বিজয়ের এই দিনে
শরীফ হোসাইন মৌন
অবশেষে সবাই শেখ হাসিনার মতো হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। ইলেকশনের নামে সিলেকশন সুসম্পন্ন হয়েছে।তবে প্রার্থক্য যা হবার তা হলো তরকারিতে ঝোল একটু বেশী হলো এই যা।অনেকে আমাকে বলে আপনি কী হতাশ?আমি বলি পাগল নাকি?দেশ দখলের পাঁয়তারা চোখ কান বিবেক খুলে এতদিন যারা বুঝেছে,জেনেছে, তাদের নতুন করে হতাশ হবার কী আছে?বরং ষড়যন্ত্রের পরিনতির ভেতর দিয়ে সব কিছু খোলাশা হওয়ায় তারা খুশিই বটে! আমার অফিসের কট্টর লীগাররা আজ দেখলাম মুখ গোমড়া করে বসে আছে।কেমন লাজুক!লাজুক!!এতবড় খাপছাড়া বিজয়ের পরেও তারা লজ্জিত!উনিশ-বিশ হলেতো তাদের জ্বালায় বাছা যেতনা,এখন সিইসির ব্যাগভর্তি উপহারে স্বয়ং তারাই মুখ লুকাচ্ছে। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির পানে তাকিয়ে আমার আজ সত্যি দয়া হচ্ছে।তাই এ কথা বলা সমীচীন হবে যে,আ’লীগ ও জিতেনি,বিএনপিও জিতেনি , জিতেছে আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি।
১)একটা গল্প বলি.....
এক উৎশৃংখল রমনী ছিল ।দশ মাসের গর্ভবতী। বাচ্ছা হবে।বাপের বাড়ী,শ্বশুরবাড়ী সবখানে খুশি খুশি ভাব।অবশেষে যথাসময়ে বাচ্ছা হলো।তবে একটা না পনেরটি! খুশির বদলে সবাই লজ্জায় মুখ লুকাচ্ছে ।কেউ কেউ বাজে মন্তব্য করছে।হঠাৎ বেহায়া রাগী স্বামী বলেই উঠল এতোগুলো আমার সন্তান না ও(স্ত্রী) আর কার কার সাথে শুয়েছে?
আওয়ামী লীগকে তো জনতা জিতায়নি জিতিয়েছে সিইসি।এই আকামটা আজ বাকশালীদের ও দৃষ্টি এড়াচ্ছে না।
২)যারা গ্রামে থাকে তারা জানে শোল মাছের বাচ্চা ফুটলে বাচ্চার দল দলবদ্ধভাবে পানির উপরে টিপ টিপ করে।সে এক চমৎকার দৃশ্য।বাচ্চাদের ঐ দলের পেছনেই পাহাদার হিসেবে নি:শব্দে থাকে মা শোল।বাচ্চা ধরতে গেলে সর্বশক্তি দিয়েই সে আঘাত করতে চেষ্টা করে।মাতৃত্ব কখনো আপোস করেনা।
বনের পশুও তার বাচ্চার আক্রমনকারীকে রেহাই দেয়না।ন্যাশনাল জিওগ্রাফীর দর্শক মাত্রই তা জানে।তারেক জিয়াকে তিন তলার উপর থেকে ফেলে হাত পা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।খালেদা জিয়া তত্বাবধায়ক সরকারকে এমনি ছেড়ে দেবে?সরকারও এতো বোকা না।
৩)অবৈধ সরকারের দুই বছরের আকাম কুকামের বৈধতা দেওয়ার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যর(নূন্যতম ২০০) ভোট প্রয়োজন ছিল।সরকার হিসেবে একটুও ভুল করেনি।এখন আ’লীগ পুতুল সরকার যা যা করতে পারে...
