somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কল্পদ্রুম
জ্ঞানিরা বলেন মানুষ জন্মমাত্রই মানুষ নয়,তাকে যোগ্যতা অর্জন করে তবেই মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে হয়।যোগ্যতা আছে কি না জানি না,হয়তো নিতান্তই মূর্খ এক বাঙ্গাল বলেই নিজেকে নির্দ্বিধায় মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফেলি।

ধর্ম যার যার উৎসব সবার

২৩ শে মে, ২০২০ রাত ১১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


উৎসব সমসময় আনন্দের। তবে ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে কেবল আনন্দই সব কথা নয়। এ ধরণের উৎসবের দুইটা দিক থাকে। একটা পার্থিব দিক। আর একটা আধ্যাত্মিক দিক। একটি দৃশ্যমান। অন্যটি অদৃশ্য।

ঈদের ক্ষেত্রেই ধরা যাক। ঈদের জামায়াতে নামাজ,মোনাজাত,দান খয়রাত ইত্যাদি হলো আধ্যাত্মিক দিক। এই আধ্যাত্মিক আনন্দ কিন্তু কেবল একজন রোজাদার মুসলমানের পক্ষেই পাওয়া সম্ভব। রোজা রাখা একটা সাধনা। সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করা এবং তাকে বুঝবার একটা প্রক্রিয়া। যিনি এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাননি তিনি এই আনন্দ অনুভব করতে পারবেন না।

ঈদের কিছু পার্থিব দিকও আছে। যেমন ধরা যাক নতুন জামা কাপড়,সাজ গোজ। ভালো খাবার দাবার।ঈদ সালামি। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন কালচারাল প্রোগ্রাম,ঈদ আড্ডা,কনসার্ট ইত্যাদি ইত্যাদি। আধ্যাত্মিক দিকের চেয়ে পার্থিব দিকটাই বেশি বৈচিত্র‍্য পূর্ণ এবং এই আনন্দটাই সার্বজনীন। এই আনন্দ উপভোগের জন্য কাউকে রোজাদার হতে হয় না। মুসলমান হওয়াটাও মুখ্য নয়।

এখন ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে পার্থিব না আধ্যাত্মিক—কোন দিকটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ কিংবা কেউ একটিকে বাদ দিয়ে কেবল অন্য দিকটি উদযাপন করতে পারে কি না সেটি ভেবে দেখা উচিত। কারণ দেখা যাচ্ছে সময়ের সময়ের সাথে আমরা যে কোন একটি দিককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। বিশেষত পার্থিব দিকটিকে।

পশ্চিমবাংলার সাধারণ মানুষ এবং অনেক শিক্ষিত সাহিত্যিকদের ধারণা বাংলাদেশের মানুষ পুরোপুরি বাঙ্গালি নয়। কেন বাংগালি নয় তার একটা যুক্তি হলো আমরা বাঙ্গালি হয়ে আরবি নাম রাখি। আরবদের উৎসব পালন করি। বাঙ্গালিদের সার্বজনীন উৎসব আমরা পালন করি না। আর আমাদের বাংলা ভাষার কথা তো বাদই। বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ ঢাকায় না কলকাতায় এটা নিয়ে একটা গুবলেট বিতর্ক হয়েছিলো কলকাতায়। ইউটিউবের কল্যাণে তা দেখা হয়েছে। কেউ সময় পেলে দেখে নিয়েন। বেশ মজা পাবেন।

তো কথা হচ্ছে বাঙ্গালির সার্বজনীন উৎসব কোনগুলো? পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন, নবান্ন, চৈত্র সংক্রান্তি এগুলোকে সার্বজনীন বলা যায়। কিন্তু এসব তো তারাও পালন করে, আমরাও করি! তাহলে আর কি বাকি আছে!

