পাবলো নেরুদার প্রতি
গৌরাঙ্গ মন্ডল অপু
রোদ লাগা আয়নার মতো হাসি হেসে
প্রথম দিনের বিদায়ের শেষে
সবুজ পাতার মতো হাত নেড়ে বলেছিলে তুমি, 'আবার আসবেন'
জানি আমি কোন রাজহাঁস সাঁতার দেয়নি তোমার নদীতে।
ঘন কুয়াশায় ঘেরা ফাল্গুনী শীত, ধোঁয়াশার কলো দাগ
কাঁচ ভাঙা চুরির সোনালী রোদ, সর্ষে ফুলে ফুলে হলুদাভা মাঠ
দেবদারু গাছে কোকিলের ডাক, বাতায়নে মৌমাছি চাক
লজ্জা নম্র বর্ষা বিকেলে ছবি আঁকতে বসে আমি শিল্পী, তুমি কবি
কবিতার পুষ্প বর্ষণে ভিজিয়ে দাও শিল্পের সনদ,-আমার
এবং আমাকেই।
গহীন অরণ্যে তুমি শাদা পতাকার সমীরণ, বক্তা তুমি-
আমি মেঘের আড়ালে লুকানো নীরব শ্রোতা এক
বক্তৃতা শেষে কুয়াশার তালে তালে করতালি
আমি তখন বার বার তুমি হতে ইচ্ছা করি
কবিতার শ্রেষ্ঠ পুরস্কারে তুমি বসন্তের কচি কলি
আমার দেহের দমনী শিরায় শ্বেত কণিকার ছড়াছড়ি।
ভোরের বাগানের শিশু ঘাসে শিশির পড়া ঋদ্ধি তুমি
শীতের সকালের কচুপাতার মতো শুভ্র কুমারীর
ময়ুরের পেখম মেলিয়ে আকাশ যেন প্রিতমার নীল শাড়ির আঁচল
নীর ঢেউয়ের উর্মিমালার ভীড়ে হারিয়ে যাওয়া শিল্পী আমি
সূর্য যেন সদ্য বিবাহিতা গ্রাম্য বধূর কপালের সিঁদূরের মতো রাঙা
মাটির প্রদীপের নক্ষত্রের মাঝে ঢেউয়ে ঢেউয়ে দীপ্যমান তোমারি মুখখানি।
আমি তো বিলীন হয়ে যাবো কোন এক অজানা অন্ধকার স্বপ্নলোকে
গভীর রাতে তখন প্রেতাত্মা হয়ে আসবো তোমার ঘরে
শিয়রে মোমবাতি জ্বেলে, মাথায় বুলিয়ে হাত, ভাঙাবো ঘুম
আলতো ভাবে করবো একটু আদর, অনেক দিনের তৃষ্ণার্ত ঠোঁট নেড়ে
কুমারী পাখির মতো বলবো, তোমার অসীম হৃদয়ের শান্তিঘন
আম্রকাননে আমারে দাও একটু ঠাঁই, ঠাঁই দাও প্রিয়তম।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১০ রাত ৩:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


