somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইজিপ্ট কেন মিসর, ভারত কেন ইন্ডিয়া ? ( জানা-অজানা )

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৫:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিসরের (M-i-s-r) ইতিহাস বেশ প্রাচীন, সমৃদ্ধ, এবং রহস্যময়। শত শত বছর ধরে মিসরে প্রচলিত ছিল বিভিন্ন ভাষা, আর তাই মিসরেরও ছিল বিভিন্ন নাম। বর্তমানে এর প্রাতিষ্ঠানিক নাম জমহুরিয়া মিসর আল-আ্যারাবিয়া (Junhuriyah Misr al-Arabiyah) বা আরব প্রজাতান্ত্রিক মিসর।

মিসরীয়রা তাদের দেশকে বলে মিসর, যদিও নামটি কায়রোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। সাধারণভাবে, কায়রোর লোকেরা মিসর বলতে সমগ্র দেশকে বুঝায়, কিন্তু কায়রোর বাইরের অধিবাসীরা মিসর বলতে কায়রোকে নির্দেশ করে।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বিভিন্ন পর্যায়ে মিসরের ৪টি প্রধান নাম পাওয়া যায়।
১। খুব সুপ্রাচীন কালে, মিশরের পুরাতন রাজবংশের (Old Kingdom) আমলে, যখন হায়ারোগ্লিফ ভাষা প্রচলিত ছিল, মিসরকে বলা হত কেমেত (Kemet) বা কৃষ্ণ ভূমি। আর এর অধিবাসীরা নিজেদেরকে বলতো, কৃষ্ণ ভূমির মানুষ (remetch en Kermet)। নীলনদের অববাহিকার উর্বর মৃত্তিকাকে নির্দেশ করতে কেমেত শব্দটির উৎপত্তি।

সে সময় মিসরকে দেশরেত (Deshret) বা লোহিত ভূমিও বলা হতো, মিসরের বিশাল অংশ জুড়ে থাকা মরু অঞ্চলকে নির্দেশ করতে এ নামটির প্রচলন।

২। পরবর্তীতে মিসরীয়রা তাদের দেশকে বলতো, 'Hwt-ka-Ptah' বা 'Ptah এর ka এর নিবাস'; নামটি বর্তমান মিসরের মেমফিস এলাকা বা সমগ্র মিসরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হত। Ptah প্রাচীন মিসরীয় এক দেবতার নাম।

৩। মিসর অভিযানের পর গ্রিকরা Hwt-ka-Ptah নামটি পরিবর্তন কর রাখে Aegyptus (Aigyptos)। গ্রিকরা তাদের সাহিত্যে এ নামটি ব্যবহার করে প্রাচীন এক কাল্পনিক রাজা, নীল নদ এবং সমগ্র দেশের নাম হিসেবে; ধারণা করা হয় রাজাটি ছিলেন রামাসিস। হোমারের অডিসি'তে Aegyptus নামটি পাওয়া যায়। সম্ভবত শব্দের শুরু ও শেষে মিসরীয় H বর্ণটি সঠিক উচ্চারণ করতে না পেরে গ্রিকরা এ পরিবর্তনটি করেছিল।

Aegyptus থেকে আরো কিছু পরিবর্তনের পর ইংরেজি ভাষায় দেশটির এখনকার নাম Egypt.

৪। বর্তমানে মিসরীয়রা তাদের দেশকে মিসর নামে অভিহিত করে। মিসর আরবি শব্দ, যার মানে সরকার ও আইন-কানুন বিশিষ্ট রাষ্ট্র। পবিত্র কুরআন ইজিপ্টকে মিসর হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

কিছু কিছু বর্ণনায় (যদিও তা অকাট্য নয়) পাওয়া যায়, মিসর হচ্ছে পবিত্র নবী নূহের পৌত্র, যিনি নবীর সাথে মহাপ্লাবনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। নবী প্রার্থনা করেন, মিসর এবং তাঁর সন্তান-সন্ততি যেন তাদের বসবাসকারী ভূমিতে নেতৃত্ব দেয় এবং সময় যেন তাদের পরাভূত করতে না পারে। মিসরের নামানুসারে সেই অভীষ্ট ভূমির নাম হয় মিসর।

কেউ কেউ বলেন, মিসরের উৎপত্তি প্রাচীন শব্দ Mizraim থেকে, যা আবার m-dr থেকে উদ্ভূত। m-dr সেই সময় প্রাচীন মিসরকে নির্দেশ করত।

ভারত কেন ইন্ডিয়া?


