Click This Link
আজ খুব ক্লান্ত লাগছে লীনার। কিছুই ভাল লাগছে না। সন্ধ্যা হয়ে এল, আসিফের ফেরার সময় হয়েছে। বারান্দায় বসে আছে চুপ করে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও উঠলো লীনা। সেল ফোন টা হাতে নিয়ে কল করলো আসিফকে "তুমি বাসায় আসছ, নাকি কোথাও যাবে?" এটা লীনার প্রতিদিনের অভ্যাস। ৫ টা বাজলেই আসিফকে ফোন করে জিজ্ঞেস করে সে বাসায় ফিরছে কিনা। আসিফ জানালো বাসায়ই আসবে, যাবেনা কোথাও। কিছুদিন হল কাজের বুয়াটা নেই।লীনার খুব অসুবিধা হয়। একা পেরে ওঠেনা কিছুতেই। সারাদিন ক্লাশ করে বাসায় ফিরে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তবুও উঠে চা বসায় চুলায়, হালকা নাস্তা বানাতে বসে।
কলিং বেলের শব্দ হল। আসিফ এসেছে। দরজা খুললো লীনা। ঠোঁটে একটা স্নিগ্ধ হাসি নিয়ে। আসিফ ভেতরে ঢুকলো। লীনার কোমরটা জড়িয়ে ধরলো, তারপর একটা চুমু দিল। লীনা জানে এই চুম্বনে ভালবাসা, মমতা স্নেহ কিছুই নেই। আছে বুভুক্ষ শরীরের অদম্য কামনা। নারীদের মধ্যে পুরুষের স্পর্শ অনুবাদ করার এক নির্ভূল অভিধান থাকে। পুরুষের স্পর্শ পাবার সাথে সাথে তারা বোঝে তার অর্থ! লীনাও বোঝে। তবুও কিছুই বলেনা যতক্ষন না ত্যক্ত হয়ে যায়!
চা খেল দূজন পাশাপাশি বসে। চা শেষ করেই আসিফ আবারও জড়িয়ে ধরলো লীনাকে। লীনা বাধা দিল না। আসিফকে ছুঁয়ে থাকতে ভাল লাগে ওর। কিছুক্ষনের মধ্যে আসিফের কামুক হাতটা লীনার সমস্ত শরীরে ঘোরাফেরা করা শুরু কোরলো। লীনা এবার বিরক্ত হল। "তুমি কি এ ছাড়া আর কিছুই বোঝনা? জীবনটা কি শুধুই এই জন্য?? " আসিফও রেগে গেল " বিয়ে করেছি কি শোকেজে সাজিয়ে রাখার জন্য?" বিস্ময়ে হতবাক লীনা তাকিয়ে থাকে আসিফের দিকে। বিয়ে করেছে তবে শুধু এ জন্য?!!!!! লজ্জায় অপমানে মাটিতে মিশে গেল সে। চুপ করে উঠে গেল লীনা। রান্নার বন্দবস্ত তে ব্যস্ত করে ফেললো নিজেকে। মনটা তার কোথায় কোথায় কিভাবে যে ঘুরছিল কে জানে।
মুখ গোমড়া করে বসে আছে আসিফ। কথা বলছে না লীনার সাথে। লীনাও চুপ করে কাজ করছে। রাতে খাওয়ার সময় লীনাই ডাকলো আসিফকে। আসিফ খেয়ে শুয়ে পড়লো, শুয়েই ঘুম। ঘুমও আসছেনা লীনার। আসিফ যেদিন কথা বলেনা ওর সাথে, রাগ করে সেদিন এমন অস্থির লাগে তার। ছটফট করতে থাকে বিছানায় শুয়ে। কত কিছু যে মনে পড়ে যায়...........................
""লীনার বাবা মায়ের প্রেমের বিয়ে। কিন্তু কিভাবে যেন তাদের দাম্পত্য সুখের হয়নি। তার মধ্যে একদিন পৃথিবীর আলোয় আসে লীনা। বাবার চোখের মনি সে বরাবরই। আহসান সাহেব মেয়েকে সবকিছুতেই পারঙ্গম করে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। মাত্র চার বছর বয়সে গান শেখে লীনা। আবৃত্তি, নাচ, অভিনয় সব শিখলো। পড়াশুনায় মেধাবী মেয়েটার কোন শখই অপূর্ণ রাখেননি তিনি। কিন্তু লীনার গুপ্ত ক্ষত ছিল অন্য কোথাও।
বাবা মায়ের মধ্যে ঝগড়া লাগতো প্রায়। অকথ্য, অশালীন ভাষার সেই তর্কযুদ্ধ!! চুপ করে শুনতো লীনা সেই অসহ্য চিৎকার গুলো। যেদিন রাতে শুরু হত সেদিন আর ঘুম হত না কারোরই। লীনার সেদিন ঈদ ঈদ লাগতো। ও চোখ বুঁজে শুয়ে শুয়ে ভাবতো অনেক কিছু। একটা মনুষকে নিয়ে ছিল সব ভাবনা। সে মানুষটি কখনও হত প্রফেসর, কখনও ব্যবসায়ী এমনকি মাঝে মাঝে ডাকাতও। চোখ বুঁজলেই লীনা যেন অন্য একটা পৃথিবী তে প্রবেশ করতো। তার সাথে কত কথা হত ওর। বাবা মায়ের ঝগড়ার শব্দ ওর কানে ঢুকতো না। সেই অশরিরী স্বপ্নমানবটার সাথে রোমাঞ্চেই কেটে যেত সারাটা সময়ে।
লীনার এমন অদ্ভূত অনেক আচরণ ছিল, যা হয়ত স্বাভাবিকদের চোখে অস্বাভাবিক!! মনে মনে অসম্ভব কাঙাল লীনা সব সময় খুঁজেছে ভালবাসা, একটু শান্তি, একটু স্বস্তি। কিন্তু না। কিছুই পেল না সে। মাঝে মাঝে সব ভেঙে চুরে তছনছ করতে ইচ্ছে করে লীনার।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



