যে বিষবৃক্ষ একদিন রোপন করেছিলেন শেখ হাসিনা
শরীফ হোসাইন মৌন
কথায় বলে যার আমেরিকার মতো বন্ধু আছে তার আর শত্রুর দরকার হয়না। কথাটি যে কেবল কথার কথা নয় বরং সত্য তার জ্বলন্ত উদাহরন বর্তমান ইরাক ও পাকিস্তান। আর এ কথা যে সত্য সে ব্যপারে কারো কোন দ্বি-মত নেই যে, হরিনের মাংসই হরিনের শত্রু। আমাদের রাজনৈতিক পরিমন্ডলেও একটি কথা বহুল প্রচলিত যে শেখ হাসিনার মুখের ভাষাই স্বয়ং তার ও আওয়ামী লীগের শত্রু। আওয়ামী নেতৃস্থানীয়রা প্রকাশ্যে কথাটিকে যতই এড়িয়ে যাকনা কেন কিংবা অস্বীকার করুক না কেন, ব্যাপারটা নিয়ে যে তারা সচেতন তার প্রমান বিদেশ থেকে আসার পর শেখ হাসিনার মিডিয়া এড়িয়ে চলা। রাজনীতির মাঠে এমনও গুজব রয়েছে যে, দলের পক্ষ থেকেই তাকে এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে অন্তত নির্বাচন অনুষ্ঠান পর্যন্ত যাতে তিনি কথা কম বলেন। তবে এটা সত্য যে, বিদেশ থেকে আসার পর তিনি কথা খুবই কম বলছেন এবং তেমন কোন বিতর্কিত বক্তব্য দেননি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে। এটি নি:সন্দেহে ভালো লক্ষন। কিন্তু কিছু সময়ের জন্য জোর করে ভালো কাজ কি করা যায় যদি না তাতে ব্যাক্তিগত স্বত:স্ফূর্ততা থাকে?
সেনা কুঞ্জে দুই নেত্রীর কথপোকথন সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন তিনি কোন দূর্নীতি করেননি,তার ছেলেরা(তার কিন্তু একটা ছেলে)দূর্নীতি করেনি, তার বোন কোন দূর্নীতি করেননি। অন্যর (বিএপিকে বোঝাতে চেয়েছেন) দায় কেন তাকে নিতে হবে?
এইভাবে তিনি যে প্রতিপক্ষকে সামান্য সুযোগেই অভিযুক্ত করলেন তার কি আসলে কোন ভিত্তি আছে? আসলে এটা উনার স্বভাব জাত। তারপর বলা যায় ২৩ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী শিক্ষক প্রতিনিধিদের সাথে তার সাক্ষাতের সময়কার বক্তব্যর কথা।
তিনি নির্বাচন পেছানোর সমালোচনা করে বলেন, এতে তাদের মনোনয়ন বঞ্চিতদের বিএনপি অর্থের লোভ দেখিয়ে বাগিয়ে নেবার সুযোগ পাবে। কারন ওদের অনেক টাকা পয়সা আছে। যাই হোক আমরা দেখতে পাচ্ছি বক্তৃতা দেবার সুযোগ পেলেই তিনি স্ব-মূর্তিতে আবির্ভূত হন। প্রতিহিংসায় জ্বলতে থাকেন। এটাতো একদিনে হয়নি । দীর্ঘদিন ধরে নিজের ভেতর প্রতিহিংসা ও পরনিন্দার যে অনুশীলন তিনি করেছেন এবং স্ব-গোত্রীয় মিডিয়ার যে বাহবা তিনি পেয়েছেন এটা সে ধারাবাহিকতারই অভিশাপ। তার কটূ কথাবার্তা কিংবা দলীয় সন্ত্রাসের পক্ষাবলম্বন নিয়ে সব কথা বলার সুযোগ এখানে নেই। তবে দু’চারটি কথা উল্লেখ না করলেই নয়। প্রধানমন্ত্রীর মত একটা গুরুত্ত্বপূর্ন পদে বসে যখন তিনি একটি লাশের বিনিময়ে দশটি লাশ ফেলার কথা বলেন, কিংবা শামীম ওসমান,তাহের মিয়ার মত গডফাদারদের পক্ষে বিবৃতি দেন কিংবা হরতালের বিপক্ষে সসস্ত্র সন্ত্রাসীদের শান্তি মিছিল বের করান;তখন নিজের অজান্তেই যে বিষবৃক্ষ তিনি রোপন করেন তা ফুলে ফলে আরেকবার প্রস্ফুটিত হয় লগি-বৈঠা হাতে স্বয়ং তারই আদেশে পল্টনে ২৮ শে অক্টোবরে। হাইকোর্টের রায়ের বিপক্ষে তিনি যখন লগি-বৈঠা হাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাজপথে নামিয়ে দেন তখন বোধ হয় বুঝতেই সক্ষম হননি পাপ একদিন বাপকেও ছাড়েনা।
তৃনমূল নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে, বিশেষ মহলের ঈঙ্গিতে তিনি প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেন চিকিৎসার নামে বিদেশে অবস্থান করার সময়। স্বভাবতই কর্মী সমর্থকরা তা মেনে নেয়নি। এখন কী দেখছি আমরা? কর্মী সমর্থক নেতাদের লগি-বৈঠা হাতে সুধা সদনের সামনে জড়ো হতে। কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়ি ভাংচুর করতে। হাই কমান্ডের নেতারা এখন সুধা সদনে ঢুকেন বের হন বিকল্প পথে অনেকটা লুকোচুরি করে! সুধা সদনের চারপাশ জুড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সেই লগি-বৈঠার তান্ডব। এমনকি সামনে এসে তাদের বক্তব্য শোনার ঝুঁকিও শেখ হাসিনা নিতে পারছেন না। শেষ পর্যন্ত ভিডিও কনফারেন্স-এর মাধ্যমেও লগি-বৈঠা নামানো যায়নি তার কর্মী-বাহিনীর হাত থেকে। বলতে গেলে এখন তিনি নিজের লোকদের লগি-বৈঠার তান্ডবের ভেতরই আপনালয়ে গৃহবন্দি। তারই প্রিয় লগি-বৈঠা আজ তাকেই তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
নিজ দলীয় সন্ত্রাসীদের দমন না করে প্রশ্রয় দিয়ে,সন্ত্রাসের উপকরন হাতে তুলে দিয়ে যে বিষবৃক্ষের বীজ একদিন তিনি বোপন করেছিলেন তার বিষময় ফল আজ তাকে ভোগ করতেই হবে।
২৩/১১/০৮
শরীফ হোসাইন মৌন
e-mail:[email protected]
mob: 01670495397

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

