ঘটনা সম্ভবত আমি যখন ক্লাস ওয়ানে পড়ি তখনকার । পিচ্চিকাল থেকেই বয়সের তুলনায় বেশি পাকনা থাকার কারনে প্লে-গ্রুপ আর নার্সারি’তে পড়ার সৌভাগ্য বা দূর্ভাগ্য; কোনটিই হয়নি, একবারে ডাইরেক্ট ক্লাস ওয়ান । পরে ভর্তি হয়েছিলাম বলেই কিনা জানিনা, স্কুল আমার কোন কালেই ভাল্লাগতো না । অনেক ঠেলে-ঠুলে; চাচা চৌধুরী-টিনটিন কিনে দেয়ার প্রমিসের মাধ্যমে আমাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া হতো । ওমনি এক সকাল ছিল সেটি, মায়ের বহুত অনুনয় বিনয়ের পর রাজি হলাম যে স্কুলে যাবো । বিন্দুবাসিনীর জগত বিখ্যাত সাদা-খাকি ড্রেস পরে বিরস বদনে গেলাম স্কুলে । গিয়ে দেখি মেইন গেট বন্ধ, দারোয়ান চাচা বাইরে বইসা পান চিবাইতেসে । মা বিরক্ত মুখে জিজ্ঞেস করলো “গেইট বন্ধ ক্যান ?” উত্তরে যা শুনলাম, ফ্রুটিকা না খেয়েই দিলটা একদম ঠান্ডা হয়ে গেলো । ওইদিন ছিল কালি পূজা, স্কুল বন্ধ । অতিরিক্ত রেগুলার স্টুডেন্ট হওয়ার কারনে যা আমার জানা ছিল না (লোল হবে এখানে
এত সকালে আমাদের দেখে নানি যা অবাক হইসে, তা কেবল “কিউকি সাস ভি কাভি বহু থি”তে তুলসী মরার পর আবার ফিরে আসার টাইমে ওর জামাই মিহির যে রকম অবাক হইসিলো ওনলি তার সাথে কম্পেরাবল । তারপর শুরু হৈলো মা-মেয়ের কিচ্ছা যার শুরু আছে, এর শেষ’র কথা যেন ভাবা’ও পাপ ! এদিকে ওইসময় কোন কাজিন’ও বাসায় ছিল না । সাংঘাতিক বোর লাগতেছিল । পোলাপাইনের মত বসে থাকা আমার ধাতে তখনো সইতো না, এখনো সয় না । কার্টুন নেটওয়ার্কে আগে সকালে পাপাই শো হৈতো । ওইটা দেখতেও ভাল্লাগতেসিলো না বিধায় গেলাম ব্যাল্কনিতে । তাও ভাল্লাগে না । চোর-পুলিশ খেলার ভূত চাপলো মাথায়, কিন্তু খেলবো কার সাথে ? মা-নানি’কে গিয়ে বললাম, “ওই, চোর পুলিশ খেলবা?আমি চোর, তোমরা দুইজন খুজবা, ওকে?” । নানি বললো, “ফান্টা খাবা? আনাই দিবো?” (কি প্রশ্নের কি জবাব!!)
আবার গেলাম ব্যাল্কনিতে । চোর পুলিশ তো খেলতেই হবে । নানু বাসা’টা বিরাট । ব্যাল্কনি যাওয়ার পথে করিডরের শেষ মাথায় ডাইনিং । পিংপং খেলতে খেলতে ডাইনিং টেবিলের নিচে ঢুকলাম । কাঠের স্ট্যান্ডের উপর শুয়ে বসে থাকতে মজাই লাগতেসিলো । সকালে উঠার কারনে একটু টায়ার্ড’ও ছিলাম মনে হয়; ঘুম ঘুম চোখে ডাইনিং’য়ের নিচে পিংপং খেলা চললো ।
ঘুম ভাঙ্গলো মা’র কান্না মিশ্রিত চিৎকারে । আমি তো পুরাই ভ্যাবাচ্যাকা । মা চিল্লায় ক্যান ? সারমর্ম যা বুঝলাম, আমি হারানো গেসি । কে বা কারা যেন আমারে তুলে নিয়ে গেসে । সারা বাসায় আমাকে পাওয়া যাচ্ছে না । একবার ভাবলাম যাই, গিয়ে বলি এই যে আমি, মা’র কান্না একদম সহ্য হচ্ছে না । কিন্তু মনের শয়তান কথা বলে উঠলো, আমি না চোর পুলিশ খেলতে চাচ্ছিলাম, সুযোগ যখন পাওয়া গেসে একটু পরেই বের হই । এইদিকে বড় মামা, ছোট মামা সব ঘুম ভেঙ্গে উঠে আমাকে খুজতেসে । মজার ব্যাপার কি, আমি সবার পা দেখতেসি, আমার লুকিয়ে থাকা ডাইনিং টেবিলের সামনে দিয়েই সবাই দৌড়াচ্ছে ।
আধ ঘন্টা পার হয়ে গেসে সম্ভবত, পাশের রুমে বাবা’র আওয়াজ’ও পাচ্ছি । এইবার হালকা ভয় লাগলো । বাবা যখন আসছে, ঘটনা সিরিয়াস । টাঙ্গাইল থানার ও.সি তখন রফিক কাকা অথবা আমার বড় ফুপা ছিল; আমার ঠিক মনে নাই, সম্ভবত ফুপা’ই ছিল (তখন’ও উনি ফুপা হয় নাই যদিও
পরে আর বিশেষ কিছু হয় নাই । মা’র কারনে বাবা দাবরানি দিতে পারে নাই । দাবরানি দেবে কি, ওরা দুজন কান্না থামাক আগে পারলে ! আমিও কাদতেসিলাম যদিও কেন কাদতেসিলাম সেটা বুঝতেসিলাম না, বোঝা’র ট্রাই করার কোন প্রয়োজনীয়তাও বোধ করছিলাম না ...
[বি.দ্রঃ আমি ভালো ছেলে । একদম ছোট বেলা থেকেই।] [[proved]]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


