গনতন্ত্র ও সেক্যুলারিজমের প্রণয়ের গোপন কাহিনী
শরীফ হোসাইন মৌন
একটা সময় মনে করা হতো যে, সেক্যুলারিমজ পশ্চিমা গনতন্ত্রের (ধনতান্ত্রিক পুঁজিবাদীদের রক্ষাকবচ) শত্রু। তা সত্য ছিল বটে। কিন্তু সেক্যুলারিজমের নিজের দোষেই নিজে যখন কুপোকাত তখন ব্যর্থ এ মতবাদটিকে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে অপ সাম্রাজ্যবাদী পশ্চিমা গনতান্ত্রিকদের হাতে ব্যবহৃত হতে দেখা যাচ্ছে। তারচেয়ে বড় কথা ইসলামকে ঠেকাতে গনতন্ত্র যখন হিমশিম খাচ্ছে তখনই সে ছুটে যায় বশকৃত সাবেক শত্রু সেক্যুলারিজমের কাছে। উভয়ের অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে তাই তাদের জোটটি সর্বত্র অটুট হচ্ছে। প্রতিটি জোটের মিত্রদের যেমন কিছু চাওয়া পাওয়া থাকে, এখানে ব্যপারটি সেরুপ নয়।এখানে সেক্যুলারিজমকে ব্যবহার করা হয়। বলা যায় সেক্যুলারিজম এখন গনতন্ত্রের কামলা খাটছে যুদ্ধবন্দীর মতো। ব্যপারটা আমরা আমাদের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিকে দৃষ্টিপাত করলে আরো ভালভাবে বুঝতে পারব।
চরম ধনতান্ত্রিক সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি এবং বিশ্বময় সন্ত্রাস বিস্তারের দুই সহোদর আমেরিকা ও ইংল্যান্ডে তাদের সৃষ্ট গনতন্ত্র শিঁকড় গেড়ে বসেছে। কিন্তু তাদের ইচ্ছা বাংলাদেশে সেক্যুলারিজমের সরকার হোক! পাশ্ববর্তী দেশ ভারতেও সেক্যুলারিস্টরা ক্ষমতায় নেই। সেই অসেক্যুলার সরকারেরই রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশকে সেক্যুলার রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। বড় অদ্ভুত প্রত্যাশা বটে।
আমাদের বিশাল ধর্মবিশ্বাসী জনগনের বিশ্বাস ও মতের বিপরীতে সেক্যুলারিজমের একটা গুপ্ত ধারা তারা তথাকথিত সুশীল সমাজ ও মিডিয়ায় প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। পরাশক্তির ইচ্ছায় যদি বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর বিশ্বাসের বিপরীতে কোন সরকার ক্ষমতায় বসে স্বভাবতই তাকে হতে হবে তার পরাশক্তি প্রভুর অনুসারী। যেহেতু সে শিকঁড় বিহীন কাজেই তার পররাষ্ট্রনীতি হবে পরাগাছার মতো দুর্বল। সম্ভবত পরাশক্তি ও তাহাই চাচ্ছে। এইসব হিসাব নিকাশকে সামনে রেখেই ১/১১-র আবির্ভাব। ২২শে জানুয়ারীর নির্বাচন বর্জন , লগি-বৈঠার তান্ডব এবং ত্রাতার ভূমিকায় বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের আগমনকে তাই আলাদা করে দেখার উপায় নেই।
এখনো অনেকে বিশ্বাস করে সাবেক সিইসি এম এ আজিজের কারনেই সেই নির্বাচন আঃলীগ বর্জন করে। কিন্তু যুক্তির একটুখানি দরজা খুলে দিলেই এই বিশ্বাসের অসারতা প্রমান হয়ে পড়ে।কানাডার জনৈক আইনজীবীর বরাতেই শুনেছি ১/১১নিয়ে আরো বছর দুয়েক আগের্ পরিকল্পনার কথা। এম এ আজিজের অধীনেই আঃলীগ নমিনেশন পেপার সাবমিট করে এবং শেষদিনে তা প্রত্যাহার করে। প্রত্যাহারের কারন যে এম এ আজিজ ছিলনা এতেই তা প্রমানিত হয়, বরং কারন ছিল কূটনৈতিকদের কূট চাল। এরশাদ ছিল ফালতু ফ্যাক্টর । অধিক সংখ্যক দলকে মনোনয়নের লোভ দেখিয়ে জোটবদ্ধ করে নির্বাচন বানচাল করাই ছিল তখন সাম্রাজ্যবাদীদের দোসর দলসমূহ ও মিডিয়ার আপ্রান প্রচেষ্টা। কর্নেল অলির এলডিপির মতো নগন্য একটা দলের বিবৃতি ও কর্মকান্ড নিয়ে প্রথম আলোদের তখনকার লাফালাফি ভুলে যাবার নয়।