somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কল্পদ্রুম
জ্ঞানিরা বলেন মানুষ জন্মমাত্রই মানুষ নয়,তাকে যোগ্যতা অর্জন করে তবেই মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে হয়।যোগ্যতা আছে কি না জানি না,হয়তো নিতান্তই মূর্খ এক বাঙ্গাল বলেই নিজেকে নির্দ্বিধায় মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফেলি।

একটি নৌকা,একটি দেওয়াল,একজন বালকের মৃত্যু

৩০ শে জুলাই, ২০২০ সকাল ১০:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খিজির (আঃ) এবং মুসা (আঃ) এর মধ্যকার ঘটনা মোটামুটি সবারই পরিচিত। আমার কাছে মনে হয় খিজির এবং মুসার এই ঘটনা নিয়ে বিশ্বাস অবিশ্বাসের তর্ক করা অর্থহীন। যিনি ধর্মে বিশ্বাস করেন। এবং কুর'আন মানেন।তাকে কোন প্রমাণ ছাড়াই খিজির (আঃ) এবং মুসা (আঃ) এর ঘটনা বিশ্বাস করতে হবে। যিনি ধর্ম কনসেপ্টই মানেন না। তার কাছে খিজির এবং মুসার ঘটনা নিয়ে আলাদা করে তর্কের কোন অর্থ নেই। তবে আমার মনে হয় বিশ্বাস অবিশ্বাসের দিকটা বাদ দিয়েও এ ঘটনাকে অন্যভাবেও দেখা যেতে পারে।

১। ঘটনার শুরুতে মুসা নবী নিজেকে ঐ সময়ের পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি দাবি করেন। যেটা প্রকৃতপক্ষে একজন অজ্ঞানী ব্যক্তির কথার মতো হয়ে গেছে। প্রথমত তিনি নিশ্চয়ই ঐ সময়ের দুনিয়ার সব মানুষকে চিনতেন না। তিনি অনুমান নির্ভর একটা বক্তব্য দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত কোন জ্ঞানী ব্যক্তির জন্য নিজেকে সবচেয়ে জ্ঞানী দাবি করা শোভনীয় নয়। স্রষ্টার একজন রাসূল হিসেবে এটা তাঁর জানার কথা। তৃতীয়ত তিনি ওহী প্রাপ্তির কারণে নিজেকে জ্ঞানী ভেবেছেন। ব্যাপারটা অনেকটা বই পড়ে নিজেকে জ্ঞানী ভাবার মতো বিষয়। বইয়ে যেটা থাকে সেটা হলো নলেজ। সেটা পড়ে নলেজেবল হওয়া যায়। কিন্তু ওয়াইজ (এর সঠিক বাংলা কি!) হওয়ার জন্য কেবল নলেজ থাকা যথেষ্ট নয়। আরো কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থাকার দরকার হয়। মুসা নবীর নিশ্চয়ই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য উন্নত ছিলো। নবী হিসেবে তাই হওয়া উচিত। তবে তাঁর চরিত্রে ঐ সময়ে সবচেয়ে জ্ঞানী হওয়ার পথে কিছু বৈশিষ্ট্যের অভাব ছিলো। সেটা খিজিরের সাথে মোলাকাতে টের পাওয়া যায়।

২। মুসা নবীর দাবির প্রেক্ষিতে সৃষ্টিকর্তার এই খিজিরের উদাহরণ দেওয়াটা আমার কাছে ইন্টারেস্টিং লাগে। সৃষ্টিকর্তা চাইলে আরো সহজে মুসা (আঃ) এর দাবি বাতিল করতে পারতেন। মুসার শিষ্যদের প্রশ্ন করার পর এমন কোন ঘটনা ঘটাতে পারতেন কিংবা শিষ্যদের দিয়েই এমন কোন প্রশ্ন করাতে পারতেন যাতে মুসা নবী গেঁড়াকলে পড়ে যান। কিন্তু তা না করে মুসাকে আর একজন ব্যক্তির উদাহরণ দেন। এই পয়েন্টে উপলব্ধি —

কেউ যখন নিজেকে সবচেয়ে বড় বলে দাবী করেন। তখন সরাসরি আক্রমণ বা ছোট করার চেয়ে বেটার এপ্রোচ হলো তাকে উদাহরণ দিয়ে বোঝানো। যাতে সে নিজেই বিবেচনা করতে পারে। কেউ যখন নিজেকে উত্তরাধুনিক কবিতার শ্রেষ্ঠ কবি বলে দাবি করেন। তখন সরাসরি তাঁর কবিতা নিয়ে সমালোচনা করার চেয়ে ভালো হলো তাকে দেখানো যে তিনি উত্তরাধুনিক কবিতার নামে যেসব অখাদ্য লিখছেন তা ওনার আগেই অমুক কবি দিস্তা দিস্তা লিখে গেছেন। এটা বেশি শান্তিপূর্ণ পদ্ধতি।

