বেশ কিছু বছর আগে
দিনটি ছিল রৌদ্রজ্জ্ব্ল
রোদের আলো তরুণীর মুখের বিষাদময় অন্ধকারের সাথে এক অদ্ভুত ছায়া তৈরি করেছিল।
বালুকাবেলায় কোমল পদচিহ্ণ আঁকার ছলে ভাবছিল তরুণী
তার অচেনা স্বপ্নমানবের কথা।
সে ভাবছিল আশ্চর্য সেই শব্দটির কথা
যার আহ্বানে যুগে যুগে আত্মাহুতি দিয়েছে অসংখ্য প্রেমিক-প্রেমিকা।
নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে তরুণী প্রশ্ন করে-
কি আছে এই চার অক্ষরের "ভালবাসা" শব্দটিতে?
তরুণী জানতোনা-
ঠিক তখনই তার উদাস চাহনী,সরলতার আভা ছড়ানো হাসি
সেই প্রশ্নটির উত্তর লিখে দিয়েছিল ভিনদেশী এক যুবকের মনের খাতায়।
সুদর্শন সেই তরুণের চোখে চোখ পড়া মাত্রই
লাজ-রাঙ্গা তরুণী নিজেকে ভালবাসার জালে জড়িয়ে ফেললো।
খরস্রোতা নদীর বেগে বয়ে চলল সময়
তরুণটির নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সময় হয়ে এল বলে।
অনেক প্রতিশ্রুতি,অনেক আশা-ভরসার পর তরুণীর আলিঙ্গন ভেঙ্গে সেই তরুণ সমুদ্রের বাহুডোরে আবদ্ধ হল।
সেই থেকে প্রতিদিন সৈকতের ধারে বসে অপেক্ষা করা
অভ্যাসে পরিনত হল তরুণীর।
নরম বালিতে ভবিষ্যৎ জীবনের স্বপ্ন আঁকতে আঁকতে তরুণী আকাশকে শুধায়-
কবে হবে আমার অপেক্ষার অবসান?
এক একটি বছর যেন এক একটি অশ্রুবিন্দু হয়ে জমা হয় নিষ্পাপ চোখের কোলে।
তরুণীর দীর্ঘশ্বাসে গাছের পাতা কম্পিত হয়
আর তরুণীর মনে জাগে এক অদ্ভুত বেদনা।
শ্বেত-শুভ্র মনে শুধুই জেগে থাকে তাকে হারাবার আশঙ্কা।
তবে কি সমুদ্রের অসীমতায় হারিয়ে গেছে তার ভালবাসা?
অজানা ভয়ে কেঁপে ওঠে তরুণীর হৃদয়।
কিন্তু হাল ছাড়ে না তরুণী।
তাই এখনো-
সমুদ্রতীরে বসে আছে নিঃসঙ্গ যুবতী,তার ভালবাসার পুরুষটির অপেক্ষায়।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১১ রাত ১০:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



