somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জানালার ওপাশে জোছনা..................৫

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Click This Link

গোসল করে বের হয়ে লীনা দুটো মুখে দিল। মনটা ভাল হচ্ছে না কিছুতেই। চিরদিনই বড্ড অস্বাভাবিক রকমের চঞ্চল লীনা। এ কারনে ওর মনের গুমোট কষ্টগুলো কেউ বুঝে উঠতে পারেনা। লীনা ততক্ষনই নিশ্চুপ, যতক্ষন ও একা থাকে। লীনা বটি টা নিয়ে তরকারি কাটতে বসে, রাতে রান্নার জন্য। সাংসারিক কাজে চরম অনভ্যস্ত লীনা ঠিক মত গুছিয়ে উঠতে পারেনা কিছুতেই। বাবা শুধু বলতেন "অনেক বড় হ মা" সংসারের কোন একটি কাজ কখনও করেনি লীনা, প্রয়োজনও পড়েনি। বিয়ের পর প্রথম রান্না করেই সবার প্রশংসা পেয়েছিল লীনা। লীনার রান্নার কথা অনেকেই জানেন। এত ভাল রান্না লীনা কারও কাছেই শেখেনি। আসলে যারা পারে তারা এমনিতেই পারে, আর যারা পারেনা আজীবনের চেষ্টাতেও পারেনা। তাহলে কি আসিফ কখনই পারবেনা, পারবেনা লীনা কে বুঝতে। তবে কি......................দূর!! লীনা যে কি ভাবতে ভাবতে কি ভাবে তাই জানেনা সে!!!

হাতের কাজ গুছিয়ে লীনা টিভির রিমোট হাতে বসে। কোন একটা অনুষ্ঠানও ভাল লাগেনা ওর। ফোনটা হাতে নিয়ে মা কে ফোন দিল সে। অনেক কথা বলতে চেয়েছিল মা কে। বলতে পারল না। আবার গিয়ে শুয়ে পড়লো। চুপচাপ শুয়ে থাকলেই লীনার মাথায় রাজ্যের চিন্তা এসে ভর করে.....................................

বন্ধুমহলে ভীষন জনপ্রিয় লীনা। রিয়াদ, সুমি, মাসুম,তামান্না, শাফি,শাওন,ইশরাত সবার মধ্যমনি লীনা। ওরা কেউই জানেনা লীনার ভেতরের ঝড়ের খবর। কাউকে বলতেও ভাল লাগেনা লীনার। পাছে আজকের শান্তনা কালকের সুযোগযন্ধানী বিষবাক্যে পরিনত হয়!!! ভীষণ চঞ্চল লীনা কলেজ থেকেই সবার কাছে "মেন্টাল" বলে পরিচিত ছিল। অনেক মজা করেছে সে দিন গুলোতে সবাই। দল বেঁধে মিরপুর বেড়ীবাঁধ নয়ত, জিয়া উদ্যানে বেড়াতে যেত ওরা। খুঁজে গেঁথে কয়েকটা জুটির মাঝখানটিতে বসত, তারপর ইচ্ছে করে এমন হৈ হট্টগোল বাঁধাতো যে বিরক্ত হয়ে জুটিগুলো উঠে যেত অন্য কোন নিরিবিলি জায়গায়!!! কখনও কখনও আশু হৈ হৈ করে নেমে যেত পানিতে। তারপর ভেজা কাপড়ে আবার আড্ডা। ফাস্টফুডে বসে ওদের চিৎকারে মানুষ ভাবতো সব পাগল গুলো একসাথে হয়েছে!! আনমনেই হেসে ফেলে লীনা। তর তর করে উঠে যেত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের তেঁতুল গাছটাতে। কখনও চারুকলার লীচুগাছে উঠে কাঁচা টক লীচু পেড়ে সাবাড় করতো! আহা, কোথায় সে দিন গুলো?!!!

হঠাৎ একদিন লীনা জানতে পারল বাবার ক্যান্সার। সমস্ত জগৎ সংসার টা এক মুহুর্তেই থমকে গেল লীনার কাছে! "আমার বাবা? বাবা ছাড়া এ জগৎটা বড় ফাঁকা আমার কাছে। এই একজনই তো মানুষ যার মুখে তাকালে আমি সমস্ত কষ্ট ভুলে যাই!!" চিরদীনই বাবার আদূরে মেয়েটা বাবাকে আরও বেশি করে অনুভব করতে শুরু করলো। কত রাত শুয়ে শুয়ে কল্পনা করে "বাবা নেই, সাদা কাপড়ে মুড়ে বাবাকে নিয়ে যাচ্ছে চারজন, লীনা চিৎকার করে বলচে 'কোথায় নিয়ে যাচ্ছো আমার সোনা বাবাটা কে? ওখানে আমার বাবা থাকতে পারবেনা, ওখানে মশা লাগবে, বাবা মশার কামড় একদম সহ্য করতে পারেনা। বাবার ধূলোয় এলার্জী জানোনা তোমরা? নিও না বাবাকে, নিওনা বলছি!!'" লীনার চোখে বন্যা বয়ে যেত, যেন সত্যিই ওর বাবা আর নেই!!! এখন অবশ্য লীনার বাবা প্রায় সেরে উঠেছেন। আসলে তার ক্যান্সারই হয়নি। বাংলাদেশের ডাক্তাররা তাদের অতীব তীক্ষ্ন মেধা দিয়ে সামান্য ছোট একটা ক্ষতকে ক্যান্সার নাম দিয়েছিলেন!! কিন্তু যতদিনে আসল ঘটনা জানা যায় তার আগেই লীনার এবং ওর বাবর উভয়েরই যা ক্ষতি হবার হয়ে গিয়েছিল। রেডীও থেরাপী দিয়ে লীনার বাবার শরীরটাই ভেঙ্গে গেল। আর একমাত্র মেয়ের ভবিষ্যতের কল্যানের চিন্তায় মেয়েটার বিয়ে দিয়ে দেয়া। সেই যে লীনার জীবনটার নরকযাত্রা শুরু হল তার আর শেষ হলনা..........................


ভোঁ ভোঁ একটা শব্দে চমকে উঠলো লীনা। সেল ফোনে ভাইব্রেশনের শব্দ। তামান্নার ফোন। হাঁফ ছাড়লো লীনা, অন্তঃত কথা বলা যাবে কিছুক্ষন এখন.....................


(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৪৯
৩১টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×