আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ারস এ এই প্রথম আসলাম
গত কয়েকদিনের কাজের চাপে মাথা পুরা ক্র্যাক
দিন রাতের কোন ঠিক নাই ............... কয়েক রাত ঠিকমত ঘুমাইতে ও পারি নাই
জাহাজের চাকুরির এই এক অসুবিধা
সাগরে থাকলে সময় সিল্কের মত স্মুথ চলে যায়
পোর্টে আসলে এত কাজের চাপ থাকে !
ডিউটি শেষ করার পরে রোমানিয়ান থার্ড ইঞ্জিনিয়ার জর্জ বলল ' চল বাইরে থেকে ঘুরে আসি '
'এইখানে ইন্টারেস্টিং কি আছে ? " আমি বললাম
" কান্ট্রি অব লিওনেল মেসি , মাই ফ্রেন্ড " জর্জের দিগন্ত বিস্তৃত হাসি
"মেসিরে দেক্তারিনা " আমার মেজাজ গরম
" আরজেন্টিনার বিফ স্টেক অনেক বিখ্যাত , চল মাইরা আসি " জর্জ লোভ দেখায়
আমারও একটা ব্রেক দরকার ............ টার্মিনাল গেইটে সিকিউরিটি পাড় হয়ে বাইরে গেলাম
ট্যাক্সি নেবার পরে পরলাম আরেক বিপদে
আবাল ড্রাইভার স্প্যানিশ ছাড়া আর কিছু বুঝে না
আমার স্প্যানিশ এর দৌড় "ওলা" আর "আদিওস" পর্যন্ত
যাক জর্জ কিছুটা জানে ............ আইফোনে ছবি দেখাইয়া আর আকার ইঙ্গিতে আবুলটারে বুঝাইলো একটা রেস্টুরেন্টে নিয়া চল যেখানে ভালো বিফ স্টেক পাওয়া যায়
অনেকক্ষণ ঘুরাইয়া শেষ পর্যন্ত এক সি সাইড রেস্টুরেন্ট এ নিয়া গেল সে
মিটারে দেখলাম ভাড়া উঠছে ৪৫ পেসো ...... লোকাল কারেন্সি না থাকাতে ১৫ ডলার দিলাম ভাড়া ( ১ ডলার = ৪.১ পেসো )
রেস্টুরেন্ট এ ঢুকেই মনটা ভালো হয়ে গেল
আহা এত ললনা বসে আছে ( লুল )
কয়েকটা টেবিল দেখলাম ৭-৮ জন করে বসে আছে
হই চই আর কথা বলার ভাবসাব দেখে মনে হয় স্কুল, কলেজের সার্কেল
আহারে ঢাকার কথা মনে পরে গেল !
মুস্তাকিমের দোকান বা বুমারস ............ বন্ধুদের সাথে খাওয়া আর ধুমাইয়া আড্ডা দেয়া
মিসিং মাইসেলফ অ্যান্ড মাই টাইমস !
মেনুতে দেখি হরেক রকমের বিফ স্টেক ...... কনফিউজড ... কোনটা যে অর্ডার দেই !
শেষ পর্যন্ত দিলাম হাউস স্পেশাল স্টেক উইথ মাশরুম সস ( ৫ সেঃমিঃ x ৪৫০ গ্রাম )
সাথে নিলাম একটা মিক্সড সালাদ আর আলুর ভর্তা (স্মেশড পটেটো )
ওয়েটার মাইয়াটা কইলো " আমাদের ভালো কান্ট্রি বিয়ার আছে "
"দাও দেখি গলাটা ভিজাই "
আমি ললনা দেখিতে ব্যাস্ত
কি এক সময় আইলো ? পোলাপাইন যেই খানেই যায় ঐখানেই চেক ইন করে ফেসবুকে
" গুলিস্তান পাবলিক টয়লেট, checked in "
হেয়ার ইস ইয়উর কান্ট্রি বিয়ার, এঞ্জয় !
কান্ট্রি বিয়ার এ এক চুমুক দেবার পরেই মেজাজটা বিলা হয়ে গেল
এত বাজে বিয়ার মনে হয় না আগে কখনো ট্রাই করছি
ভাগ্য ভালো ঝাকে ঝাকে পাখি বসে আছে আসে পাশে
তিতা বিয়ার ও তখন অমৃতের মত লাগে
ওয়েটার মেয়েটা স্টেক নিয়ে আসার পর আমি পুরা টাসকি খাইলাম , এই জিনিস খামু কেমনে ?
এখনো মাংসের গায়ে রক্ত দেখা যায় !
মাইয়া আমার চেহারা দেইখা কয় " ডু ইউ ওয়ান্ট ইট মোর কুকড ? "
হ্যাঁ সুচক জবাব দিলাম
জর্জ বলল " আমার এই রকম ই ঠিক আছে , আই লাইক ইট লিটল র "
যাক আমারটা আসার পরে খাওয়া শুরু করলাম
টেস্ট কেমন ? সত্যি বলতে আমার কাছে তেমন আহামরি কিছু মনে হয় নাই
স্টেক সচরাচর যেমন হয় !
আলাদা করে বলতে গেলে , এখানকার স্টেক আকারে অনেক বড় এবং থিক .........
যদিও জর্জ এক কামড় খায় আর ডিজুস সাউন্ড করে ' ওয়াও , অসাধারন ...... ব্লা ব্লা ব্লা "
মাইন্ডসেটের একটা ব্যাপার আছে ......... আমি খাই বিফ স্টেক আর আমার জিহবা টেস্ট খুজে মুস্তাকিমের চাপ আর কাবাবের
যাক রেস্টুরেন্ট এ সময়টা ভালোই কাটলো
ওয়েটার মেয়েটা মিষ্টি হাসি দিয়ে যখন বিলের কাগজটা দিল , দেখলাম ১৮০ ডলার বিল উঠছে
আমি তখন মনে মনে হাসি ...... এই টাকা দিয়া ঢাকাতে ব্যাটন রুঝে পুরা সার্কেল সহ বুফে খাওয়া যাইত
২০০ ডলার মেয়েটার হাতে দিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে আসি
ফেরার পথে ট্যাক্সিতে হেনিকেন আর স্প্যানিশ মিউজিকে বিভোর আমরা খেয়াল করি নাই ড্রাইভার ব্যাটা মিটার চালু করে নাই
টারমিনালে আসার পরে ব্যাটা যখন কয় ভাড়া হইছে ১১০ পেসো , তাকাইয়া দেখি মিটার বন্ধ !
জিগাইলাম , কাহিনি কি ?
কয় , মিটার নস্ট
শুনিয়া তো আমার হেনিকেন এর মোহ কর্পূরের মত উড়িয়া গেল
মামা গুলিস্তান আসিয়া পরিলাম নাকি !
কি আর করা !
বুয়েন্স আয়ারস থেকে গুলিস্তান, ধান্দাবাজেরা সবখানেই
*** আরজেন্টিনা দেক্তারিনা
*** ইনাদেরকে অনেক ভালা পাই
*** ছবিগুলা গুগুল থেকে নেয়া

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

