somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

Maimuna Ahmed
ছোটবেলা থেকে চেষ্টা করেও গল্পের বই পড়ার অভ্যাস করতে পারিনি। গল্পের বইয়ের চেয়ে পড়ার বই পড়তেই বেশি ভালো লাগতো। ইদানিং ডায়েরি লেখার অভ্যাস হয়েছে। ব্লগে এসেছি "উমরাহ ডায়েরি" লিখতে। ব্লগে কারো লেখা পড়ি না। আমার লেখা পড়ছেন তাই আপনাকে ধন্যবাদ।

উমরাহ টিপসঃঃ ২য় পর্ব - প্রিপারেশন/প্রস্তুতি

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

১ম পর্বের লেখাতে উমরাহতে যাওয়ার প্ল্যানিং সম্পর্কে লিখেছিলাম। ধরুন, আপনার চাওয়া-পাওয়ার সাথে ম্যাক্সিমাম ম্যাচ করে এমন একটি এজেন্সির সাথে আপনি কথা বলে ভিসা+যাবতীয় কাজকর্মের দায়িত্ব দিয়ে এসেছেন। তারা হয়তো আপনাকে যাত্রার সম্ভাব্য একটি তারিখও দিয়ে দিয়েছে। এখন আপনার কাজ কি? -আপনার কাজ আপনার সফরের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস একটু একটু করে গুছানো।

১. ইহরামের কাপড়ঃ পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট ইহরামের কাপড় আছে, মহিলাদের কোনো নির্দিষ্ট ইহরামের কাপড় নেই। মহিলাদের ড্রেসকোড হচ্ছে- সতর ঢেকে, পর্দার সাথে পোশাক পড়া। আপনি বোরকা পড়বেন নাকি সালোয়ার-কামিজ পড়বেন সেটা আপনার ইচ্ছা। পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য পর্দা ফরজ। ফরজ মানা না মানার দায় আপনার/আপনাদের।

২. জুতাঃ ইহরাম অবস্থায় পুরুষদের দুই ফিতাওয়ালা স্যান্ডেল পড়তে হয়, পা ঢাকা জুতা পড়া যায় না। মহিলাদের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আরাম পাবেন, স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এমন জুতা পড়বেন। নতুন কিছুর অভ্যাস করতে না যাওয়াই ভালো।

৩. ব্যাগঃ পুরুষ বা মহিলা, জুতা রাখার জন্য একটা পাতলা ব্যাগ নিতে হবে। পাতলা ফিতা দেয়া, কাধে ঝুলিয়ে নেয়া যায় এমন ব্যাগ কিনবেন। বোরকা/খিমার/জিলবাবে পকেট থাকলে টাকা আর মোবাইল নেয়ার জন্য বাড়তি ব্যাগ টানার কোনো দরকার হয় না। যদি নিতেই হয়, তাহলে হালকা-পাতলা সাইড ব্যাগ নিয়ে নিবেন।

৪. নিকাবঃ ইহরাম অবস্থায় নিকাব পড়া যাবে নাকি যাবে না, এ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। রাসুলুল্লাহ সাঃ এর একটি হাদিস নিকাব ইস্যুতে খুব ব্যবহৃত হয় তা হচ্ছে, মা আয়েশা রাঃ কে তিনি ইহরাম অবস্থায় নিকাব এবং মোজা পড়তে নিষেধ করেছিলেন। আবার, আয়েশা রাঃ এর এক বর্ণনায় আছে, তাওয়াফ বা সা'য়ী অবস্থায় যখন কোনো গায়রে মাহরাম/পরপুরুষ আসতে দেখতেন তখন তিনি মাথার উপর থেকে চাদর মুখের উপর টেনে দিতেন। এই দুইটা প্রেক্ষাপটকে ব্যালান্স করে আমাদের উপমহাদেশে স্পেশাল ক্যাপ নিকাব উদ্ভাবিত হয়েছে। যদি হোচট খেয়ে ব্যথা না পান অথবা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তাহলে এই নিকাব ইহরাম অবস্থায় ব্যবহার করতে পারেন। অথবা নরমাল নিকাব ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে আরেকটা কথা খুব প্রচলিত যে, মুখের সাথে কোনো কাপড় লাগতে পারবে না । নানান ফতোয়া দেখবেন, শুনবেন,তারপর যেভাবে নিজের সুবিধা হয় সেভাবে কাজ করবেন।

