somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কল্পদ্রুম
জ্ঞানিরা বলেন মানুষ জন্মমাত্রই মানুষ নয়,তাকে যোগ্যতা অর্জন করে তবেই মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে হয়।যোগ্যতা আছে কি না জানি না,হয়তো নিতান্তই মূর্খ এক বাঙ্গাল বলেই নিজেকে নির্দ্বিধায় মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফেলি।

আমেরিকান 'রায়ট'-এ রেসিস্ট বঙ্গবাসী বাঙ্গালির মনোভাব কি?!

৩১ শে মে, ২০২০ রাত ৮:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এটাকে বাটারফ্লাই ইফেক্ট বলা যায় কি না? যেদিন জর্জ ফ্লয়েডকে মারা হলো ঐদিনের ঘটনা। এমি কুপার ৯১১ এ ফোন করলো। গলায় স্পষ্ট ভয়ের ছাপ। তার অভিযোগ একজন 'আফ্রিকান আমেরিকান' তাকে 'ফিজিক্যালি এসল্ট' করছে। সে খুবই ভীত। যত দ্রুত সম্ভব যেন পুলিশ পাঠানো হয়। তার রীতিমত কান্নায় ভেঙ্গে পড়ার মত অবস্থা। পরিস্থিতির গুরুত্ব নিয়ে ফোনের অন্য পাশের পুলিশের সন্দেহ থাকার কোন সুযোগই নেই। মজার ব্যাপার হলো। যেই আফ্রিকান আমেরিকানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে। সে এমির থেকে কয়েক হাত দূরে শান্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। এমির অসাধারণ অভিনয় একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করেছে।

আফ্রিকান আমেরিকান ভদ্রলোকের নাম ক্রিশ্চিয়ান কুপার। সে পরে নির্দোষ প্রমাণিত হয়। ভিডিওটাই তার সবচেয়ে বড় স্বাক্ষী ছিলো। তাদের দুজনের ঝগড়ার শুরুটা হয়েছিলো এমির কুকুরকে নিয়ে। ক্রিশ্চিয়ান এমিকে বলেছিলো কুকুরের গলায় লিশ পরাতে। এই নিয়ে কথার লড়াই এর এক পর্যায়ে এমি রীতিমত থ্রেট দিয়ে তারপর পুলিশকে ফোন করে।

ক্রিশ্চিয়ান নির্দোষ হলেও তার ধারণকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। অসংখ্য মানুষ এই ভিডিও দেখে উত্তেজিত হয়। আক্রোশে ফেটে পড়ে। বিশেষত একি কুপার যেভাবে রেসিয়াল থ্রেট দেওয়ার পর নিজেই ভিকটিম সাজার এত নিখুঁত অভিনয় করে। নিজের চোখে না দেখলে তা কেউ বিশ্বাস করতো না।

এই ঘটনা যারাই দেখেছেন। ফুঁসে উঠেছেন। এরপরই জর্জ ফ্লয়েডের ঘটনা। ক্ষুদ্র স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানলের সূত্রপাত। দাবানলে দেবালয় জ্বলছে এখনো।

লেখার শিরোনাম টা নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম। 'রায়ট' এবং 'প্রটেস্ট' এর পার্থক্য আছে। বাংলায় যেমন 'বিক্ষোভ' এবং 'আন্দোলন' এর মাঝে পার্থক্য আছে। আন্দোলনের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে, সুস্পষ্ট নেতৃত্ব থাকে। আন্দোলন করাই হয় কোন কিছু অর্জনের জন্য। আন্দোলনের পরে রাজনীতিতে পরিবর্তন আসে। আন্দোলনকারীদের অবস্থানের উন্নতি না হলে অবনতি হয়। কিন্তু বিক্ষোভ সত্যিকার ভাবেই দাবানলের মত। তার নির্দিষ্ট দিক নেই। ধ্বংসই তার উদ্দেশ্য। রাজনীতিতে বিক্ষোভকারীদের (anarchists) দের কোন শুভ প্রভাব থাকে না। তার চেয়ে বড় কথা। বিক্ষোভে সব মানুষ অংশগ্রহণ করে না। সমাজের যেই জনগোষ্ঠীর জন্য এই বিক্ষোভ। তাদের সবাই ও রাস্তায় নেমে ভাঙচুর করে না। কিন্তু সবার একরকম সমর্থন থাকে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই সমর্থন কমে যেতে থাকে।

আমেরিকান রঙ্গিন মানুষরা এখন যা করছে তা কি আন্দোলন না কি বিক্ষোভ?

