somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশে দিন বদলের সনদ এবং বর্তমান বাস্তবতা মো: ইসমাইল হোসেন

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে দিন বদলের সনদ এবং বর্তমান বাস্তবতা
মো: ইসমাইল হোসেন


দিন বদলের সনদ ঘোষনা দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করেছে। বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তনের একটা আশা নিয়ে মহাজোটকে বিজয়ী করেছে।মহাজোট সরকারের এক মাস অতিবাহিত হলো কিন্ত জনগনের সে আশা কতটুকু পুরন হলো তা ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে। মহাজোট সরকার গঠন করার পরপরই সরকার সমর্থক ছাত্রসংগঠন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। ক্যাম্পাসে বিরোধী দলীয় কোন ছাত্র সংগঠন না থাকলে ও নিজ দলীয় কর্মী সমর্থকদের মধ্যে হল দখল পাল্টা দখল নিয়ে যে তুলকালাম কান্ড ঘটে চলেছে তা দেখে কে বলবে বাংলাদেশে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে? দেশের বড় বড় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে।প্রায় প্রতিদিন এ সম্পর্কিত খবর পত্র পত্রিকায় বের হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেও তাতে কোন কাজ হচ্ছে না। বেসামাল হয়ে পড়েছে ছাত্রলীগ। তাদের নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা যেন কারো নেই। ছাত্ররা হল ছেড়ে বাইরে অবস্থান করছে। ক্লাস রুমেও তাদের কোন নিরাপত্তা নেই। শুধু বিরোধী শিবিরের ছাত্র নয়, শিক্ষকরাও লাঞ্ছিত হচ্ছেন। পত্রিকার খবরে এসেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতার হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তার কারন হল মেরামতের কাজে তিনি তাদের অন্তর্ভূক্ত করেননি। প্রশ্ন হলো, হল মেরামতের কাজ তাদের নিয়ে করতে হবে কেন? তারা কেন শিক্ষকের উপর চড়াও হলো? এর একটাই কারন সেটা হলো এ কাজে তারা ভাগ পায়নি । চাদা বাজি আর টেন্ডার বাজি না হলে দিন চলবে কিভাবে!

গত এক মাসে মহাজোট সরকার মুখে মুখে নিরপেক্ষতার কথা বললেও তাদের কাজে কর্মে তার কোন প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছেনা।ক্ষমতা গ্রহনের পর পর দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ভিসি পরিবর্তন করার কাজ শুরু হয়েছে । দলীয় লোকদের বসানোর জন্য মেয়াদ পুর্তীর আগেই এসব পরিবর্তন করা হচ্ছে। মন্ত্রনালয়গুলোর জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হলো। দশ সদস্যের কমিটিতে মাত্র একজন বিরোধী সদস্য রাখা হয়েছে যাতে তিনি তেমন কোন ভুমিকা রাখতে না পারেন। সংসদের আসন বন্টন নিয়ে ও সরকারি দল উদারতার পরিচয় দেয়নি। বর্তমানে বিরোধী দল আসন পুনরুদ্ধারের দাবিতে সংসদ বর্জন করে চলেছে। গত কয়েক দিন ধরে সে সমস্যার এখনও কোন সমাধান হয় নি। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর ঘোষনা করেছিলেন, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত করা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেরাই তা দখল করেছেন । সারা দেশে বিরোধী দলের কর্মী সমর্থকদের উপর যেভাবে অত্যাচার নির্যাতন শুরু হয়েছে তা কোন পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে না। বাগেরহাটে বিএনপি কর্মীর চোখ তুলে নেয়া হয়েছে। চৌগাছায় জামায়াত করার অপরাধে তার ছেলেকে জখম করা হয়েছে, কুস্টিয়ায় বিএনপি কর্মীর বয়স্ক পিতাকে মারপিট করা হয়েছে। এরকম হাজারো ঘটনা ঘটে চলেছে। এ যেন এক আজব দেশ! ঘরে বাইরে কোথাও নিরাপত্তা নেই। দেশ যেন শুধু সরকারি দলের আর কারও থাকার অধিকার নাই!

তাহলে আমরা কিভাবে বলব বাংলাদেশে দিন বদলের সনদ বাস্তবায়ন হচ্ছে? হা, দিন বদল হয়েছে ঠিক তবে সেটা হলো এই যে, চার দলীয় জোটের রাজত্ব থেকে মহাজোটের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। সাধারন মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি ।জানি না, এটা দিন বদলের সনদের সংগার মধ্যে পড়ে কিনা।

আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা সুস্থ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে পারিনি। প্রতিহিংসা পরায়ন রাজনীতি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারছিনা। যে দলই সরকারে যায় সে দলই দমন পিড়নের পথ গ্রহন করে। বিগত সময়ের অত্যাচার নির্যাতনের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। এই ধারা থেকে যেকোন ভাবে বেরিয়ে আসা দরকার। সুস্থ্য রাজনীতি চর্চার পরিবেশ না থাকায় দেশের সম্ভাবনাময় মুখগুলো বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। বিদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবদান রাখলেও দেশ তাদের কাছ থেকে লাভবান হতে পারছেনা। যেকোন একটা দলকে এই নতুন ধারা সৃষ্টি করা দরকার। তা না হলে প্রতিহিংসা পরায়ন রাজনীতির মুখে বাংলাদেশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। সুস্থ্য রাজনীতি চর্চার পরিবেশ তৈরী করতে না পারলে এই সম্ভাবনাময় দেশটি একদিন আফগান বা সিকিম এ পরিনত হতে পারে।

বাংলাদেশের মানুষ একটা স্বপ্ন নিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। সে স্বপ্ন হলো দেশে আর প্রতিহিংসার রাজনীতি থাকবে না, দেশ দূর্নীতি মুক্ত হবে, স্বল্প আয়ের মানুষ দুবেলা দুমুঠো ভাতের নিশ্চয়তা পাবে, একদিনের জন্য হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হবে না। দিন শেষে রাত্রিতে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারবে। মহাজোট সরকার তাদের দিন বদলের সনদ বাস্তবায়নের জন্য সে পরিবেশ সৃষ্টি করবে আমরা সে আশাই রইলাম।

লেখক: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক । বর্তমানে নেদারল্যান্ডে উচ্চশিক্ষারত। ই-মেইল, [email protected]
Click This Link
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×