নিকাব ইস্যু বেশ জটিল এবং তর্ক-বিতর্কের সূত্রপাত ঘটায়। আমার সহজ হিসেব হলো, সম্পূর্ণ উমরাহ এর কোনো নির্দিষ্ট দোয়া নেই(রুকুনে ইয়ামেনি থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত ব্যাতিত)। বান্দা তার স্রষ্টার কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে গুনাহগুলোর জন্য ক্ষমা চাইবে, উমরাহর প্রধান কাজই এটা। যদি নিকাব ইস্যু এমনই গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় হতো যা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বিতর্ক করা যায়, তাহলে কি রাসুল সাঃ তার উম্মতের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশ দিতেন না!? ক্যাপ নিকাব ব্যবহার করতে পারলে ভালো, যদি না পারেন তাহলে রেগুলার নিকাব ব্যবহার করুন।

৫. হিজাবঃ মক্কায় আজান হওয়ার ৫-৭ মিনিট আগে হেরেমে প্রবেশ করতে হয়, নাহলে মেইন গেইট-মাতাফ বন্ধ করে দিতে থাকে। প্রত্যেকের চেষ্টা করা উচিত জামাতের শুরুর দিকে থাকার। মক্কা-মদিনায় তাহাজ্জুদ ওয়াক্তে একবার হেরেমে গিয়ে তাহাজ্জুদ- ফজর-ইশরাক(নফল) নামাজ পড়ে রুমে আসলেন, এরপর চাশত(নফল)-যোহরের নামাজ পড়ে রুমে এসে আবার আসর-মাগরিব-এশা পড়তে গেলেন। এভাবে আসা-যাওয়া করলে মিনিমাম ৩ বার আসা-যাওয়া করা হয়। এসময় সবচেয়ে ভালো হয় নামাজের হিজাব কিনে বা বানিয়ে নিলে। বারবার পিন ব্যবহার করে হিজাব পড়তে গেলে সময়ের অপচয় হয়।

৬. কাপড়-চোপড়ঃ কাপড় নিতে কৃপণতা করবেন না। বেশি বেশি কাপড় নিয়ে নিবেন। প্রত্যেকে ২৩ কেজি করে দুইটি, মোট ৪৬কেজি জিনিস বহন করতে পারবেন; আর বিমানের ভিতর প্যাসেঞ্জারদের সাথে দুইটা ব্যাগ নেয়া যায়, খুব সম্ভবত ৭/৮ কেজি পর্যন্ত।

মক্কা-মদিনায় হোটেলে বারান্দা নেই। কাপড় ধোয়া এবং শুকানো খুব ঝামেলার কাজ। বাড়তি কাপড় নিয়ে নিলে এই পেরেশানি থেকে মুক্ত থাকা যায়।

৭.সুগন্ধিবিহীন সাবানঃ ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার নিষিদ্ধ। সুগন্ধিবিহীন সাবান(গ্লিসারিন সোপ) সাথে নিবেন।

৮. যেকোনো ভ্রমণে রেগুলার ও ইমার্জেন্সি মেডিসিন- ফার্স্ট এইড সরঞ্জামাদি, কাচি, সুই-সুতা, নেইলকাটার প্রভৃতি সাথে নিতে হয়। বড় ট্রলি বা ব্যাগে এসব জিনিস ঢুকিয়ে নিবেন। হ্যান্ডব্যাগে টুথপেস্ট পর্যন্ত allow করে না। তবে, কিছু মেডিসিন এবং ফার্স্ট এইডের জিনিস সাথের ব্যাগগুলোতে রাখবেন। বিপদ বলে কয়ে আসে না, প্রয়োজনও হুট করেই হয়।

৯. প্যাকিংঃ প্যাকিং এর জন্য স্কচটেপ, মার্কার, বড় ট্রলি/ব্যাগে নিয়ে নিবেন। দড়িও নিয়ে নিতে পারেন। wrapping পেপার মক্কা মদিনার লোকাল মার্কেটে পাবেন অথবা এয়ারপোর্টে wrapping করে নিতে পারেন।

১০. প্রিন্টিংঃ মক্কা-মদিনার নামাজের সময় ইন্টারনেট থেকে বের করে প্রিন্ট করে নিবেন। পাসপোর্ট-প্লেন টিকিট, প্রয়োজনীয় দোয়া-তাসবীহ-তাহলীলের প্রিন্ট কপি/ফটোকপি সাথে রাখবেন।

১১. তালবিয়া, মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার দোয়া, তাওয়াফ শুরু করার দোয়া, কালেমা তামজীদ, কালেমা তাওহীদ, রুকুনে ইয়েমেনী থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত পড়ার দোয়া, সা'য়ী শুরু করার জন্য হাজরে আসওয়াদ বরাবর দাড়িয়ে করা দোয়া, সবুজ বাতি দেয়া অংশে পৌছে নির্দিষ্ট দোয়া ইত্যাদি দোয়াগুলো মুখস্থ করতে হয়। হজ্জ্ব-উমরাহ সংক্রান্ত বইগুলোতে এই দোয়া পাওয়া যায়। বই দেখে দোয়া পড়া যায় কিন্তু যদি তৃপ্তির সাথে উমরাহ পালন করতে চান তাহলে দোয়া মুখস্থ করে নেয়া উত্তম।

