somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কল্পদ্রুম
জ্ঞানিরা বলেন মানুষ জন্মমাত্রই মানুষ নয়,তাকে যোগ্যতা অর্জন করে তবেই মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে হয়।যোগ্যতা আছে কি না জানি না,হয়তো নিতান্তই মূর্খ এক বাঙ্গাল বলেই নিজেকে নির্দ্বিধায় মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফেলি।

চলে যায় করোনার দিন

২৮ শে মে, ২০২০ রাত ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার মনে হয় চিকিৎসক হিসেবে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকরা আন্ডার রেটেড। করোনার ব্যাপারটাই ধরা যাক। আমার এক নিকটাত্মীয় হোমিওপ্যাথি ডাক্তার। বাংলাদেশে করোনার প্রকোপ তখনো তেমন শুরু হয়নি। তিনি পরিচিত জনদের বললেন— 'তোমাদের চিন্তার কিছু নেই। আমার কাছে এর ঔষধ আছে।'

অনেকে সে ঔষধ নিয়েছেন। কথার জাদুতে পড়ে নিয়েছেন এমন নয়। ডাক্তার হিসেবে তার পরিচিতি ভালো। সেই বিশ্বাসে নিয়েছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ। অনেককে এই বিশ্বাসে গাছ গাছড়া চাবাতেও দেখেছি।

তবে শেষ রক্ষা হয় নি। জোয়ারের পানি বাঁধ টপকে ঢুকে গেছে। দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা গত তিন মাসে জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আমরা সাধারণ মানুষ উন্নত দেশগুলোর দিকে যেমন লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকাই। আবার তাদের অনেক কাজ কর্ম আমাদের কাছে সন্দেহ জনক মনে হয়। স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা তার মধ্যে প্রথম দিকে। গরীব দেশে এই দুইটা খাত নিয়ে তারা বেশি কাজ করে। এইটা একটা কারণ হতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতের ব্যাপারেই বলা যাক। স্বাস্থ্য খাত একটা বহুমাত্রিক দিক। এখানে গবেষণার ক্ষেত্র ব্যাপক। সেই সাথে বৈচিত্র‍্যপূর্ণ। পৃথিবী জুড়েই সুস্বাস্থ্য এবং কুস্বাস্থ্যের ধারণা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হচ্ছে। প্রতিটা উন্নত দেশগুলোর নিজের মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে আলাদা গবেষণা থাকে। সেটাই হওয়া উচিত। করোনাতেই দেখা যাচ্ছে এক এক অঞ্চলে তার কাজকর্ম এক এক রকম। করোনা ছাড়াও আরো বহু পরিচিত রোগের বিস্তার,বৈশিষ্ট্য এরকম অঞ্চল ভেদে পার্থক্য করে। নিজের সারভাইভালের জন্যই এই খাতের গবেষণা অত্যন্ত জরুরি।

আমাদের দেশে এইটা নিয়ে কোন উদ্যোগ নেই। স্বাস্থ্য খাতের যে কোন বিষয়ে গবেষণা জিরোর কাছাকাছি। আরো অনেক বিষয় নিয়েই আমাদের গবেষণা হয় না। এইটা পুরাতন কথা। উদ্যোগ নাই, পয়সা নাই। শিক্ষকরা নিজেরা দুই নম্বরি করে পেপার তৈরি করেন। এসব আক্ষেপের এখন কোন দাম নেই। তারপরেও কথা থাকে।

এই দেশে বাঁচার জন্য দুইটা খাত সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। একটা কৃষি। অন্যটা স্বাস্থ্য। কৃষি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমরা ঐতিহ্যগত ভাবে চাষা। যতই ইন্ড্রাস্ট্রিয়ালিস্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখি না কেন। কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ফসলের স্বাস্থ্য যেমন জরুরি। কৃষকের স্বাস্থ্যও তেমন। শুধু কৃষক নয়। আমরা বলি বাংলাদেশের সবথেকে বড় সম্পদ হলো তার জনসংখ্যা। এই জনসংখ্যার বড় অংশ হলো বয়সে তরুণ। যার একটা বড় সুবিধা পেয়েছি এই করোনা কালে।

কিন্তু এই বিপুল তরুণ জনসংখ্যা যদি মধ্য বয়সে এসে শ্বাসকষ্ট আর পেটের অসুখে ভোগে। দেশের কি তাতে কোন লাভ হবে? বেশি জনসংখ্যা আসলে সম্পদ না। সুস্থ জনসংখ্যাই হলো সম্পদ। সুস্থ রাখার জন্য দরকার স্বাস্থ্যবান স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। গরীব দেশের পক্ষে চালানো কঠিন। তারপরেও কিছু কাজ ইচ্ছা করলেই করা যায়। গণ স্বাস্থ্যে কিছু কাজ হচ্ছেও। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে? যেগুলো এনজিও গুলো করছে সেগুলো। ডোনারদের কাছ থেকে টাকা আনার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু। এতে নূন্যতম ভাবে বেঁচে থাকা যায়। জীবনের উন্নতি হয় না।

