somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিউলি নামের মেয়েটি-৩

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৪:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পর্ব
পূর্ব প্রকাশের পর:
৮.

পরের দিন মাসুদ যথারীতি সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে সুজনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কলেজের প্রথম দিন থেকে সে সুজনকে চেনে। কাছাকাছি বাসা হওয়ায় তারা একসাথে কলেজে যায়।
মিনিট বিশেক পরে সে আসলে দুজন একসাথে বেরিয়ে যায়। সকাল আটটা থেকে দুপুর দুটা পর্যন্ত ক্লাস করে চারটার দিকে হুমায়ুন স্যারের বাসায় যেতে হবে। কিন্তু এ সময়ের পরে গেলে কি মেয়েটার সাথে তার দেখা হবে?
অনেক ভাবনার পরে সে স্যারের কাছে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে পৌছায়। পরে স্যারকে কোন একটা অজুহাত দিলেই তো হবে এই ভাবতে ভাবতে সে কলেজ শেষ করে মেইন রোডের দিকে হাটতে থাকে। তারপর ম্যাক্সীতে চড়ে নাসিরাবাদ, সেখান থেকে বাসে চড়ে জি.ই.সি. মোড়।
একটা রিক্সাতে উঠে রিক্সাওয়ালা'কে দেওয়ানহাটের দিকে যেতে বলে।

মেয়েটিকে আগের জায়গায় পাওয়া যাবে কিনা কে জানে কিংবা কোথায় গেলে পাওয়া যাবে এসব ভাবতে ভাবতে রিক্সা দেওয়ানহাটে চলেই আসে। কিন্তু এখন রিক্সাওয়ালাকে সে কোথায় থামতে বলবে?
একটা জায়গায় এসে এখানে রাখেন বলে সে রিক্সা থামাতে বলে।
তারপর........
রিক্সার ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে সে বুঝে উঠতে পারছে না কোথায় যাবে?
কিছুক্ষণ এদিক সেদিক তাকিয়ে মেয়েটির মত দেখতে কাউকে সে দেখে না।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে ৩:২০।
গতকালকে চারটার পরে মেয়েটি এখানে এসেছিল। তাহলে আজকেও কি ঐ সময়ে আসবে?
সে নিজের সাথে নিজে কথা বলতে বলতে অপেক্ষা থাকে।
ধ্যাৎ....এভাবে দাড়িয়ে থাকতে ভালো লাগছে না।

আশে পাশের সব দিকটায় ইতিমধ্যে হেটে হেটে দেখা হয়ে গেছে।
হাটতে হাটতে বিরক্ত হয়ে সে একটা কালভার্টের রেলিংয়ে বসে পড়ে। কিন্তু এভাবে আর কত অপেক্ষা করবে সে...। ঘড়ির কাটা থেমে নেই...৩:২০ থেকে ৪:২০ হয়ে কবে ৫:০০টা বাজে সেদিকে তার খেয়ালই নেই। আজ মেয়েটি আসে নি।
সে এখন কি করবে?
সে কি আরো অপেক্ষা করবে?
সাতটার মধ্যে আবার বাসায় যেতে হবে নাইলে সন্ধ্যা হলেই আম্মু টেনশন করবে।
না, এভাবে আর বসে থাকা যায় না।

৯.

রাজ্যের হতাশা নিয়ে আজকের মত সে বাসায় চলে আসে। কিন্তু তার কোন কিছুই ভাল লাগে না। বড় ছেলে মাসুদকে নিয়ে বাবা-মার অনেক স্বপ্ন। এস.এস.সি'র মত রেজাল্ট এইচ.এস.সি'তেও করবে এমনটাই সবার ধারণা। তাই অনেক পড়ালেখা করতে হবে তাকে কিন্তু এখন বই খাতা ছুড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে মাসুদের।

মা'র সাথে সে খুবই আড্ডা দিতে পারে।
মাকে বলবে কিনা ভাবতেই...দূর মাকে বলে কি হবে।
তাহলে কাল আবার ক্লাসে গেলে সুজন'কে বলা যেতে পারে।
কিন্তু সে আবার কি ভাবে সেটাও একটা কথা।
এমনিতে মাসুদ যখন তার সরল মনের কথাগুলো তার বন্ধুদের বলে সবাই হাসে। একবার সে আরাফাত, ফারুক, সুজন, নজরুল, দেলোয়ার সহ সবার সাথে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য নিয়ে কথা বলছিল। সে বলে ধনীরা ধনী হচ্ছে আর গরীবরা আরো গরীব....কেন?
সেদিন তার প্রশ্নের প্রশ্নবোধক কেউ দূর করতে পারেনি বরং সবার ধারণা এসব 'হাই থট' চিন্তা ভাবনা। এসব কথা আমরা বলে কি লাভ? সেদিন মাসুদ তাদের সাথে একমত হতে পারেনি।

এসব চিন্তা করে তাদেরকে বলার কথা আপাতত সে মাথা থেকে বাদ দেয়।

১০.