১২. ইউটিউবঃ ইউটিউব ব্যবহারে আমরা তো অনেক এডভান্স! ইউটিউবে সার্চ করে মক্কা মদিনার বিভিন্ন ভিডিও বিশেষ করে উমরাহ করার নিয়ম, বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান এবং ঘটনার ভিডিও, রাস্তাঘাট-মার্কেট ইত্যাদির রিভিউ দেয়া অনেক ভিডিও আছে। ভিডিওগুলো দেখলেও জ্ঞান বাড়ে।

***মানসিক প্রস্তুতিঃ

কাপড়-চোপড়, ব্যাগ-ব্যাগেজ উমরাহতে যাওয়ার জন্য প্রায় প্রস্তুত। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি প্রস্তুত তো? নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করুন। ইবাদাতে আন্তরিক হওয়ার চেষ্টা করুন। সবর বা ধৈর্য এর practice শুরু করুন। রাগ বা স্ট্রেস কন্ট্রোল করার চেষ্টা করুন। এগুলো প্রাত্যহিক জীবনে যেমন জরুরী, উমরাহ তে গেলে আরো জরুরি। কিভাবে?

ধরুন, হেরেমে নামাজ পড়ছেন এমন সময় একটা হুইল চেয়ার আপনার পায়ের পাতার উপর দিয়ে চলে গেল। কি করবেন? দেশে হলে কি করতেন? ওখানে কিন্তু ইগনোর করে যেতে হবে, সবর করতে হবে। মনে রাখবেন, আপনি যে পবিত্রভূমিতে অবস্থান করছেন সেখানে ভালো কাজের পুরস্কার যেমন অফুরন্ত তেমনি মন্দ কাজের গুনাহের পরিমাণও কম নয়।

অথবা, ধরুন, আপনার সংগী কাউকে ফোন দিচ্ছেন একত্রে কোথাও যাওয়ার জন্য। সে হেরেমে থাকায় ফোন রিসিভ করছে না। ১৫-২০ মিনিটের চেষ্টায় যখন meet করলেন তখন হয়তো নিজের অজান্তেই ঝাঝিয়ে কথা বললেন। দেশে এগুলো খুব স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু ভুলে যাবেন না, আপনি হেরেমে! হেরেমে একটা মশা-মাছি মারারও অনুমতি নেই। আত্মসংবরণের মাধ্যমে আত্মসংশোধন করুন। এখন থেকেই শুরু করুন।

জাজাকাল্লাহ খাইরান

চলবে.....ইনশাআল্লাহ
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯:৪৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে জিয়াউর রহমানকে ছোট করার চেষ্টা করেন তারা কখনো মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী নয়।

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ২৫ শে মে, ২০১৯ দুপুর ১:১১



শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, এদেশের কারোর কাছে নায়ক, কারোর কাছে মহানায়ক আবার কারোর কাছে পুরাই খলনায়ক, তিনি যদি রাষ্ট্র ক্ষমতায় না আসতেন মনে হয় তাকে নিয়ে এতকিছু হত না। স্বাধীনতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃষকদের জন্য যা যা করা যেতে পারে

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৫ শে মে, ২০১৯ দুপুর ১:৫০

যে-কোনো মূল্যে আমাদের কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আমরা টেকনোলজিক্যালি যত উন্নতই হই না কেন, আমরা কোনো সফটওয়্যার খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবো না, বা না খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য কোনো সফটওয়্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার নুরু সাহেব কবি নজরুল ইসলামের উপর পোষ্ট টোষ্ট দিয়েছেন নাকি?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৫ শে মে, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২১



আমাদের কবি নজরুল ইসলাম ১৯০৮ সালে, মাত্র ৯ বছর বয়সে দরিদ্র ছিলেন, রুটির বেকারীতে কাজ করেছেন, লেটো গান রচনা করেছেন, মসজিদের মোয়াজ্জিন হয়েছিলেন; উনি ১৯১৭ সালে, ১৮ বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

খ্যাতিমানদের রম্য কথন -৩

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ২৫ শে মে, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২০



বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম



বাংলা সাহিত্যে দ্রোহ, প্রেম, সাম্য, মানবতা ও শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মূলত তিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শনিবার সন্ধ্যা

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ২৫ শে মে, ২০১৯ রাত ৮:১৭




আজ শনিবার।

অর্ণব সকাল থকেই অস্থির হয়ে আছে। কোন কাজে মন বসছে না। চোখ কিছুটা লাল, নিচে কালি। সারারাত ঘুম হয় নি । আজ কি হবে , কি হবে এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×