somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রশান্তি

০২ রা অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৫:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য মানসিক প্রশান্তির কোনো বিকল্প নেই। আর এ জন্য সুস্থ সমাজ ও নিরাপত্তার অনুভূতিও অপরিহার্য। কেবল প্রশান্তির মধ্যেই মানুষের উন্নত গুণগুলোর বিকাশ এবং পরিপূর্ণতা অর্জন সম্ভব হয়। আধুনিক যুগে মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক ও মানসিক সংকট এবং আধ্যাত্মিক শুন্যতা ব্যাপক মাত্রায় বিরাজ করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বে শারীরিকভাবে অসুস্থ লোকদের শতকরা ৮০ জনই শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক ও আত্মিক সমস্যা বা চাপেও ভুগছেন।

মানব জাতি আজ ব্যক্তি ও সমাজ জীবনসহ জীবনের সব ক্ষেত্রে শান্তির জন্য হন্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু কিভাবে কাঙ্ক্ষিত শান্তি ও সুখ অর্জন করা যায় তা জানা না থাকায় তারা ব্যাপক হতাশা বা দুশ্চিন্তার শিকার। বিজ্ঞানের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাহ্যিক কিছু আরাম-আয়েশের অনেক উপকরণ তৈরি করা সত্ত্বেও মানুষ তার আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তির মাধ্যম বা উপকরণগুলোর যোগান দিতে পারছে না।

খোদায়ী বা ঐশী ধর্ম মানুষের আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তির অন্যতম প্রধান উৎস। সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ ধর্ম ইসলাম পরিপূর্ণ মানসিক প্রশান্তির গ্যারান্টি দেয়। ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস সব ধরনের নিরাপত্তার উৎস। এ বিশ্বাস এনে দেয় মানসিক সুখ। দূর করে সব ধরনের ভয়, উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা।

ইসলাম তথা মহান আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ মানুষের জীবনে হতাশা ও উদ্বেগের ঘন কালো মেঘ দূর করে তাদের জীবনে নিয়ে আসে প্রশান্তির নির্মল স্বচ্ছ আকাশ এবং আশার প্রাণবন্ত আলো-বাতাস মানব জীবনকে করে ফুলে ফলে সুশোভিত ও বিকশিত। মহান আল্লাহর স্মরণের অমৃত ঝর্ণাধারাই মানুষের অতৃপ্ত মরুময় মনে প্রশান্তির এই সবুজ উদ্যান গড়ে তোলে। পবিত্র কুরআনের সুরা রা'দের ২৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

"জেনে রাখ, কেবল আল্লাহর স্মরণেই অন্তরগুলো শান্তি পায়।"

এই আয়াতের মর্মার্থ হল, মহান আল্লাহই নির্ভরতার একমাত্র উৎস। কারণ, সব কিছু তাঁরই কর্তৃত্বাধীন। বৈষয়িক ও প্রাকৃতিক শক্তিগুলোর উর্ধ্বে মহান আল্লাহর চিরন্তন, অশেষ এবং অক্ষয় শক্তির প্রতি বিশ্বাস বিশ্ব জগত সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। মহান আল্লাহর শক্তি ও ক্ষমতা অশেষ হওয়ায় তা অনন্য। এই শক্তির ওপর নির্ভরতার কারনে মুমিন সমস্যার পাহাড় বা সাগরকেও তুচ্ছ মনে করে এবং বিন্দুমাত্রও মনোবল হারায় না।

আল্লামা তাবাতাবায়ীর মতে, মানসিক প্রশান্তি ঈমানের একটি উচ্চতর পর্যায়ের নিদর্শন। এ ধরনের মানুষ হন দৃঢ়চেতা ও প্রজ্ঞার অধিকারী। প্রশান্তি কেবল পবিত্র অন্তরে ও খোদাভীরু ব্যক্তির হৃদয়েই নেমে আসে। আর এই প্রশান্তি ক্রমেই তার ঈমানকে দৃঢ় করে এবং বৃদ্ধি করে খোদাভীতি বা তাকওয়া। মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত তার বিবেক বুদ্ধি খাটিয়ে সৎ পথে চলে এবং অসৎ পথ বর্জন করে ও কুপ্রবৃত্তিকে দমন করে ততক্ষণ তার মধ্যে প্রশান্তি বিরাজ করে। কিন্তু মানুষ যখনই কুপ্রবৃত্তির দাসে পরিণত হয় এবং হারিয়ে ফেলে ন্যায়বিচারবোধ তখন এই প্রশান্তিও হারিয়ে যায়। তাই প্রশান্তি অর্জনের জন্য পাপাচার থেকে দূরে থাকতে হবে। পাপ মানুষের মধ্যে জন্ম দেয় হতাশা, দুশ্চিন্তা ও সন্দেহ।

মানুষের মনে প্রশান্তির মাত্রা নির্ভর করে তার ঈমানের গভীরতার ওপর। মানুষ যত বেশি আল্লাহর অনুগত হয় এবং অন্য সব শক্তির কর্তৃত্ব থেকে বেশি স্বাধীন হয় ততই তার মধ্যে ঈমান জোরদার হয় ও প্রশান্তিও বাড়তে থাকে। মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান মানুষের মধ্যে জাগিয়ে তোলে আশার অফুরন্ত আলো ও দৃঢ় আত্মবিশ্বাস। মার্কিন মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম জেমস বলেছেন, যতই দিন যাচ্ছে ততই আমার এ বিশ্বাস দৃঢ় হচ্ছে যে, আল্লাহর সহায়তা ছাড়া জীবনযাত্রা সচল রাখা অসম্ভব এবং ঈমানবিহীন মানুষের পতন অনিবার্য।

মহান আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল মানুষের মধ্যে কষ্ট-সহিষ্ণুতা ও বিপদ বা সংকট মোকাবেলার ধৈর্য থাকে অসাধারণ মাত্রায়। এ জন্যই ঈমানদার ব্যক্তিরা কখনও হতাশ হন না এবং ভীত-সন্ত্রস্ত হন না। এই শ্রেণীর মানুষকেই মহান আল্লাহ নিজের আওলিয়া বা বন্ধু বলে উল্লেখ করেছেন এবং তাদের কাছে আল্লাহ ছাড়া অন্য সব কিছুর শক্তিই তুচ্ছ। যে মহাসাগর দেখেছে সে এক ফোঁটা পানিকে গুরুত্ব দেয় না এবং যে সূর্যের আলো দেখেছে সে একটি মোমবাতির আলোকে নগণ্য মনে করে। অবশ্য আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পর্কের প্রভাব ও প্রশান্তির মাত্রা, এই সম্পর্কের গভীরতার ওপর নির্ভর করে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×