আমি একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট। হ্যা, কয়েক বছর আগে তুমুল প্রতিযোগীতার পরীক্ষাতে অনেককে পেছনে ফেলে অনেকের মত ামিও প্রথম সারির সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলাম।
কিন্তু আমি জানি আপনারা এখন আমাকে গালি দিবেন,এমনকি কেউ কেউ এটাও বলবেন যে, মানুষকে যাদের বাঁচানোর কথা তারা মানুষের জীবন কিভাবে নেয়।
কিন্তু আমি আপনাদের কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে পারবনা। কারণ হয়ত জবাব দিতে গেলে অন্য কেউ এসে আমাকেও..।
আসলেই আমি খুবই ভীতু।এতই ভীতু যে আমি জোর গলায় আবিদ ভাইয়ার খুনের বিচারও চাইতে পারি না। তাহলে হয়ত আমিও পড়ে থাকব ইমারজেন্সির এক কোনায়।
আমি রাজনীতি বুঝি না-কোনদিন বুঝতেও চাই না। কেন কে কাকে কিভাবে পেটাল,তাও জানিনা।কে কোন দল সমর্থন করে, আমার জানার দরকার নেই-আমি শুধু একটা জিনিষ জানি,তা হল মানুষ হতে হলে অন্য মানুষের প্রতি মমত্ববোধ থাকে,থাকতে হয়। আর আমরা যারা মানুষের জীবন নিয়ে পড়াশোনা করি, তাদের মন হতে হয় আকাশের মত উদার।
জানি না কি বলছি আর কেন বলছি।আসলে মাথা ঠিক নেই তো- চারদিকে এখন খুব ভয়ের পরিবেশ। সবার চেহারায় স্থায়ী আতঙ্কের ছাপ।
এতক্ষনে আবিদ ভাইয়ার লাশ কক্সবাজারে পৌঁছে গেছে। কল্পনায় শুনতে পাচ্ছি আবিদ ভাইয়ার মায়ের গগনবিদারী আর্তচিৎকার। এরকম তো হওয়ার কথা ছিল না? আবিদ তো বলেছিল সে ডাক্তার হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসবে!
আবিদ ভাইয়ার স্বামীহারা, সন্তানহারা মাকে আমি কিভাবে সান্তনা জানাব বুঝতে পারছিনা।
লেখাটা শেষ করতে হবে,কিন্তু যে কারণে লেখা- একটি আবেদন- ভীতু ছাত্রের আবেদন। আমরা কেউ বেশি কিছু চাই না, শুধু একটা জিনিষ চাই, আমাদের মা-বাবা আমাদেরকে অনেক পরিশ্রম এর বিনিময়ে এখানে পাঠিয়েছেন। আমাদের যাদের আর্থিক সঙ্গতি নেই, তাদের আছে মেধার জোর,আর মানুষের প্রতি এক বুক ভালবাসা। এত কষ্ট করে এখানে এসে আমরা লাশ হয়ে মা-বাবার কাছে ফিরে যেতে চাই না।
পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ এর চেয়ে ভারী কিছুই নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১১ সকাল ১১:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



