somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কল্পদ্রুম
জ্ঞানিরা বলেন মানুষ জন্মমাত্রই মানুষ নয়,তাকে যোগ্যতা অর্জন করে তবেই মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে হয়।যোগ্যতা আছে কি না জানি না,হয়তো নিতান্তই মূর্খ এক বাঙ্গাল বলেই নিজেকে নির্দ্বিধায় মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফেলি।

'লোকে কি বলবে' তাতে আমাদের কি?

০৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সারা জীবনে লোকে কি বলবে এই চিন্তায় আমাদের অনেক কিছু করা হয়ে ওঠে না। এই সমস্যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম থেকে যাচ্ছে। এখন GOT এবং 'বুমেরাং' এর যুগেও আমরা লোকের কথার ভয় কাটাতে পারছি না। কেন পারছি না আমার কাছে বিষয়টা পরিষ্কার না। যদিও এটাকে ঠিক সমস্যাও বলা যায় কি না সেটা নিয়েও দ্বিধান্বিত। সোলায়মান সুখন ভাই বলেছেন লোকের কথা পাত্তা না দেওয়ার জন্য। :) আরো অনেকেই বলছেন। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে 'লোকে কি বলবে' এইটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার আগে আমার জানার বিষয় হলো এই লোকগুলো আসলে কারা। এরা আমার কাছের কেউ, ভালো বন্ধু বা কলিগ কি না? — না কি অপরিচিত র‍্যানডম কিছু মানুষ।

এই লোকেরা কি বললো তার চেয়ে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয় তারা কি নিয়ে বলছে। যদি সেটা আমার ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ, আচরণ বা ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে হয়। তবে লোকে কি বললো না বললো আমার কাছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু সেটা যদি আমার কাজ নিয়ে হয় ; বিশেষত এমন কাজ যেটার সাথে অনেক মানুষের একটা সম্পর্ক আছে। তাহলে আমি মানি বা না মানি। অন্তত লোকের কথা আমি আগ্রহ নিয়ে শুনি।

বর্তমানে এই 'লোক' আবার দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। একটা বাস্তব দুনিয়ার। আর একটা সোস্যাল মিডিয়ার। একটা বাস্তব জগতের সামাজিক জীব। অন্যটা ভার্চুয়াল জগতের সামাজিক জীব। একই মানুষের আবার দুই জগতে দুই ধরণের সামাজিক সত্ত্বা কাজ করে।

যা হোক। আমার কাছে এই দুই ধরণের লোকের কথার গুরুত্ব দুইরকম। বাস্তব জগতে মানুষ অনেক মন্তব্য কোন ভাবনা চিন্তা ছাড়াই করে বসে। সোস্যাল মিডিয়ায় লিখিত আকারে কিছু বলতে কিছুটা হলেও ভাবতে হয়। ফলে সোস্যাল মিডিয়াতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যখন একটা বিষয় নিয়ে একই ধরণের মন্তব্য করে তখন সেটা গুরুত্ব নিয়ে ভাবাটা স্বাভাবিক। উপেক্ষা করাটাই বরং অস্বাভাবিক।

এখন কথা হচ্ছে, নিজের জ্ঞান বুদ্ধি থাকতে কোন সমাজের কোন লোকের কথা একেবারেই আমলে নেওয়ার কোন দরকার আছে কি না? আমার মনে হয় কিছুটা দরকার আছে। কারণ সম্ভবত সোসিওপ্যাথ এবং সাইকোপ্যাথ ছাড়া আমরা সবাই সমাজের অংশ হয়ে থাকতে চাই। এইটা একটা বেসিক সারভাইভাল ইন্সটিংক্ট। এক সময় জঙ্গলের শিকারি দলের সাথে থাকতে হতো। দলের প্রচলিত বিশ্বাসের বাইরে গেলে দল থেকে বের করে দিতো। জঙ্গলে একা টিকে থাকা মুশকিল। ফলে দলের মতের প্রতি সদ্ভাব বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ ছিলো।

এখন সভ্য সমাজে এত খারাপ অবস্থায় নাই। চাইলেই অন্যের সরাসরি বিরোধিতা না করে আমি ব্যক্তিগত জীবনে আমার নিজের ইচ্ছা মতো থাকতে পারি। কিন্তু তারপরেও আমি থাকতে চাই না। আমি চাই বাস্তব এবং ভার্চুয়াল দুই সমাজেই আমার সম্পর্ক ভালো থাকুক।