৩। মুসা নবী খিজির (আঃ) এর কথা জানতে পেরে নিজে থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন তাঁর খোঁজে। এটা তাঁর চরিত্রের একটি উত্তম দিক। তিনি গোঁয়াড়ের মতো বসে থাকতে পারতেন। তিনি যেহেতু ওহী আদেশপ্রাপ্ত। তিনি বলতে পারতেন খিজির (আঃ) নিজেই আসুক আমার কাছে। তার জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের দরকার আছে। আমার নেই। কিন্তু মুসা নবী তা করেননি। এটার অর্থ নিজে যতই জ্ঞানী হই না কেন। অথবা জ্ঞানী মনে করি না কেন। জ্ঞান অর্জনের জন্যে অন্যের কাছে যেচে পড়ে যাওয়াটা দোষের কিছু না। জ্ঞান অর্জনের পথে ইগো সমস্যা থাকা একদমই উচিত না।

৪। মুসা নবীর ভাজা মাছ দিয়ে খিজির (আঃ) কে খুঁজে বের করার ভিতরে কোন দার্শনিক শিক্ষা এখনো বের করতে পারিনি।

৫। এবার মূল ঘটনা। খিজির (আঃ) এর তিনটি ঘটনাই বেশ রহস্যময়। তাকে বলা হয়েছে জ্ঞানী। অথচ ঘটনা তিনটায় তাঁর জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায় না। তিনি কিছু গোপন তথ্য জানতেন। তার উপর ভিত্তি করে র‍্যানডমলি তিনটা কাজ করেছেন। এই গোপন তথ্য মুসা নবী জানলে তিনিও একই কাজ করতেন। আবার কাজগুলো যে খুব মহৎ তাও না। অত্যাচারী শাসকের হাত থেকে একখান মাত্র নৌকা বাঁচিয়ে কি লাভ! কিংবা একটা সম্ভাব্য অবিশ্বাসী ছেলেকে মেরেই বা কি লাভ! যেখানে ছেলেটা হয়তো হেদায়েত পেতেও পারতো! কিংবা মাটির নীচে গুপ্তধনের জন্য দেওয়াল প্রথমেই সারিয়ে দিলে হতো। তার জন্য আগে ঐ জনপদের কাছে আশ্রয় চাওয়ার কারণ কি! উনি যেহেতু জ্ঞানী মানুষ (মানুষ কি না এই তথ্য নিয়ে আমি সন্দিহান)। ওনার আগেই জানার কথা ঐ জনপদ তাকে সাহায্য করবে না।

আমার কাছে মনে হয় এ কাজগুলো নিজে ততটা গুরুত্বপূর্ণ না। খিজির (আঃ) এর উদ্দেশ্যই ছিলো মুসা নবীকে বিভ্রান্ত করা। তাকে দেখানো যে তার ভিতরের জ্ঞানীর বৈশিষ্ট্যের অভাব আছে। যেমন শুরুতেই মুসা নবী তাঁকে বলেন তিনি জ্ঞান অর্জন করতে চান। খিজির (আঃ) তাঁকে সতর্ক করেন তাঁর এতো ধৈর্য থাকবে না। মুসা নবী বলেন যে খিজির তাকে ধৈর্যশীল হিসেবে পাবেন। তিনি কোনভাবে তাঁকে অমান্য করবেন না। কিন্তু পরে মুসা নবী তার নিজের দেওয়া কথা রাখেন নি। বার বার ঝামেলা পাকিয়েছেন। প্রথমত জ্ঞানী হিসেবে তার উচিত ছিলো খিজিরের কথায় বিশ্বাস রাখা। যেহেতু খিজির (আঃ) তাঁর শিক্ষক এবং পরে সব ব্যাখ্যা করা হবে তা আগেই বলে রেখে ছিলেন। তবু মুসা নবী অমান্য করবো না বলেও অমান্য করেছেন। আবার খিজিরের ভবিষ্যৎবাণীর মতোই বারবার ধৈর্য হারিয়েছেন। নিজের কৌতূহলও দমন করতে পারেননি। সবশেষে মুসা নবীকে খিজিরের শিষ্যত্বই হারাতে হয়। তিনি যদিই সত্যিই সবেচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি হতেন তাহলে এত দ্রুত তাকে খিজিরের সঙ্গ হারাতে হতো না।