আনুষ্ঠানিক এবং প্রথাগতভাবে ভারত প্রজাতন্ত্রের (Republic of India) তিনটি সংক্ষিপ্ত নাম প্রচলিত: India, Bharat এবং Hindustan.

১। India: এটি ভারতের ইংরেজি নাম, Herodotus (খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতক) এর সময় থেকে গ্রিক শব্দ India থেকে উদ্ভূত হয়ে ল্যাটিন, পার্সিয়ান ভাষার মধ্য দিয়ে বিকাশ লাভ করেছে। India বলতে Indus river (সংস্কৃত, সিন্ধু নদ) এর তীরবর্তী এবং পেছনের এলাকা নির্দেশ করা হত।

আ্যংলো-সেক্সনদের কাছে India শব্দটি পরিচিত ছিল এবং রাজা আলফ্রেডের Orosius অনুবাদে শব্দটি পাওয়া যায়। Middle English-এ ফরাসি প্রভাবে শব্দটি Ynde বা Inde-তে পরিণত হয়, যা Early Modern English-এ Indie হিসেবে প্রবেশ করে। বর্তমান India নামটি ১৭ শতক থেকে প্রচলিত।

২। ভারত: এ নামটি বিভিন্ন প্রাচীন সংস্কৃত পুরাণ থেকে এসেছে। যেমন, বায়ু পুরাণে নামটি পাওয়া যায়। ভারত মূলত দেবতা 'অগ্নি'র একটি নাম। ঋগ্বেদে ভারতী হিসেবে এখানকার অধিবাসীদের, বিশেষ করে যারা দশ-রাজার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল, বুঝানো হয়েছে। মহাভারতে ভারতের রাজ্যকে বলা হয় ভারতবর্ষ। ভগবত পুরাণে ভারত শব্দটি জাত ভারতের নাম থেকে এসেছে বলে বর্ণিত।

( সংগৃহীত )
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৬:১০
১৩টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজ সামহোয়্যার ইন ব্লগের ১৪তম জন্মদিনে সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা

লিখেছেন জানা, ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫০

আজ সামহোয়্যার ইন ব্লগের ১৪তম জন্মদিনে সকল বাংলা ব্লগার এবং পাঠকবৃন্দকে অভিনন্দন, শুভ কামনা এবং আন্তরিক ভালবাসা জানাচ্ছি। সামহোয়্যার ইন ব্লগের সাথে সাথে প্রকৃতপক্ষে আজ বাংলা ব্লগারদেরও জন্মদিন। বড় আনন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন কাউকে আওয়ামী লীগের সভাপতি করে, পরীক্ষা করার শেষ সুযোগ

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৯



শেখ হাসিনা ৩৯ বছর আওয়ামী লীগের সভাপতি, এটা অগণতান্ত্রিক ও জাতির প্রতি অন্যায়। উনার বেলায় কিছুটা ব্যতিক্রমের দরকার ছিল: উনার নিজের প্রাণ রক্ষা, ৩ টি আওয়ামী লীগ থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের ১৪ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:২৯



প্রিয় জানা আপা,
সামহোয়্যারইন ব্লগের ১৪ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আপনার জন্য রইলো অনেক অনেক শুভ কামনা। আমরা সামহোয়্যারইন ব্লগের স্মরণকালের দুর্দিন পার করে এসেছি। সামহোয়্যারইন ব্লগের এই দুর্দিনে আমরা ব্লগার’রা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এ্যান্টিগ্রাভিটি যা এখনো গবেষনার পর্যায়ে

লিখেছেন শের শায়রী, ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৩:০৬



পদার্থবিদরা এত দিন জানতেন বিশ্ব ব্রক্ষ্মান্ডে চার ধরনের বল কার্যকর আছে। এর হল ইলেকট্রনের গতি নিয়ন্ত্রনকারী তড়িৎ চুম্বকীয় বল, পরমানুর কেন্দ্রে প্রোটনদের ধরে রাখার জন্য প্রবল বল, তেজস্ক্রিয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেমন ছিল ২০১০ সালের ব্লগ দিবস? দেখে নেই ছবিতে

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৮:৩২
×