এই সব তাত্বিক প্রশ্নের উত্তর পলিটিক্যাল সায়েন্সের মানুষরা দিবেন।

কিন্তু কথা হচ্ছে। এই যে আমেরিকান রেসিয়াল রায়ট — তার প্রতি রেসিস্ট বাঙ্গালিদের মনোভাব কি? 'বাঙ্গালি' শব্দের আগে রেসিস্ট কথাটা লিখেছি। কারণ জাতি হিসেবে আমরা আসলেই তাই। এটা এতটাই প্রকট যে অস্বীকার করার উপায় নেই। এইটা নিয়ে নতুন কিছু বলারও নেই। অনেকে এটা নিয়ে লিখেছেন।
এখন একটা রেসিস্ট জাতি হিসেবে এরকম রেসিয়াল ডেস্ক্রিমিনেশনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা বিক্ষোভের প্রতি আমাদের মনোভাব কি?

যেরকমটা হওয়া উচিত, ঠিক তাই। দেশের বেশির ভাগই মানুষের এটা নিয়ে কোন অনুভূতি নেই। অশিক্ষিত মানুষের কথা বলছি না। শিক্ষিত জনসংখ্যার কথাই বলছি। ফেসবুক যোদ্ধারা ফেসবুকে যুদ্ধ করে ক্লান্ত হবে। আমার মত ক জন ব্লগে দুই কথা লিখে উদাস হয়ে কবিতা পড়া শুরু করবে৷ অল্প কিছু মানুষ চরম স্বার্থন্বেষী, আধিপত্যবাদী, মুসলিমদের শত্রু, ইহুদিদের বন্ধু, নাসারাদের ভাই, আমেরিকার এই দুর্দিনে অত্যন্ত খুশি হবেন। হয়তো সডোম গমোরাহ নগরীর মত আমেরিকার পতনও নিকটে ভেবে স্বস্তি পাবেন। কিন্তু সর্ব সাকুল্যে এই ঘটনার কোন প্রভাব, কোন শিক্ষা পৃথিবীর এই প্রান্তে এসে পৌছাবে না। আমরা যেরকম ফেয়ার এন্ড লাভলি এবং লাক্স মাখতাম তেমনটা মেখেই যাবো। সুন্দরী প্রতিযোগীতার বিউটি পিজিয়নরা দুধ সাদা কইতর হয়ে পর্দায় উড়ে বেড়াবেন। আমরা বলবো — বাহ! কি সৌন্দর্য!

ছবি সূত্র


সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০২০ রাত ৮:১১
৫০টি মন্তব্য ৩৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খেলারাম খেলে যাও দেখারাম দেখে যাও...

লিখেছেন সাইন বোর্ড, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৫৬


বলছি না যে সোনার বাংলার সব সোনা হঠাৎ করে শিশ্নতে এসে জমা হয়েছে আর মাঝে মাঝে তা ফাল দিয়ে উঠছে ।

তবে এর ব্যাবহার যাচ্ছেতাইভাবে বেড়ে গেছে । আসলে উন্নয়ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল (ষোল)

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:০৬



অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে গেছে!
শাহেদ জামাল চাকরি পেয়ে গেছে। তার ধারনা তার মতো এত এত সিভি আর কেউ জমা দেয় নি। বিডি জবস এ তার চোখ সব সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে পর্ণগ্রাফি, অশ্লীল ও অরুচিকর ছবি প্রদানকারীর পরিচয় সম্পর্কে।

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০১

প্রিয় সহব্লগারবৃন্দ,
আপনাদের জানার সুবিধার্থে বলছি, সামহোয়্যারইন ব্লগ এক ব্যক্তির একাধিক নিক রেজিষ্ট্রেশন সাপোর্ট করে। কারন অনেক লেখকই ছদ্ম নামে লেখালেখি পছন্দ করেন। কিন্তু যদি এটা প্রমানিত হয় যে, এই এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ছবি দেখে মনের ছবি ভেসে ওঠে....

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৪০


(সেদিনের আসন্ন সন্ধ্যায়, অস্তগামী সূর্যের ম্লান আলোতে আমাদের স্টীমারের সমান্তরালে সেই লোকগুলোর ক্লান্ত পায়ে হেঁটে চলার দৃশ্যটি আমার মনে আজও গেঁথে আছে)

‘পাগলা জগাই’ ওরফে ‘মরুভূমির জলদস্যু’ এ ব্লগের একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাসমতি চাল নিয়ে লড়াই

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:০৭




এবার কাশ্মীর নিয়ে নয় বা লাদাখের অংশ বিশেষ নিয়েও না , লড়াই চাল নিয়ে । সেকি চাল তো কর্কট রেখা বরাবর সবখানেই হয় , তাহলে ? ভারত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×