somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভূত ভূতং ভূতঔ

০৮ ই মে, ২০০৮ রাত ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
নিচের কাহিনীটা পুরোপুরি সত্য। ঘটনাটা ঘটেছিলো আইইউটি তে থাকতে।



[১]

ঘটনার শুরু সাউথ হলের ৫২১ নম্বর রুমে। এক সন্ধ্যায় শাদিদ গল্পটা যখন বলা শুরু করলো তখন শ্রোতা কেবল আমি, দিপু আর মিফতাহ্‌; ৫২১ এর ত্রিরত্ন। গল্পটার কাহিনী অনেকটা এইরকম ছিল,

“...রাতের বেলায় এক লোক পাহাড়ী রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো। বেশ জোরেশোরে বৃষ্টি পড়ছিলো। কিছুদুর যাবার পর সে একটা গাড়িকে রাস্তায় মুখ থুবরে পড়ে থাকতে দেখলো। সাহস করে কাছে গিয়ে সে দেখল এক মহিলার লাশ গাড়িতে পড়ে আছে। অবাক ব্যাপার হচ্ছে, মহিলার পুরো শরীর ভর্তি গহনা! কেউ সেগুলোতে হাত দেয়নি পর্যন্ত। লোকটার মাথায় লোভ মাথাচাড়া দিয়ে ঊঠলো। সে একে একে সব গহনা খুলে নিলো। ঝামেলা বাঁধালো মহিলার ডান হাতের অনামিকার একটা আঙটি। কিছুতেই খুলা যাচ্ছেনা সেটা। লোকটাও ছাড়বার পাত্র নয়। সে পরে সেই অনামিকা কেটে আংটিটা নিয়ে যায়। ... বিশ বছর পরের কথা... লোকটা এখন বিশাল বড়লোক। এক বৃষ্টির রাতে সে আবার সেই পথ দিয়ে আসছিলো। হঠাৎ গাড়ি বন্ধ হয়ে গেল। কাছাকাছি এক কুঁড়েতে সে গেলো পানি চাইতে। এক মহিলা ছিল সেই কূঁড়েতে। লোকটা পানি চাইলে সে ভেতর থেকে এক গ্লাস পানি এনে দিল। লোকটা তখন মহিলাকে বিশ বছর আগের সেই কাহিনী বলা শুরু করে। কাহিনী শেষ হলে মহিলা হঠাৎ করে তার ডান হাত বাড়িয়ে দেয় লোকটার দিকে...”

... এটুকু বলে শাদিদ হঠাৎ অনামিকাটা ভাঁজ করে ওর ডান হাত বাড়িয়ে দেয় । এইরকম একটা গল্প শুনার সাথে সাথে এইরকম আচমকা ডান হাত বাড়িয়ে দেয়ায় আমাদের কলিজা পুরা ঠান্ডা হয়ে গেল।

... যাই হোক নিজেরা ভয় পেয়েছি ভালো কথা, তবে পোলাপানদের ভয় দেখানোর একটা উপায় তো পাওয়া গেল!

[২]

সাউথ হল, রুম নম্বর ৫১৩। এই রুমের অধিবাসী রাতুল, সাদাত আর আতিক। টার্গেট করলাম সাদাতকে ভয় দেখাব এই গল্পটা বলে। গেলাম ওদের রুমে। রাতুল ছিলনা। আতিক আর সাদাতকে পেলাম। সব আলো নিভিয়ে দিয়ে গল্পের আসর জমিয়ে ফেললাম। গল্প প্রায় শেষ পর্যায়ে... আচমকা ডান হাত বাড়িয়ে দেয়ার সময় আসলো... সাদাতের দিকে বাড়িয়েও দিলাম... কিন্তু এরপর যা ঘটলো তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। হঠাৎ খাট থেকে কিছু একটা পড়ার আওয়াজ পেলাম। আমি আর সাদাত দুজনেই মাথা ঘুরিয়ে দেখলাম আতিক ভয় পেয়ে পড়ে গেছে। গল্পটা রঙ নাম্বারে চলে গেছে!

আলো জ্বালানো হলো। আতিককে শান্ত করা হলো। বেচারার বুকের ধুকপুকানি তখনো কমেনি। সাদাত বললো ও এই গল্পটা অন্যভাবে শুনেছে। শেষ অংশে নাকি বক্তা নিজের ডান হাত হঠাৎ বাড়িয়ে দিয়ে শ্রোতাকে বলে, "তুই এজন্য দায়ী!" বলতে বলতে সাদাত ব্যাপারটা করেও দেখাল। সে একটু বেশিই জোরে বলে উঠেছিল, কারন সাথে সাথেই আবার ধপ্‌ একটা আওয়াজ। মাথা ঘুরিয়ে দেখলাম আতিক ওর জায়গায় নাই, চিৎপটাং হয়ে পড়ে আছে!

[৩]

সাউথ হল, রুম নম্বর ৫২১। নিজের রমে এসে দিপু আর মিফতাহ্‌কে ৫১৩ তে ঘটে যাওয়া কাহিনী বলছি। এমন সময় দরজায় কেউ নক্‌ করল। উঠে গিয়ে দরজা খুলতেই ওপাশ থেকে কেউ চিৎকার করে বলে ঊঠলো, "তুই এজন্য দায়ী!" ... কাজটা আতিকের। হঠাৎ বলে উঠায় বেশ চমকে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওকে বুঝতে দেইনি। যথাসম্ভব স্বাভাবিক স্বরেই ওকে বললাম, “কী ব্যাপার আতিক?” আতিক বেশ অবাক! আমি ভয়-টয় কিছু পাইনাই। বেচারা এসেছিল প্রতিশোধ নিতে। এমন সময় আমার পিছন থেকে আচমকা দিপু এসে আতিকের দিকে ডান হাত বাড়িয়ে বললো, “তুই এজন্য দায়ী!”

আমার চোখের সামনে আতিককে তৃতীয়বারের মতো ফ্ল্যাট হতে দেখলাম... তবে এবার ব্যালকনিতে!!
১০টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×