এগুলো ছাড়াও বাঙ্গালিদের আরো উৎসব আছে। যা আসলে বাঙ্গালি ধর্মীয় উৎসব। কিন্তু এ জাতীয় উৎসবকে খুব সুন্দর করে বলা হয় সার্বজনীন উৎসব। যেমন 'সার্বজনীন দূর্গা পূজা।' এছাড়া আরো অনেক পূজা পার্বণ আছে। দুই বাংলা জুড়ে এসব পালন করা হয়। সে হিসেবে এগুলোও সার্বজনীন।

কিন্তু ধর্মীয় উৎসব তো নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষদের জন্য হওয়ার কথা। তাহলে 'সার্বজনীন দূর্গা পূজা' সার্বজনীন হয় কি করে! আর যদি পূজাকে সার্বজনীন করা যায় তবে ঈদকে কেন করা যাবে না। তাই আমরাও খুব জোরেসোরে সবখানে বলি 'ধর্ম যার যার উৎসব সবার'। কিন্তু স্লোগানটা একটু নীচু স্বর হয়ে যায় কোরবানি ঈদের সময়।

অনেকে ধর্মকে সংস্কৃতির সাথে মিলিয়ে ফেলেন। যেমন পশ্চিম বাংলার কিছু বুদ্ধিজীবীরা করেন। আমাদের দেশেও অনেকে করেন। সেটা ঠিক না। বরং ধর্মের সাথে প্রচলিত সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক প্রথার একটা দ্বৈরত আছে। এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য। বিশেষ করে আব্রাহামিক ধর্মগুলোর। আরো বিশেষ করে ইসলামের মত বৈপ্লবিক ধর্মের। যেখানে ইসলাম প্রচলন হওয়ার পর আরবের প্রচলিত অনেক প্রথা বন্ধ হয়ে গেছিলো। আবার অনেক কিছু চালু ছিলো। ধর্ম এবং ঐতিহ্য মিলে মিশে যেটা শেষ পর্যন্ত টিকে গেছে। সেটাই আরবের সংস্কৃতি। প্রকৃত পক্ষে শুধু আরব বলা ঠিক না। এই সংস্কৃতির বৈচিত্র‍্য বিশাল আরব ভূখন্ডের অঞ্চলভেদেও এক এক রকম।

একই কথা বাংলাতেও প্রযোজ্য। ইসলাম বাংলাতে ধর্ম হিসেবে এসেছে সাতশো বছর আগে। এত দিনে বাঙ্গালি মুসলমানদের যে কাজ কর্ম অর্থাৎ যা খায়, যা বলে এবং যা করে তা সত্যিকারভাবে বাঙ্গালি সংস্কৃতি। আরবের সংস্কৃতি নয়।



এখন আগের কথায় ফিরে যাই। যেহেতু উৎসবটা ধর্মীয় সেহেতু ধর্মকে বাদ দিয়ে শুধু উৎসব পালন করা অর্থাৎ আধ্যাত্মিক দিকটা বাদ দিয়ে শুধু পার্থিব দিককে গুরুত্ব দেওয়া ঠিক নয়। পৃথিবীতে অনেক উৎসবের শুরুটা ধর্মীয় ভাবে। কিন্তু পরে উৎসবটা রয়ে গেছে। ধর্মটা হারিয়ে গেছে। ইসলামের মত বড় ধর্মের ক্ষেত্রে ধর্ম হারাবে না। তবে ধর্মীয় জ্ঞান হারিয়ে যেতে পারে। যদি আমরা সেটা না চাই তাহলে শুধু একটিকে উদযাপন করা উচিত নয়।

আর যারা দেশে এবং দেশের বাইরে থেকে ভাবেন ঈদ আরবদের উৎসব তাঁদের এ ধারণাও একদমই ভিত্তিহীন। যারা ধর্ম বুঝেন তারা জানেন এটা সব জাতির 'মুসলিম'দের উৎসব। এখানে আরব অনারব বলে কোন কথা নেই।

