somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাবি’র ২ ছাত্র খুন: ড. জাফর ইকবালের ভূমিকায় ক্ষোভ

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সুরমা নদীতে নৌকা ভ্রমণে গিয়ে ছিনতাইকারীদের হাতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) দুই ছাত্র খায়রুল কবীর ও দীপঙ্কর ঘোষ অনিকের নিহত হওয়ার ঘটনায় চরম ক্ষোভ আর অসন্তোষ বিরাজ করছে ক্যাম্পাসে।

এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের দায়সারা ভূমিকা এবং একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও নিহতদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণে চরম ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে উঠেছে শোকাতুর ছাত্রদের আবেগ অনুভূতির বিপরীতে প্রিয় শিক্ষক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ভূমিকা।

জানা গেছে, সহপাঠীদের হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একটি দল সন্ধ্যার পর পর্যন্ত অনশন করছিল। তবে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তারা অনশন কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করে এবং ক্যাম্পাসের সামনের সড়ক থেকে ক্যাম্পাসে ফিরে গেছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।

ড. জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে ছাত্রদের ক্ষোভX(X(
এর আগে, ছাত্রদের শান্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশেষ করে উপাচার্য ড. সালেহ উদ্দিন, প্রভাবশালী শিক্ষক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, সিটি মেয়র বদরুদ্দিন আহমেদ কামরান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল জহির চৌধুরী সুফিয়ানের কোনও পদক্ষেপই ছাত্রদের শান্ত করতে পারেনি।

বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা বিশ্বদ্যালয়ের প্রক্টর হিমাদ্রী শেখর রায় ও সহাকারী প্রক্টর ফারুক উদ্দীনের সঙ্গে সঙ্গে ড. সালেহ ও ড. জাফর ইকবালের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেয়। তারা অবিলম্বে প্রক্টর হিমাদ্রী ও সহকারী প্রক্টর ফারুকের পদত্যাগ দাবি করে। এছাড়া ২ ছাত্র হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাশ বন্ধ রাখার দাবিও জানায় তারা।

শাবির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রধান ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে ছাত্রদের স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধানে একটি সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা ২ সহপাঠী নিহত হওয়ার বিষয়টি ড. ইকবালকে সবার আগে জানিয়েছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্র জানান, এ ঘটনায় প্রিয় শিক্ষক যতটা তৎপর হবেন বলে তারা আশা করেছিলেন, তা না হওয়ায় তারা খুব ক্ষুব্ধ হয়।

আন্দোলন নিয়ে দ্বন্দ্ব
সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, নিহত ২ ছাত্রের খুনীদের বিচার দাবিতে আন্দোলন ও এর নেতৃত্ব নিয়ে শাবি ছাত্রলীগে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। হাফিজ গ্রুপ চাচ্ছে ‍আন্দোলন চালিয়ে যেতে। তবে নাঈম-মঞ্জু গ্রুপের মতে বিশ্ববিদ্যালয় যে আশাস দিয়েছে তা মেনে নিয়ে প্রশাসনকে সময় দেওয়া। এর প্রভাবে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অনেকটা বিভ্রান্ত।

এদিকে, নিহত খায়রুলের জানাযা শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসেই পড়াতে চেয়েছিলেন এবং সে অনুযায়ী শনিবার সন্ধ্যায় জানাযা পড়ানোর প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু খায়রুলের পরিবার তাতে সম্মত না হওয়ায় ময়না তদন্তের পর সন্ধ্যার দিকে পুলিশ প্রশাসন তাদের কাছে লাশ হস্তান্তর করে।

জানা গেছে, স্বজনরা খায়রুল ও অনিকের লাশ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।


আহাজারির বিপরীতে লাশের সামনে শিক্ষকের ধূমপান!X((
অপরদিকে, শোকবিহ্বল শিক্ষার্থীরা যখন নিহত সহপাঠীদের জন্য আহাজারি করছিলেন, তখন সহকারী প্রক্টর ফারুক নিহত শিক্ষার্থীর লাশের সামনে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছিলেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে।

এদিকে, বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রক্টর হিমাদ্রী শেখর রায় ও সহকারী প্রক্টর ফারুক উদ্দীনের পদত্যাগ দবি করেছেন। একই সাথে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা লাশের সামনে সিগারেট ধরানোর জন্য সহকারী প্রক্টর ফারুক উদ্দীনকে গণমাধ্যম ও শিক্ষার্থীদের সামনে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন।

এনিয়ে শনিবার সারাদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। শিক্ষার্থীরা হত্যাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ রাখার দাবিতে বিক্ষোভ করে। তারা ক্যাম্পাসের মূল ফটকে টায়ার জ্বালিয়ে সারাদিন বিক্ষোভ করে।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের মদিনা মার্কেট থেকে নিয়ে তেমুখী বাইপাস পর্যন্ত এলাকা দখল করে রাখে। এ কারণে এ রুটে চলাচলকারী যানবাহন ঘুরে বিকল্প পথে চলাচল করেছে ওই সময় পর্যন্ত।

রাতের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাবে
পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে সিলেট মেট্রাপলিটন পুলিশ কমিশনারে অমূল্য ভূষণ বড়ুয়া বাংলানিউজকে জানান, পুলিশ এই জোড়া খুনের ক্লু বের করার চেষ্টা করছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতের মধ্যে এ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাবে।

এছাড়া, মহানগর পুলিশের ডিসি (নর্থ) এজাজ আহমেদ বাংলানিউজকে জানান, পুলিশ ঘটনা জানার পর থেকে সেখানে তল্লাশি চালিয়েছে। সারারাত জালালাবাদ থানা পুলিশ সেখানে তল্লাশি চালায়।

ঘটনা
প্রসঙ্গত, গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন নৌভ্রমণ শেষে শাবির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও পলিমার সায়েন্স বিভাগের ৫ ছাত্র ও ৩ ছাত্রী সন্ধ্যারাতে শহরতলীর বাদাঘাট এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। জানা গেছে, অপর একটি নৌকায় থাকা ছিনতাইকারীরা নদীতেই তাদের ধাওয়া করে। পরে বাদাঘাট এলাকায় এসে ৫/৬জনের ওই ছিনতাইকারী দলটি তাদেরকে মারধর ও হেনস্থা করে।

এসময় দুর্বৃত্তরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে খায়রুল ও অনিক বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তাদের দু’জনকে মারধর করে সুরমা নদীতে ফেলে দেয়। এসময় বাকি শিক্ষার্থীরা কোনোমতে পালিয়ে প্রাণ বাঁচায় বলে জানা গেছে।

এরপর থেকে খায়রুল ও অনিক নিখোঁজ ছিলেন।

পরদিন শনিবার সকাল ৮টার দিকে খায়রুলের ও সাড়ে ১০টার দিকে অনিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তারা দু’জনই শাবিপ্রবি’র কেমিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের ২য় বর্সের ২য় সেমিস্টারের ছাত্র ছিলেন।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সৈকত নামে নৌকার মাঝি ও ২ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। তবে বাকি দুই দুর্বৃত্তের নাম জনা যায়নি। পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনায় জড়িত আরও ৩ দুর্বৃত্তের নাম-পরিচয় তারা জানতে পেরেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় ভিসি ড. সালেহ উদ্দিন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

খায়রুলের বাড়ি ঢাকার বাসাবোতে। তিনি শাবি ক্যাম্পাসের পাশেই ১/সি জালালি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন।
অপরদিকে, অনিকের বাড়ি রংপুরের সেনপাড়ায়। তিনি সিলেটের পাঠানটুলির ফুলপরী মেসে থাকতেন।

সুত্র- বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১১:০২
৪০টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×