somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকা শহরের সমস্ত ত্রিচক্রযান ভালোবেসে (ছবি ব্লগ)

১৭ ই জুলাই, ২০১২ রাত ১১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা জীবনান্দের মত গভীর ভাবে অচল মানুষ নই, আমাদের যাত্রার তাড়া আছে এখন। আমরা গতি চাই দ্রুততা চাই, আধুনিক বর্জ্যে সবুজ দুষন চাই। ঢাকাকে মেগাসিটি তে রুপান্তর চাই। আমরা বিসর্জন দিচ্ছি আমাদের আবেগ, ভালোবাসা, ছোট ছোট বেদনা, আনন্দ।
প্রেমিকা প্রথম দিন রিকশার হুড তুলে যে ছোট্ট লাজুক চুমু দিয়েছিল, সেই চুমুর স্বাদ এখনো ভুলিনি। হুডের ছায়ায় কত ঠুনকো ঝগড়ার শুরু , সেখানেই মিটমাট। বন্ধুদের সাথে কত বিনিদ্র রাত্রি টি এস সি, শাহবাগ, মতিঝিল,পুরান ঢাকা ভ্রমন, গলা ছেড়ে হেড়ে গলায় গান। প্রতিটা সুখস্মৃতি ধীরে ধীরে বিসর্জন দিচ্ছি। খুব তাড়া পড়ে গেছে যে!! তাই ছোট ছোট আনন্দ দুঃখের সাথে জড়িয়ে থাকা এই ত্রিচক্রযান কে বিসর্জন দিচ্ছি আমরা, ঢাকা থেকে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে রিকশা বাড়ছে ভি আই পি রোড।
আর্ট এবং পেইন্টিংস নিয়ে নাড়া চাড়া করতে করতে দাদাইজম, এক্সপ্রেশনিজম, স্যুরিয়ালিজম এর ভিড়ে মিশে গিয়েছিলাম, হঠাত করে খেয়াল করলাম ঠিক আমাদের চোখের সামনের একটা গুরুত্বপূর্ণ শিল্প আমার চোখে পড়ছে না। সেটা হচ্ছে আমাদের রিকশা চিত্র, আমাদের চোখের সামনে সহস্র রিকশা এর সাথে যা মিশে আছে। কোন রিকশায় আছে সত্তর বা আশির দশকের সিনেমার নায়ক নায়িকার ছবি, তাদের একশন দৃশ্য বা প্রেমের দৃশ্য, কোনটায় ময়ুর, বাঘ, ভাল্লুক, ও নানাবিধ পশুপাখির সৌন্দর্য, কেউ ফুটিয়ে তোলেন গ্রাম বাংলার অপরুপ সৌন্দর্য শোভা। এই শিল্প কে বাংলাদেশের অন্যতম একটা পাবলিক আর্ট বলা যায়।
একজন রিকশাওয়ালা বা এই শিল্পের শিল্পীর সর্বাত্মক চেষ্টা থাকে একটা রিকশা কে সুন্দর এবং রঙ্গিন করে সাজানো তে, যেন সেই বাহন টা আমাদের জীবনে নতুন কিছু রঙ যোগ করতে পারে। দিন দিন রিকশা কমে যাচ্ছে, রিকশা চিত্রের কদর ও কমে যাচ্ছে, জানিনা এই শিল্পীরা ক্যামন আছেন তাদের ভবিষ্যৎ দুর্দশা নিয়ে কি ভাবছেন। তাদের নিয়ে সমাজ এ কোন কাজ ও ত্যামন হচ্ছে না, বছর আটেক আগে আনুশেহ আনাদিল তার ফ্যাশন হাউস ‘যাত্রা’ য় রিকশা চিত্র কে মুল উপজীব্য হিসেবে তুলে ধরেন, এর মাধ্যমেই আমাদের উচ্চবিত্ত, ও উচ্চ মধ্যবিত্ত সমাজে এই শিল্পের পরিচিতি কিছুটা হলেও বেড়েছে, সেজন্য তাকে বহু আগে একবার শুভকামনা জানিয়েছিলাম। ধন্যবাদ আনুশেহ। এই শিল্প কে বাচিয়ে রাখতে হলে এই ব্যাপারে আমাদের অনতিবিলম্বে দৃষ্টি দেয়া উচিত, কারন রিকশা চিত্র এখন বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটা অংশ হয়ে গেছে, একে বাচিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব।
এই সমস্ত রিকশা চিত্রের ই অল্প কিছু ছবি দিয়ে এই লেখা-

নায়িকার প্রেম ময়ী চেহারা, আর নায়কের রুদ্রমূর্তি। হয়তোবা ভালোবাসা অধিকার করার যুদ্ধ।

ফুল, ময়ুর এবং নানা শৈল্পিক আলপনা।

সিংহ, কুমির, ময়ুর, ঈগল, ফুলের নকশা,তার পাশাপাশি , মানুষ, মানুষ কে হয়ত প্রকৃতের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই প্রকাশ করা হয়েছে।

একজন চিত্রশিল্পী ছবি আঁকাতে মগ্ন।

তাজ মহলের শৈল্পিক প্রকাশ।

রুদ্রমূর্তিতে নায়ক, যেন ওয়ান ম্যান আর্মি।

এই চিত্রকর্ম সম্পরকে কিছু বলার প্রয়োজন নাই, নির্দ্বিধায় একটা বাংলা সিনেমার প্লট তৈরি করে ফেলতে পারবেন এই ছবি থেকে। :p

বাংলার পরিবার, পারিবারিক আদি বাঁধন।

কোন এক প্রেম যুগলের ভালবাসা কে অমর করে রাখার প্রচেষ্টা।

তরবারি হাতে নায়কের একশন দৃশ্য। সাথে মোরগ। :p

ভালবাসায় ব্যর্থতার জ্বালা ভীষণ, হয়ত সেই বেদনা সহ্য করতে না পরে এক রমনির আত্মহত্যার প্রচেষ্টা। ”সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী ” জাতীয় কিছু।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম অনুপ্রেরনা হউয়া উচিত এই ছবিটা।

নয়নাভিরাম বাংলাদেশের গ্রাম ও প্রকৃতি।

আলপনা ও প্রতিকৃতির সহ অবস্থান।

এই ছবিটা আমি ‘দ্য রিকশা আর্ট অফ বাংলাদেশ’ নামে একটি বই এ পেয়েছি। আসলেই যদি ছবিটা একজন রিকশা চিত্র শিল্পির আঁকা হয়, তবে আমি অত্যন্ত দুঃখিত যে এমন গুনি একজন শিল্পী হয়তো কালের কোন এক গহ্বরে হারিয়ে গেছেন। এই শিল্পমান আমাকে বিস্মিত করেছে।

জীবনের সব রঙ, সব আদি সৌন্দর্য যেন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

অভূতপূর্ব আলপনা।

বাংলার ধার্মিক মানুষের বিশ্বাসের প্রতিফলন।


কি তার রুপ!! যেন প্রেমিক যুগলের কাঙ্খিত বাসর ঘর। :p :p

বি দ্রঃ ছবিগুল আমার তোলা নয়। নেট থেকে সংগৃহীত, যদি কারো কোন আপ্নত্তি থাকে, বা মেধা স্বত্ব এর লঙ্ঘন ঘটে তবে আমাকে জানান। আমি সেই ছবি মুছে ফেলব।
ধন্যবাদ।
১৮টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×