পরের দিন:
সে আবার একই জায়গায় গিয়েছিল কিন্তু মেয়েটিকে খুঁজে পাওয়া গেল না। অজানা কারণে তার মন খারাপ হাতে তাকে। কোন কিছুতেই মন বসছে না। নিজেকে স্বার্থপর মনে হচ্ছে। অনেকদিন সে কবিতা লিখেনি। যখন অস্থির মন কোন কিছুতে সাঁয় দেয়না তখন কবিতা লিখে সে মন ভালো করার চেষ্টা করে। কবিতার পান্ডুলিপিটা বের করে কলমের কালি দিয়ে তার রাগ ঝরাতে থাকে...

মুক্ত চিন্তার সাধারণ মানুষের মত
সুন্দর ভবিষ্যত,
সুখী বাংলাদেশের স্বপ্নকে নিয়ে
আর কত হেঁটে যাব অজানা পথে।
দিগন্তের সীমানা ছাড়িয়ে,
শেষ খেয়ার অশান্ত প্রহরে,
সূর্যাস্তের ক্লান্ত আলো'র
ছায়া ছায়া অন্ধকারে ছুটে
আমি বড্ড ক্লান্ত।
আমি আজ পরাজিত,
একটি অবুঝ শিশুর কাছে পরাজিত,
স্বার্থপর পৃথিবীতে অন্ধ সবাই,
ব্যস্ত নিজেকে নিয়ে,
তাদের দেখাব না আমার অশ্রসিক্ত চোখ।

১১.

তৃতীয় দিন:
কলেজে গিয়ে সে কারো সাথে খুব একটা কথা বলে না। মাসুদের উদাসীনতা দেখে অনেকে অনেক কিছু বলে। আরাফাত জিগ্গেস করে...
কিরে প্রেমে পড়েছিস নাকি?
সে কারো কথায় পাত্তা দেয়না। সে ভাবছে আজকে যেভাবেই হোক মেয়েটাকে খুজে সে বের করবেই।
কলেজ শেষে সবাই যখন বাসায় যাওয়ার জন্য ছুটছে, তখন সে মেয়েটির খোঁজে চেনা পথের অচেনা মায়ার টানে ছুটে।

আজও সে একই জায়গায় এসেছে। একটা ঝুপড়ি দেয়া চায়ের দোকানে বসার চিন্তা করছে এমন সময় লাল রংয়ের ফ্রক পরা একটি মেয়েকে দেখতে পেয়ে তার হার্টবিট বেড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। দেরী না করে সে মেয়েটির দিকে পা বাড়ায়।
শিউলিই তো...নাকি এটা নিছক মনের ভুল?
না, ফুল হাতে সে'ই তো দাড়িয়ে আছে...।
অবশেষে, তিনদিন ধরে যাকে খুঁজে বেড়িয়েছে তার খুব সামনে দাড়িয়ে আছে সে।
শিউলি কেমন আছ?
মেয়েটি তার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকায়।
সে কি মাসুদকে চিনতে পেরেছে?

চেহারাতে প্রশ্নবোধক দেখে তার ধারণা সে চিনতে পারেনি। অবশ্য এত মানুষের ভিড়ে না চেনারই কথা। তাছাড়া সে তো চেনার মত কেউ না।

: আমি ভাল, আপনি?
: আচ্ছা তুমি কোথায় থাক আমাকে বলবে?
তাহলে আমি তোমার সব ফুল কিনে নেব।
কি বলবে না?

অনেকক্ষণ মাসুদের দিকে তাকিয়ে সে হাত দিয়ে ইশারা করে কি যেন দেখায়।
মাসুদ পাহাড় ঘেষে দাড়িয়ে থাকা বস্তির দিকে থাকায়।
: তুমি ঐখানে থাক?
এবার সে উপর থেকে নিচের দিকে মাথা ঝাঁকায়।
: আমাকে নিয়ে যাবে?
মাসুদের কথা শুনে মেয়েটি কি করবে বুঝে উঠতে পারে না।

চলবে.....
(মেয়েটির জন্য কি অপেক্ষা করেছিল, মেয়েটি এখন কোথায়, কি করছে জানতে চাইলে পরের পর্বে চোখ রাখুন। ধন্যবাদ।)




সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০০৮ ভোর ৬:১১
১৯টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×