নিজস্ব গবেষণা ছাড়া কোন দেশ উন্নতি করতে পারে না। তাহলে স্বাস্থ্য খাতের মত এত জটিল এবং খরুচে কিন্তু জীবন বাঁচানোর জন্য ফরয একটা বিষয় কিভাবে বছরের পর বছর চলে যাচ্ছে? বাংলাদেশের অনেক রহস্যের ভিতর এটাও একটি। হয়তো উপরওয়ালার রহমত আছে। একটু চিন্তা করলে অবশ্য রহস্য আর রহস্য থাকে না। ভিতরের ফাঁকিবাজিটা টের পাওয়া যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ আজম দেশে যে প্রকৃতপক্ষে কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই সেটা নিয়ে বলছিলেন। তাঁর বক্তব্য স্বাস্থ্য খাতের ক্ষেত্রেও খাটে। আমরা কিছু জিনিস মুফতে পেয়ে গেছি। যেটা আমাদের পিঠ বাঁচাতে কাজে দিয়েছে। যেমন করোনাতেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা যতটা প্রকট ভাবে ধরা পড়ার কথা। ততটা পড়ছে না। গবেষণার ক্ষেত্রেও আমরা কিছু জিনিস মুফতে পাই। যেমন অনেক বৈশ্বিক গবেষণা ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশ মিলিয়ে করা হয়। ভারতের চিকিৎসকরা নানান বিষয়ে লেখেন। নীলখেতের কল্যাণে তাদের বইগুলো আমাদের দেশে পাওয়া যায়। আমরা তা গ্রহণ করে সন্তুষ্ট থাকি। জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালানোর চেষ্টা করি। ডাক্তাররা অর্ধেক যৌবন আর বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিদেশি ডিগ্রী আনেন। তাতে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানের কোন হের ফের হয় না। প্রতিবছর ১৪ লাখ মানুষ ঠিকই পাশের দেশে যান চিকিৎসা নিতে। আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেন আমাদের প্রস্তুতি ইউরোপ আমেরিকার থেকে ভালো।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় দায়িত্ব সবার। কিন্তু দায় কারো না। ফলে করোনা একসময় চলে যাবে। আমরা যেখানে আছি সেখানে থাকবো।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০২০ রাত ১০:০৪
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খেলারাম খেলে যাও দেখারাম দেখে যাও...

লিখেছেন সাইন বোর্ড, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৫৬


বলছি না যে সোনার বাংলার সব সোনা হঠাৎ করে শিশ্নতে এসে জমা হয়েছে আর মাঝে মাঝে তা ফাল দিয়ে উঠছে ।

তবে এর ব্যাবহার যাচ্ছেতাইভাবে বেড়ে গেছে । আসলে উন্নয়ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল (ষোল)

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:০৬



অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে গেছে!
শাহেদ জামাল চাকরি পেয়ে গেছে। তার ধারনা তার মতো এত এত সিভি আর কেউ জমা দেয় নি। বিডি জবস এ তার চোখ সব সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে পর্ণগ্রাফি, অশ্লীল ও অরুচিকর ছবি প্রদানকারীর পরিচয় সম্পর্কে।

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০১

প্রিয় সহব্লগারবৃন্দ,
আপনাদের জানার সুবিধার্থে বলছি, সামহোয়্যারইন ব্লগ এক ব্যক্তির একাধিক নিক রেজিষ্ট্রেশন সাপোর্ট করে। কারন অনেক লেখকই ছদ্ম নামে লেখালেখি পছন্দ করেন। কিন্তু যদি এটা প্রমানিত হয় যে, এই এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ছবি দেখে মনের ছবি ভেসে ওঠে....

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৪০


(সেদিনের আসন্ন সন্ধ্যায়, অস্তগামী সূর্যের ম্লান আলোতে আমাদের স্টীমারের সমান্তরালে সেই লোকগুলোর ক্লান্ত পায়ে হেঁটে চলার দৃশ্যটি আমার মনে আজও গেঁথে আছে)

‘পাগলা জগাই’ ওরফে ‘মরুভূমির জলদস্যু’ এ ব্লগের একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাসমতি চাল নিয়ে লড়াই

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:০৭




এবার কাশ্মীর নিয়ে নয় বা লাদাখের অংশ বিশেষ নিয়েও না , লড়াই চাল নিয়ে । সেকি চাল তো কর্কট রেখা বরাবর সবখানেই হয় , তাহলে ? ভারত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×