এখন আর এলডিপির দরকার নেই । তাই তাদের খবরও পেপারে নেই। এরশাদের সাথে তখন আঃলীগের চুক্তি ছিল ৬০আসন দেওয়ার এবং এরশাদকে রাষ্ট্রপতি বানানোর। ব্যাপারটা যে আঃলীগের প্রতারনা ছিল তার প্রমান তাদের এখনকার অবস্থান। খেলাফত মজলিশের চুক্তির কথা ও এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।ঠিক একই ভাবে জাকের পার্টিকে ১৫/২০ আসন , তরিকত ফেডারেশনকে২০/২৫ আসন, এলডিপিকে অথবা বিকল্প ধারাকে৩০/৪০ আসন, এবং নামসর্বস্ব বিভিন্ন বামদলসমূহকে একইভাবে ব্যাগ ভর্তি করে আসন বন্টন করে দিতে দেখা গেছে।ভাবতে অবাক সেসব দলগুলো ও তা বিশ্বাস করেছিল।আজ কোথায় মহাজোটে তাদের অবস্থান? আঃলীগ প্রথম থেকেই চেয়েছিল জোটবদ্ধ করে নির্বাচন বয়কট।তারা তাতে সফল হলো।১/১১ এলো।সাম্রাজ্যবাদীরা তাই হঠাৎ আঃলীগকে সেক্যুলার বানিয়ে তাদের পরিকল্পনা এগিয়ে নেবার প্রয়াস পেল।শেখ হাসিনাকে তাই এখন দেখছি মূর্তির পক্ষে কথা বলতে,সন্ত্রাস বিরোধী অনন্ত যুদ্ধে আমেরিকার সাথী হবার প্রতিশ্রুতি দিতে, তার পুত্রকে দেখছি দক্ষ মার্কিন গোয়েন্দার সাথে বসে ইসলামিস্টদের ঠেকানোর কৌশল নির্ধারন করতে,ম্যাক কেইনের আগমনে দক্ষিন এশিয়ায় সন্ত্রাস বিরোধী (ইসলাম বিরোধী প্রকৃতপক্ষে)জোট গঠনে শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি জানাতে।
কিন্তু রাজনীতিতে শত্রুমিত্র চেনা বড়ই কঠিন।শেখ হাসিনার চেয়েও বেশী আধুনিক সেক্যুলার হয়েও বেনজির বাঁচতে পারেনি,আমেরিকার বলির পাঁঠা তাকেই বানানো হলো।বেনজিরকে হটিয়ে আমেরিকা নিয়ে এসেছে আসিফ আলীকে। শেখ হাসিনাকে হটিয়ে যদি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ডা: কামাল কিংবা ইউনূস কিংবা আকবর আলী মার্কা সুশীলরা চলে আসে তাহলে শেখ হাসিনা অবাক হলেও হয়তো দেশবাসী অবাক হবেনা।
কতগুলো কালো আইনের অপশক্তি হাতে নিয়ে চলছে ইলেকশনের নামে সিলেকশনের রোড ম্যাপ।নির্বাচনের দিন যথারীতি দেশবাসীকে অবাক করবেন সিইসি।হাসিনা খালেদার জামিনের মেয়াদ এতদিন উত্তোরত্তোর বৃ্দ্ধি পেলেও নির্বাচনের পরে নিশ্চিতভাবেই আর বাড়বেনা।দুই দলের সংস্কারপন্থী সুশীল আর স্বতন্ত্র সুশীলরা জিতে আসবে।প্রথম আলোর পাতা জুড়ে বয়োবৃদ্ধ মহিলা পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ লাইনের ছবি ছাপা হবে।প্রচারেই প্রসার এই আপ্ত বাক্যর কল্যানে ভোটপ্রদানের হার ৮৫% ছাড়িয়ে যাবে।সরকার গঠনের মত আসন কেউ না পেয়ে জাতীয় সরকারের নামে অথবা নতুন কোন মনকাড়া বাহারী নামে মার্কিন ভক্ত দালাল সরকার গঠিত হবে।বিদেশী পর্যবেক্ষকরা অতি নিরপেক্ষ নির্বাচন সুসম্পন্নের জন্য সরকার ও সেনাবহিনীকে ধণ্যবাদ দিবে।সর্বদলীয় জাতীয় সরকারের বস্ ডাঃ কামালরা এগিয়ে এসে সেক্যুলারিজমের নামে পশ্চিমা ধনতন্ত্রের ও বিশ্বায়নের অবাধ দুয়ার খুলে দেবেন। আমাদের অতি প্রিয় ভোটসর্বস্ব গনতন্ত্র ও নাস্তিকদের প্রিয় সেক্যুলারিজমের খায়েশ মিটবে।০৩/১২/০৮ইং
e-mail: [email protected]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