ক)সরকারের অবৈধ কাজের বৈধতাদান
খ)ইসলামী রাজনীতি বন্ধকরন
গ)যুদ্ধপরাধীদের বিচার সম্ভব না।ফখরুদ্দিনও তা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে যেহেতু তা মীমাংসিত বিষয়।তার সাথে জাতিসংঘ,ভারত,পাকিস্তান জড়িত।রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের পর আ’লীগ সে ব্যপারে এখন আর মজা পাবেনা।তবে দালাল আইন নাড়াচাড়া করে হুজুরদের খালাশ করতে পারবে।
ঘ)৭২-এর সংবিধান পুন:স্থাপিত করতে পারে যাতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস কথাটি নেই।এতে তাদের সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী ঈদের মতো আনন্দ পাবে।তবে জনগনকে এ ব্যাপারটা তাদের মিডিয়া জানাবেনা।যেহেতু কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন করবেনা বলে হাসিনা ঘোষনা দিয়েছিল।
এইসব আইনপ্রনয়নে সংসদের ভেতর থেকে জোর দাবী উঠবে এবং বিরোধীতা হবেনা যেহেতু চিহ্নিত নাস্তিকরা আওয়ামী কাঁধে ভর করে এবার সংসদে ঢুকবে এবং হুজুররা কৌশলে মার খেয়ে সংসদের বাহিরে থাকবে।
৪)ভোটের দিন থেকে সকল টিভি চ্যানেল থেকে জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধের আলোচকরা নিষিদ্ধ হয়ে গেল।তাদের জায়গায় নিয়ে আসা হলো চিহ্নিত একালের ইসলামবিদ্বেষী রাজাকার মাহফুজ আনাম,শাহরিয়ার কবির,গোলাম সারোয়ার,তানীয়া আমির,আবেদ খানরা।সন্ধ্যার পর থেকেই তারা সিইসিকে ধন্যবাদ দিয়ে বিএনপির পরাজয়ের কারন,বাকশালের বিজয়ের কারন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল।বিরুদ্ধ মতের কেহ এসে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে দর্শকদের মনে প্রশ্ন জাগাবে তা তারা হতে দেয়নি।কিছু মিডিয়া স্বত:স্ফূর্তভাবে,কিছু ঘুষের চাপে,কিছু হুমকির মুখে এসব কাজ সুচারুভাবে চালিয়ে যাচ্ছিল।
৫)অনেকেই ভাবছেন চমৎকার ভাবে লাইন ধরে ভোট দিয়েছেন।ভোটার লিস্টে ছবি থাকায় জাল ভোট কম পড়েছে।তবে পাতানো নির্বাচন কেমনে হয়েছে তা বোঝা যাচ্ছেনা। তাদের জন্য একটা উদাহরন-সিনেমার ফাইটিং দৃশ্যে নায়ক বাবাজি কতক্ষন গুন্ডার হাতে মার খাবে,কখন মার দেবে , আখেরী জয় কার হবে তা পরিচালক ও স্ক্রীপ্ট রাইটার ভালো করেই জানেন।আমরা না হয় নকল মুক্ত পরিবেশে শান্তিপূর্নভাবে পরীক্ষা দিলাম কিন্তু খাতা তে দেখবে অন্য কেউ।আমাদের সুশীল উপদেষ্টা পরিষদ ডক্টরেট,বহুত জ্ঞানী তাদের কৌশল আমাদের চিন্তার বাহিরেই থাকবে।নয়কি?
৬)একটা ভালো ছাত্র গনিত শিক্ষকের সহায়তাই অংকের প্রশ্ন আউট করতে সক্ষম হয়।একে তো ভালো ছাত্র তার উপর প্রশ্ন আউট।প্র্যাকটিসের পর প্র্যাকটিস।পরীক্ষায় গিয়ে চোখ বন্ধ করে লেখা শুরু।খুশির ঠেলায় ভুলেই গেছে যে,অংকের অথবাসহ সে উত্তর করেছে।যাই হোক ১০০মার্কের পরীক্ষায় ২০০ পাওয়ার পর সে ধরা পড়ে যায় এবং স্বীকার করে।আ’লীগ স্বীকার না করলেও ধরা পড়ে গেছে।
৬) নির্বাচন অনুষ্ঠান ও ফলাফল ঘোষনায় এমন কোন ডিজিটাল টেকনোলজি লাগে যা ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় ছিলনা?তখন সম্পূর্ণ ফলাফল কিংবা ফলাফলের গতিধারা জানতে আমাদের রাত ২/৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।এবার মাশা আল্লাহ সন্ধ্যার পর পর অর্থাৎ সাড়ে ৬টা/৭টার দিকেই ফলাফলের গতিধারা বুঝতে সক্ষম হয়েছি।দারুন ডিজিটাল!
একুশে টিভিতো রাত১০টার ভেতরই আ’লীগের ২২৭ আসন প্রাপ্তির খবর টিভির স্ক্রীনে ঝুলিয়ে রাখে!বাকী চ্যানেলগুলো একটু দেরীতে হলেও একই রেজাল্ট অনুসরন করে।
৭) শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচারনায় দারুন অনীহা দেখিয়েছেন।এক দিন পরে শুরু করে প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে তিনি হাসিনার প্রায় দ্বিগুন বেশি জনসভায় গিয়েছেন। প্রচন্ড অসহিষ্ঞু হাসিনা নির্বাচনের দিন সকালেই সবাইকে ফলাফল মেনে নেবার আহবান জানিয়েছেন।এমনকি বিজয়ের পর মিছিল মিটিং না করার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন।তার উপর কি সিইসি থেকে গায়েবী ওহী নাজিল হয়েছিল?
৮) বিএনপির প্রতি মায়াকান্নাকারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে।আহারে দরদী।তাদের পরাজয়ের কারন নাকি জামায়াত।যদিও বিএনপির কেউ কোথাও কখনো বলেনি।আসলে নীল নকশার নির্বাচন নিয়ে যাতে আলোচনা না উঠে সে জন্য অন্য দিকে দৃষ্টি ফেরানোর এই প্রচেষ্টা।
৯)জয় বাংলা
জয় রাম
জয় হনুমান
জয় দূর্গা
জয় ভারত
জয় ইসরায়েল
জয় আমেরিকা
জয় ধর্মনিরপেক্ষতা
জয় কমিউনিজ্যম
জয় সুষ্ঠু নির্বাচন
জয় বঙ্গবন্ধু
৩১/১২/২০০৮
e-mail: [email protected]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