যারা সেলিব্রিটি বা নিজেকে আইডল হিসেবে উপস্থাপন করেন তাদের একটা প্রবণতা হলো নিজের ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি ব্যাপারও পাব্লিকলি উপস্থাপন করা। তারা মনে করেন তারা নিঁখুত মানুষ। তারা যাই করবেন লোকে বাহবা দেবে। কিন্তু গেড়াকলে পড়ে যান যখন লোকে বিপক্ষে কথা বলা শুরু করে। তখন সংখ্যাগরিষ্ঠের কথায় একান্ত ব্যক্তিগত পছন্দ, অভিমত বাদ দিয়ে হলেও মূল সমাজে টিকে থাকতে চান।

আমাদের এখনকার বৈশিষ্ট্য হলো আমরা 'আইডল' দের একরকম অন্ধ অনুকরণ করতে পছন্দ করি। চলতি প্রজন্মের কাছে শত বছর আগে মরে ভূত হওয়া কোন মনিষীর চেয়ে এখনকার মানুষ যিনি নিয়মিত সোস্যাল মিডিয়াতে সচল, টিভিতে তার হাসিমুখ দেখা যায় এমন মানুষের কথার মূল্য অনেক বেশি। কিন্তু আমার ধারণা এই আইডল সম্পর্কে আমাদের চিন্তাভাবনার মধ্যে একটা প্যারাডক্স কাজ করে৷ আমরা যেমন আইডলদের জীবনের সবকিছু প্রতিনিয়ত অনুসরণ করার চেষ্টা করি। আইডলদের মাধ্যমে প্রভাবিত হই। আবার উলটো আইডলরা লোকের কথায় প্রভাবিত হন। তারা তাই করে যাতে তার ফ্যানবেজ খুশি থাকে। ফলে আইডলদের কাছে নতুন কিছু পাওয়ার চেয়ে আমার নিজের আইডিয়াকেই আমি নিজে অনুসরণ করে চলছি।

যেসব আইডল যদি কেবল মাত্র লোকে কি বলছে সেই ভয়ে নিজের ব্যক্তিগত অবস্থানটাও ধরে রাখতে না পারে। ( সেই অবস্থান ঠিক না বেঠিক তা নিয়ে কথা হতে পারে)। তবে অন্তত আমার কাছে মনে হয় না এ ধরণের আইডল দিয়ে আমাদের কোন উপকার হবে।


(খন্ডকালিন কথা)
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:৪৫
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খেলারাম খেলে যাও দেখারাম দেখে যাও...

লিখেছেন সাইন বোর্ড, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৫৬


বলছি না যে সোনার বাংলার সব সোনা হঠাৎ করে শিশ্নতে এসে জমা হয়েছে আর মাঝে মাঝে তা ফাল দিয়ে উঠছে ।

তবে এর ব্যাবহার যাচ্ছেতাইভাবে বেড়ে গেছে । আসলে উন্নয়ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল (ষোল)

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:০৬



অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে গেছে!
শাহেদ জামাল চাকরি পেয়ে গেছে। তার ধারনা তার মতো এত এত সিভি আর কেউ জমা দেয় নি। বিডি জবস এ তার চোখ সব সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে পর্ণগ্রাফি, অশ্লীল ও অরুচিকর ছবি প্রদানকারীর পরিচয় সম্পর্কে।

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০১

প্রিয় সহব্লগারবৃন্দ,
আপনাদের জানার সুবিধার্থে বলছি, সামহোয়্যারইন ব্লগ এক ব্যক্তির একাধিক নিক রেজিষ্ট্রেশন সাপোর্ট করে। কারন অনেক লেখকই ছদ্ম নামে লেখালেখি পছন্দ করেন। কিন্তু যদি এটা প্রমানিত হয় যে, এই এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ছবি দেখে মনের ছবি ভেসে ওঠে....

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৪০


(সেদিনের আসন্ন সন্ধ্যায়, অস্তগামী সূর্যের ম্লান আলোতে আমাদের স্টীমারের সমান্তরালে সেই লোকগুলোর ক্লান্ত পায়ে হেঁটে চলার দৃশ্যটি আমার মনে আজও গেঁথে আছে)

‘পাগলা জগাই’ ওরফে ‘মরুভূমির জলদস্যু’ এ ব্লগের একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাসমতি চাল নিয়ে লড়াই

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:০৭




এবার কাশ্মীর নিয়ে নয় বা লাদাখের অংশ বিশেষ নিয়েও না , লড়াই চাল নিয়ে । সেকি চাল তো কর্কট রেখা বরাবর সবখানেই হয় , তাহলে ? ভারত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×