ছোট বেলা্য় নাকি আমি অনেক শান্ত ছিলাম তবে সেটা পড়ার সময়,স্কুলের শিক্ষকেরা সেটা ভালকরেই জানতো।দুষ্টমি আর মারামারির ক্ষেত্রে ছিল আমার অসাধারণ প্রতিভা।তারই পুরষ্কার স্বরূপ কতবার যে আমাকে কানধরে উঠবস করতে হয়েছে তার ইয়াত্তা নেই।খেলাধুলায় কিন্তু অনেক পাকা ছিলাম ; যে কোন খেলা খেলতে অনেক ভাল লাগত,মনে হতো এটা আমাকে একটা জব দেওয়া হয়েছে।ফুটবল,ক্রিকেট,হাডুডু এবং কী হকিও ভাল খেলতাম।কী বলছি নিজের কথা,আমি আর কি ভাল খেলতাম নিলয় ছিল আমাদের মাঝে সবচেয়ে ভাল খেলয়ার।যেমনি খেলায় তেমনি পডালেখায়ও সমান পারদর্শী ছিল সে ;ওমা নিলয় কে তো চিনতে পারেননি? আমাদের গ্রামেরই ছেলে।ছোট বেলা থেকেই গ্রামে বড় হয়েছিতো তাই গ্রামের কত কিছুর স্মৃতি য়ে নিজের মাঝে জড়িয়ে আছে তা বলে শেষ করা য়াবে না।আমরা সমবয়সী দশ-বারজন বন্ধু ছিলাম-ফজলু,ওয়াসিম,বাডল,রবি,শহিদুল,উসমান আর অনেকে ;কার কার নামও ভূলে গেছি।সময়ের বির্বতনে অনেকেই অনেক জায়গায় বিভক্ত হয়ে পরেছি।স্মৃতির পাতায় মনের অন্তরালে সেইসব দিনগুলোর কথা জমা হয়ে আছে একদম ভাজে ভাজে।খেলাধুলা,নাটক,গান-বাজনা য়াই হউক না কেন আমাদের অদম্য স্পৃহা ছিল তা উপভোগ করার । একবার হয়েছে কি আমাদের গ্রাম থেকে কয়েক ক্রোশ দূরে ভাটিতে নৌকা বাইছের বিশাল আয়োজন। আমাডের তো যেতেই হবে আর তখনকার দিনের একটা আলগা ভাব ছিল নৌকার মধ্যে বড় অডিও প্লেয়ার ও স্পিকার নিয়ে গান বাজানো। ইস সে কি অবস্থা ! যথারীতি সকল আয়োজন সম্পূ্র্ণ হলো।আমাদের একটি বিশাল বড় নৌকা ছিল সেই নৌকা নিয়েই আমরা রওনা দিলাম অনেক আগে।সকলের হাটেই একটি করে বইঠা ; সবাই মিলে একসাথে নৌকা বাইতে শুরু করলে পঙ্খীরাজের মতো পানির উপরে ছলাৎ ছলাৎ করে চলতে শুরু করলো আমাদের নৌকা।প্রায় ঘণ্টা দুয়েক পর আমরা নির্দিষ্ট স্থানে পৌছলাম।তারপর একটি খালি জায়গায় নৌকা বেধেঁ আমরা রান্না করলাম,সবাই মিলে রান্না করে খাওয়া কি য়ে মজার ! খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমরা আবার নৌকা ভাসালাম।এরইমধ্যে নৌকাবাইচ প্রতিয়োগিতা শুরু হয়ে গেল প্রচন্ড উত্তেজনা ও হইচই এর মধ্য দিয়ে।ভাদ্র মাস, চারিদিকে পানিতে থইথই করছে, এরই মাঝে চলছে তুমুল নৌকা বাইচ।আমরা অনেকটা নদীর মাঝখান দিয়ে চলছিলাম যাতে করে খুব কাছে থেকে দেখা যায়।বর্ষার জোয়ারের সাথে সাথে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিল ; চারিদিক অন্ধকার।প্রায় দশ-বারটি নৌকা একসাথে প্রতিয়োগিতা হচ্ছিল ,আর পাশ দিয়ে ছিল শ-খানেকের বেশি ট্রলার।বাইচের নৌকা গুলো যখন প্রচন্ড গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে আসতেছিল তখন আমরাও হইহুল্লর করতেছিলাম।এমন সময় হঠাৎ করে নৌকাগুলো একসাথে জড়ো হয়ে যায় এবং একটির উপর আরেকটি নৌকা উঠে যায়।সংগে সংগে প্রচন্ড মারামারি।আর মারামারির মধ্যে পরে আমাদের নৌকাটা ডুবে যায়।যে যার মত সাতার দিলাম ,কে কোথায় হারিয়ে গেল জানিনা।আমি কোন মতে সাতার কেটে একটি ট্রলারের আশ্রয়ে পৌছে ছিলাম।রাত ১০ টার পর কমিটির সাহায্যে বিভিন্ন মাধ্যমে সবাই একজায়গায় হতে পেরেছিলাম ।শুধু একজন বাকি ছিল......আজও সে পৌছাতে পারেনি।আজও আমাদের বন্ধুদের মাঝে সে শূন্যতা রয়ে গেছে।এখোনো নিলয়কে খুজি ঘুমের ঘোরে অন্ধকারে।বন্ধু তোকে মিস করছি ভিষণ......আজ বন্ধু দিবসে তোকে হৃদয়ের মাঝে খুজে বেড়াচ্ছি।ভাল থাকিস বন্ধু যেখানেই থাকিস না কেন।
আলোচিত ব্লগ
শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এমন কেন?
একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।
শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।