Click This Link
তামান্নার সাথে কথা শেষ করে লীনা বারান্দায় গিয়ে বসলো। পাশের বস্তিতে একটা সবজীর মাচাং আছে। তাতে লাউ, চাল কুমড়া আর সিম গাছ লকলকিয়ে উঠেছে। ভালই লাগছে দেখতে। মাচাং এর যিনি গৃহিনীটা মাচাং টায় কি যেন করছে। হয়ত মেরামত করছে কোন ভাঙা অংশ। "আহা জীবন টা যদি এই মাচাং টার মত হত!! সব এমন চিরসবুজ হয়ে থাকত, আবার কোথাও ভাঙন ধরলেই কেউ এসে মেরামত করে দিত!!!" লীনা ভাবে। লীনা আবার হারিয়ে যায় কোথায় যেন। ও কে যে কোন্ স্মৃতিকাতরতা পেয়ে বসলো আজ ক'দিন.........................................
বাবার ক্যান্সার ধরা পড়ার পর লীনার মনটা বড্ড ফাঁকা ফাঁকা লাগতো। তখনই পরিচয় হয় কবিরের সাথে। বাংলার ছাত্র কবির যেন কলি যুগে জন্ম নেয়া সত্য যুগের কোন মনিষী ছিল। কবিতা ভালবাসে লীনা। কবিরও ছিল কবিতা প্রেমিক। কত দিন কবির লীনাকে শুনিয়েছে
"প্রিয়তম পাতা গুলি ঝরে যাবে মনেও রাখবেনা
আমি কে ছিলাম, কি ছিলাম, কেন আমি
সংসারী না হয়ে, খুব রাগ করে হয়েছি সন্ন্যাসী
হয়েছি হিরণদাহ, হয়েছি বিজনব্যাথা, হয়েছি আগুন!!"
কিংবা কখনও সৈয়দ শামসুল হকের রিকশাওয়ালা কিভাবে বউকে রিকশা চালানো শেখায় সেই কবিতা টা। কখনও কাহলীল জিবরালের " your children is not your children, they are the sons and daughters of life longing for itself...................." অথবা রবি দা'র "পাড়ি দিতে নদী, হাল ভাঙ্গে যদি, ছিন্ন পালের কাছি... মৃত্যুর মুখে দাঁড়ায়ে জানিব----তুমি আছ আমি আছি"!! বিনিময়ে লীনা শোনাত "আমার ও পরাণও যাহা চায়, তুমি তাই.........." কিংবা মোর ঘুমও ঘোরে এলে মনহর অথবা "ও আকাশ প্রদীপ জেলো না!!! কবে যে কিভাবে লীনাকে ভালবাসতে শুরু করে কবীর লীনা জানতেও পারেনা।খুব চাপা স্বভাবের ছিল কবির। একদিন বলেই ফেলে লীনাকে সে। লীনা ফিরিয়ে দেয় কবিরকে। সুমনকে আজও ভোলেনি সে। তাছাড়া এর পরিণতিও যদি সুমনের মত হয়। কি দরকার। ফিরিয়ে দিলে হয়ত কষ্ট পাবে কিন্তু স্বপ্নভঙ্গের কষ্ট যে আরও বেশি!!
লীনা ভাবে "আচ্ছা সেদিন যদি কবিরকে না ফেরাতাম! যদি ঘর বাঁধতাম যে কোন প্রকারে তবে কি আজ এমন হত জীবন টা??!! কি জানি!!" কি হতে পারত কিংবা হত না সেই সম্ভাবনায় লীনার মন আজও নাচে। "হওয়ার" সম্ভাবনা বা সীমাবদ্ধতার শেষ আদৌ কি আছে?!! কষ্টের বিষে যখন জীবনের রং হয় নীল, তখন বোধ হয় মানুষ "সম্ভাবনার" আশায় লাল সবুজ স্বপ্ন বুণে!!!! কবিরই লীনাকে শিখিয়েছিল "শরীর!! সে তো একটা কাঠামো, আত্মাই সব। শরীর পঁচে যায়, মন নয়। দুটো মানুষের মিলন যদি হয় শুধুই দৈহিক, তবে তা টেকাবার জন্য যে কোন একজনকে কিংবা দূজনকেই করতে হয় অভিনয় নয়ত বা হতে হয় বোকা!! """ হ্যা লীনাও তো এখন তাই করছে। আসিফ তো শুধু দেহগত লীনাকেই চেনে।!!
লীনার বুকটা তোলপাড় করে ওঠে। "ঈশ্বর, মানুষের মনে ভালবাসা যখন দিলে, এত নিরুপায়ও বা করলে কেন?!!" মনে মনে বলে লীনা! লীনার বড্ড অসহ্য লাগে মাঝে মাঝে। গলার কাছ টাতে একটা দলা পাকানো কষ্ট!! আসিফকে আর তেমন করে চায় না সে। আসিফের বুকে মাথা রাখলে আগের মত বুকটা উথালি পাতালী করেনা। ঘৃনাও তো করে না!! এ কি হল লীনার! বুক ফেঁটে একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ে।
পাশের মসজীদে আযান পড়ে আসরের। লীনা উঠে যায়। চায়ের তেষ্টা পেয়েছে বড্ড...................।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


