সহসা একদিন ও অন্য জগৎ
আলিম আল রাজী
সামনে খোলা বই, প্যাডের পরে এলোমেলো
ক'টি ছবি আঁকা।চায়ের কাপ প্লেটের উপর নামানো,
পড়ার টেবিল, একটি স্টাপলার, ক'টি নষ্ট পিন
এমনি সময় আম্মা হাঁকেন,
'কইরে রাজী পড়ছিস?'
'উয়ুঁ, হ্যাঁ! এই তো'
ফিজিক্স, কেমিষ্ট্রির কড়াকড়া শব্দ
সহসায় সচকিত হয়ে ওঠে
সারি সারি শব্দ, সূত্রের পর সূত্র, অংকের পর অংক
সামনে খোলা বই, তারপরেও বই
একগুচ্ছ খাতা, দু'টো কলম, একটি পেন্সিল
জানালার কাছে পেয়ারার ডাল বিস্রস্ত
দূরে রেকর্ডারে রবীন্দ্র সঙ্গীতের সুর
কাছেই একটি বাঁশের ঘর; চালে লতিয়ে
ওঠা পুঁই, 'ঐ দ্যাখো! ডালিমের রঙ ধরেছে টুকটুকে
হঠাৎ লজ্জা পাওয়া কিশোরীর অধর যেন!'
'কিশোরী' না তরুনী! উহু! নব বধূ!
'রাজী' চমকে উঠি
'আম্মা কি ব্যাপার?!'
'না কি হয়েছে তোর? মন খারাপ না কি শরীর?'
'না তো! ভালই তো, ভালই তো আছি!
'তবে শুকনো কেন মুখ, গোঁফ-দাড়ি
গজিয়ে উস্কো-খুস্কো চুল, উদাসী চোখ কেন
ডানা মেলে শরতের শুভ্রতার সাথে, সাদা মেঘে সাথে?!
'কি করে বোঝাই তোমায়?'
একটি হৃদয়, দুটি মন,
রবীন্দ্র সঙ্গীতের সুর, ক'টি অট্টালিকা
তারি পাশে বাঁশের ঘর, চালে লতিয়ে
ওঠা পুঁই, আকাশের সাথে মিতালী, বাতাসে দোলা খায়!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