শেষ কথা। যেহেতু ধর্মীয় উৎসবকে অন্যান্য উৎসব যেমন নবান্ন, পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুনের মত পার্থিব দিকটা আলাদা করে উদযাপন করা যাবে না(অথবা উচিত নয়)। সেহেতু এগুলো কখনো সার্বজনীন হতে পারে না। এতে মানুসিক কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। কেউ দয়া করে ভাববেন না এসব সার্বজনীনতার বিপক্ষে বলার মানে এই নয় যে আমি ঈদের সময় আমার অন্য ধর্মের বন্ধুকে দাওয়াত দেবো না। আমার পাশের ফ্লাটের অন্য ধর্মের পরিবারকে উপেক্ষা করবো। বাস্তবে আমরা বাঙ্গালিরা এরকমটা কেউ করি না। কিন্তু কথা হচ্ছে বাংলাতে অনেক সার্বজনীন উৎসব আছে। 'ধর্ম যার যার উৎসব সবার' এ জাতীয় স্লোগান দিয়ে জোর করে ধর্মীয় উৎসবকে সার্বজনীন করার চেষ্টা করার প্রয়োজন নেই। উলটো এসব করতে গেলে মনের অজান্তে নিজ ধর্ম এবং অন্যের ধর্মেও আঘাত দিয়ে বসার সম্ভাবনা আছে।

শেষ কথার পর আরো কিছু কথা। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির বাংলাদেশ চাই। অনেকে বলেন তারা 'সেকুলার বাংলাদেশ' চান। আমার ধারণা সেকুলারিজম প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আমরা এমন কথা বলি যা আসলে কাজের কথা না।

আরও একটি বিষয়। এটাকে ধর্মীয় গোঁড়ামি পূর্ণ, খুবই স্বার্থপর টাইপ লেখা মনে করার কোন কারণ নেই। সম্ভবত উপরের স্লোগানটা সামুরও খুব প্রিয়। সামুর প্রতি সম্মান রেখেই এটা কেবল গ্লাসের এপাশ থেকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা মাত্র। গ্লাসের ওপাশ থেকেও নিশ্চয়ই এর বিরুদ্ধে জোরালো ব্যাখ্যা আছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০২০ রাত ৩:৫৬
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাদীস সংগ্রাহক

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মে, ২০২০ দুপুর ১২:২৬



হাদীস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন মুসলমানদের জন্য।
যদিও দুষ্টলোকজন হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা করে থাকেন। তাতে সমাজে বিরুপ প্রভাব ফেলে। ইসলামকে আঁকড়ে ধরতে হয় মহাগ্রন্থ আল কুরআন এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুড ওল্ড নাইন্টিজ

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৭ শে মে, ২০২০ বিকাল ৪:৪২



আমরা গল্প করছিলাম সাত্তার মিয়ার চায়ের দোকানে বসে। সাত্তার মিয়া জঘন্য চা বানায়। আমার বন্ধু সোবহানের মতে এই চা ঘোড়ার মুতের সমতূল্য। সাত্তার মিয়ার সামনেই এসব আলোচনা করা হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাহায্যও নাকি আবার বেআইনী হয়? দুনিয়ার ম্যাঁওপ্যাঁও

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৭ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২২



আমি কুইন্স বরোর সীমানার সাথে লাগানো, লংআইল্যান্ডের একটা এলাকায় বেশ কিছু সময় চাকুরী করেছিলাম; এক সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে এক সাদা রমনীকে সাহায্য করে, ধন্যবাদের বদলে হুশিয়ারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি নিয়ে আসলে রাজনীতি করেছে কারা, ছবির জন্য নামাজ পড়িয়েছে কারা

লিখেছেন গুরুভাঈ, ২৭ শে মে, ২০২০ রাত ৮:২৪



ছবি দেখুন। আমাদের যে ছবিটা দেখানোর জন্য এই নামাজের আয়োজন করা হয়েছে আমরা শুধু সেই ছবিটাই দেখেছি এবং অনেকে দ্বিদ্ধানিত আছি এই ভেবে যে হয়ত আসলেই শুকনা জায়গা ছিলোনা বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেমন কাটালাম এবারের ঈদ!

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৭ শে মে, ২০২০ রাত ৯:১৩

(পোস্টটা গতকালের লেখা)

গতকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর গত হয়ে গেল! মনের মাঝে আনন্দ বিষাদের বিচিত্র সব অনুভূতি খেলা করে চলছিল সেই সকাল থেকেই। এবারের রোযার মাসটা আল্লাহতা’লার অশেষ রহমতে খুব ভাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×