হাওয়া' বাড়িটিতে গিয়েছিলেন ফিরোজ এহতেশাম ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর। ওই দিন ঘরোয়া আড্ডার ফাঁকে ফাঁকেই প্রায় দুই ঘণ্টা কথা হয় হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে। সেই কথোপকথনেরই নির্বাচিত অংশ নিয়ে "যখন সময় হবে চলে যাব" সাক্ষাৎকারে রয়েছে মৃত্যুচিন্তা নিয়ে, প্রেম নিয়ে, ঈশ্বর বিষয়ে, লজিক আর এন্টি লজিক নিয়ে তার অকপট স্বীকারোক্তি ....
এছাড়াও রয়েছে হুমায়ূন আহমেদের গল্প 'খাদক'..
লিংক: কালের কন্ঠ: শিলালিপি
ইত্তেফাক:
এখনও সবগুলো লেখা পড়িনি। মোহিত কামালের "অনন্য হুমায়ূন আহমেদ" ভাল লাগল।
এছাড়া রয়েছে মাসুদুজ্জামানের লেখা হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস নিয়ে "জনপ্রিয়তা কি শিল্পের শত্রু" শিরোনামে একটি প্রবন্ধ, বিশ্বজিত সাহার "উড়ে যায় একলা পাখি" শিরোনামে নিউইর্য়কে হুমায়ূনের শেষ দিনগুলোর কথা, বিধান রিবেরু লিখেছেন "চলচ্চিত্রে হুমায়ূন আহমেদ নতুন কি বলেছেন", আর মোশতাক আহমদ "তিন টুকরো গল্পে হুমায়ূন"- কে তুলে আনার চেষ্টা করেছেন।
'জলিল সাহেবের পিটিশন' -গল্পটা আবার ছাপিয়েছে সাহিত্য ও শিল্প-সংস্কৃতি বিষয়ক ইত্তেফাকের এই সাময়িকীটি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সবগুলো সাময়িকী পড়ে "প্রথম আলোর"- টা বেষ্ট মনে হল। আপনারা কি বলেন?????

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

