ব্লগিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া এর যখন সূচনা হয়েছে পৃথিবীতে অনেকেই ভেবেছিলেন এই জায়গাটা হবে তরুণদের বিকল্প মিডিয়া। তরুণরা তাদের সুস্থ, নিরপেক্ষ, সৃষ্টিশীল চিন্তা এবং লেখনী দ্বারা সমৃদ্ধশালী করবে এই মিডিয়াকে। সারা পৃথিবীতে হয়তো তাই হয়েছে। কিন্তু আমাদের তরুণদের ক্ষেত্রে আদৌ কি তা হয়েছে। এদেশের প্রায় সমস্ত ব্লগার ই নিজেকে মুক্তমনা দাবি করেন। আদৌ কি তাঁরা মুক্ত মনা? তাদের ব্লগ পড়লে যথেষ্ট সন্দেহ জাগে মনে। অনেক আগে কিছু ব্লগার দের লেখা প্রায় পড়তাম তখন যথেষ্ট মান সম্মত লেখাও পেতাম ব্লগে। ধিরে ধিরে দেখলাম তারাও দলীয়করণ এবং ব্যাক্তি আক্রমনের জন্যই ব্লগিং শুরু করল। ব্লগিং এর পচনের সূচনা করে দিয়ে গেছেন পথিকৃৎ রাই।
গত আড়াই কি তিন বছর আগেও গন মানুষের জোয়ার আসেনি ব্লগিং ও সোশ্যাল মিডিয়ায়। তখন অনেক উদিয়মান তরুন এই মিডিয়ায় প্রবেশ করতে শুরু করেছিল, এখন ও অনেক তরুন ই এখানে প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে। তখন ভেবেছিলাম নতুন রা বোধয় কিছু পরিবরতন করবে।
কিন্তু সেখানেও হতাশ। নতুন রা তাদের চিন্দার বিকাশ এবং শেখার পরিধি বাড়ানোর পরিবর্তে অনুসরন করা শুরু করেছে। অনেকেই সুস্থ চিন্তার পরিবর্তে সস্তা জনপ্রিয়তার পিছনে ছুটেছে, অনেকে পছন্দ মত একটা মতাদর্শ বেছে নিয়ে দলাদলি করা শুরু করেছে।
মুক্ত মনারা বাস্তবিক অর্থে সঙ্কুচিত মনা হয়ে যাচ্ছে, যা তাঁরা নিজেরাও বুঝছেনা।
নতুন দের এই বেড়াজালে বন্দি করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রেখেছে পুরনো ব্লগার রাই, তাঁরা তাদের দর্শন এর মাধ্যমে তাদের কনভিন্স করার চেস্টা করেছেন। নতুন রা সাভাবিক ভাবেই কম জানে, পুরনো রা তাদের জানানোর পরিধি না বাড়িয়ে তাদের ওপর নিজের দর্শন চাপিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা সেসব দর্শন এর মাঝে থেকে নিজেদেরটা পছন্দ করে নিয়েছে, অদ্ভুতভাবে সে তাঁর নিজস্ব ছিন্তার বিকাশ ঘটানোর পরিবর্তে অপরের দর্শন লালন শুরু করল।
এতদিন তবু লেখালেখিতে সীমাবদ্ধ ছিল, ইদানিং এরা নিজেদের মান, সম্মান, সত্তা , রুচি সব ই বিসরজন দিয়ে দিয়েছে। গালাগালি তো ছিলই, এখন যোগ হয়েছে, ব্যাক্তিগত হুমকি, নোংরা ছবি বানানো, অন্য ব্লগারের ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে টানাটানি।
একটি দেশের তরুন সমাজের যদি সুস্থ চিন্তা এবং অপরের যুক্তি মেনে নেয়ার খমতা না থাকে এবং একটি সুস্থ তার্কিক ব্যাবস্থার প্রতি বিশ্বাস না থাকে তবে সেই দেশে গৃহ যুদ্ধ বাধতে দেরি নাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