অবিশ্বাসীদের কাছে খিজির এবং মুসার ঘটনা ঈশপের গল্পের মতো বিবেচ্য হতে পারে। বোল্ড লেটারে যার মোরাল অব দি স্টোরি দুইটা —

"কোন বিষয়ে সবেচেয়ে বেশি জানি এ দাবী করা যাবে না।কেউ না কেউ অবশ্যই আমার থেকে বেশি জানে।"

"জ্ঞান অর্জনের জন্যে ধৈর্যশীল হওয়া জরুরী।"


সবশেষে আর একটা ব্যাপার লক্ষ্যণীয়। খিজির এবং মুসার ভিতরে খিজিরের জ্ঞান বেশি। খিজির যা করছিলেন তার পিছনে মোটিভ ছিলো দূর ভবিষ্যতের। নৌকা ফুটো করেছিলেন যাতে পিছনে থাকা অত্যাচারী রাজা নৌকা না নিতে পারে। দেওয়াল ঠিক করেছিলেন যাতে ভবিষ্যতে ছেলেরা বড় হলে সেখান থেকে সম্পদ নিতে পারে। বাচ্চা ছেলেটিকে মেরে ছিলেন সেটাও ভবিষ্যতের কথা ভেবে। মুসা নবী পরিস্থিতি বিচার করেছিলেন বর্তমানের ভিত্তিতে। চোখের সামনে যা দেখতে পাচ্ছেন সেই অনুসারে। এটা হচ্ছে দুই ধরণের জ্ঞানীর পার্থক্য। একদল যারা বর্তমান নিয়ে বাঁচেন। তাদের চিন্তা ভাবনা অনেকটা "আইজ আছি,কাল নাই" এরকম। আর একদল জ্ঞানী ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বর্তমানে কাজ করেন। প্রথম দল হয়তো মাঝেমধ্যে এদের কাজকর্ম দেখে মুসা নবীর মতোই দিশেহারা হন।


খিজির (আঃ) এর মানব সত্তা নিয়ে সন্দিহান কারণ কুর'আনের বাংলা অনুবাদে লেখা "আল্লাহর বান্দা"। আল্লাহর বান্দা বলতে কি কেবল মানুষকে বোঝায়? হাদীসে উনি মানুষ কি না — এটা নিশ্চিত করে বলা আছে কি না আমি জানি না।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুলাই, ২০২০ সকাল ১০:৩৩
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খেলারাম খেলে যাও দেখারাম দেখে যাও...

লিখেছেন সাইন বোর্ড, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৫৬


বলছি না যে সোনার বাংলার সব সোনা হঠাৎ করে শিশ্নতে এসে জমা হয়েছে আর মাঝে মাঝে তা ফাল দিয়ে উঠছে ।

তবে এর ব্যাবহার যাচ্ছেতাইভাবে বেড়ে গেছে । আসলে উন্নয়ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল (ষোল)

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:০৬



অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে গেছে!
শাহেদ জামাল চাকরি পেয়ে গেছে। তার ধারনা তার মতো এত এত সিভি আর কেউ জমা দেয় নি। বিডি জবস এ তার চোখ সব সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে পর্ণগ্রাফি, অশ্লীল ও অরুচিকর ছবি প্রদানকারীর পরিচয় সম্পর্কে।

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০১

প্রিয় সহব্লগারবৃন্দ,
আপনাদের জানার সুবিধার্থে বলছি, সামহোয়্যারইন ব্লগ এক ব্যক্তির একাধিক নিক রেজিষ্ট্রেশন সাপোর্ট করে। কারন অনেক লেখকই ছদ্ম নামে লেখালেখি পছন্দ করেন। কিন্তু যদি এটা প্রমানিত হয় যে, এই এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ছবি দেখে মনের ছবি ভেসে ওঠে....

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৪০


(সেদিনের আসন্ন সন্ধ্যায়, অস্তগামী সূর্যের ম্লান আলোতে আমাদের স্টীমারের সমান্তরালে সেই লোকগুলোর ক্লান্ত পায়ে হেঁটে চলার দৃশ্যটি আমার মনে আজও গেঁথে আছে)

‘পাগলা জগাই’ ওরফে ‘মরুভূমির জলদস্যু’ এ ব্লগের একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাসমতি চাল নিয়ে লড়াই

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:০৭




এবার কাশ্মীর নিয়ে নয় বা লাদাখের অংশ বিশেষ নিয়েও না , লড়াই চাল নিয়ে । সেকি চাল তো কর্কট রেখা বরাবর সবখানেই হয় , তাহলে ? ভারত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×