somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"কিড" in "ন্যাপ" | "Kid" in "Nap"

০৭ ই অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৫:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনা সম্ভবত আমি যখন ক্লাস ওয়ানে পড়ি তখনকার । পিচ্চিকাল থেকেই বয়সের তুলনায় বেশি পাকনা থাকার কারনে প্লে-গ্রুপ আর নার্সারি’তে পড়ার সৌভাগ্য বা দূর্ভাগ্য; কোনটিই হয়নি, একবারে ডাইরেক্ট ক্লাস ওয়ান । পরে ভর্তি হয়েছিলাম বলেই কিনা জানিনা, স্কুল আমার কোন কালেই ভাল্লাগতো না । অনেক ঠেলে-ঠুলে; চাচা চৌধুরী-টিনটিন কিনে দেয়ার প্রমিসের মাধ্যমে আমাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া হতো । ওমনি এক সকাল ছিল সেটি, মায়ের বহুত অনুনয় বিনয়ের পর রাজি হলাম যে স্কুলে যাবো । বিন্দুবাসিনীর জগত বিখ্যাত সাদা-খাকি ড্রেস পরে বিরস বদনে গেলাম স্কুলে । গিয়ে দেখি মেইন গেট বন্ধ, দারোয়ান চাচা বাইরে বইসা পান চিবাইতেসে । মা বিরক্ত মুখে জিজ্ঞেস করলো “গেইট বন্ধ ক্যান ?” উত্তরে যা শুনলাম, ফ্রুটিকা না খেয়েই দিলটা একদম ঠান্ডা হয়ে গেলো । ওইদিন ছিল কালি পূজা, স্কুল বন্ধ । অতিরিক্ত রেগুলার স্টুডেন্ট হওয়ার কারনে যা আমার জানা ছিল না (লোল হবে এখানে :P)। মা আমার দিকে একটা লুক দিল, আমিও আমার দাত গুলা দেখাই দিলাম সাথে সাথে :D । ভাগ্যিস তখনও সাল্লু ভাইয়ের ‘ঢিঙ্কা চিকা’ গানটা রিলিজ হয় নাই, হইলে ওই সিচুয়েশনে নিতান্ত বাধ্য হয়ে আমাকে নাচতেই হত :P !! মা আমার দিকে তাকায় থাকতে থাকতে হঠাত নিজেও হেসে দিল । তারপর প্রশ্ন করলো, ‘এখন কি করবা?’ । আমি ভাবলাম এখন বাজে সকাল ৮ টা, লাইব্রেরী’তো আর খোলে নাই, টাইম পাস করার জন্য বেস্ট আইডিয়া নানুবাসায় যাওয়া । (প্রসঙ্গত আমার স্কুল থেকে নানুবাসার ডিসটেন্স ঢিল মারার মত না হলেও অনেক কাছে) । যেই কথা, সেই যাওয়া (কাজ নয় :p) ।



এত সকালে আমাদের দেখে নানি যা অবাক হইসে, তা কেবল “কিউকি সাস ভি কাভি বহু থি”তে তুলসী মরার পর আবার ফিরে আসার টাইমে ওর জামাই মিহির যে রকম অবাক হইসিলো ওনলি তার সাথে কম্পেরাবল । তারপর শুরু হৈলো মা-মেয়ের কিচ্ছা যার শুরু আছে, এর শেষ’র কথা যেন ভাবা’ও পাপ ! এদিকে ওইসময় কোন কাজিন’ও বাসায় ছিল না । সাংঘাতিক বোর লাগতেছিল । পোলাপাইনের মত বসে থাকা আমার ধাতে তখনো সইতো না, এখনো সয় না । কার্টুন নেটওয়ার্কে আগে সকালে পাপাই শো হৈতো । ওইটা দেখতেও ভাল্লাগতেসিলো না বিধায় গেলাম ব্যাল্কনিতে । তাও ভাল্লাগে না । চোর-পুলিশ খেলার ভূত চাপলো মাথায়, কিন্তু খেলবো কার সাথে ? মা-নানি’কে গিয়ে বললাম, “ওই, চোর পুলিশ খেলবা?আমি চোর, তোমরা দুইজন খুজবা, ওকে?” । নানি বললো, “ফান্টা খাবা? আনাই দিবো?” (কি প্রশ্নের কি জবাব!!)



আবার গেলাম ব্যাল্কনিতে । চোর পুলিশ তো খেলতেই হবে । নানু বাসা’টা বিরাট । ব্যাল্কনি যাওয়ার পথে করিডরের শেষ মাথায় ডাইনিং । পিংপং খেলতে খেলতে ডাইনিং টেবিলের নিচে ঢুকলাম । কাঠের স্ট্যান্ডের উপর শুয়ে বসে থাকতে মজাই লাগতেসিলো । সকালে উঠার কারনে একটু টায়ার্ড’ও ছিলাম মনে হয়; ঘুম ঘুম চোখে ডাইনিং’য়ের নিচে পিংপং খেলা চললো ।



ঘুম ভাঙ্গলো মা’র কান্না মিশ্রিত চিৎকারে । আমি তো পুরাই ভ্যাবাচ্যাকা । মা চিল্লায় ক্যান ? সারমর্ম যা বুঝলাম, আমি হারানো গেসি । কে বা কারা যেন আমারে তুলে নিয়ে গেসে । সারা বাসায় আমাকে পাওয়া যাচ্ছে না । একবার ভাবলাম যাই, গিয়ে বলি এই যে আমি, মা’র কান্না একদম সহ্য হচ্ছে না । কিন্তু মনের শয়তান কথা বলে উঠলো, আমি না চোর পুলিশ খেলতে চাচ্ছিলাম, সুযোগ যখন পাওয়া গেসে একটু পরেই বের হই । এইদিকে বড় মামা, ছোট মামা সব ঘুম ভেঙ্গে উঠে আমাকে খুজতেসে । মজার ব্যাপার কি, আমি সবার পা দেখতেসি, আমার লুকিয়ে থাকা ডাইনিং টেবিলের সামনে দিয়েই সবাই দৌড়াচ্ছে ।



আধ ঘন্টা পার হয়ে গেসে সম্ভবত, পাশের রুমে বাবা’র আওয়াজ’ও পাচ্ছি । এইবার হালকা ভয় লাগলো । বাবা যখন আসছে, ঘটনা সিরিয়াস । টাঙ্গাইল থানার ও.সি তখন রফিক কাকা অথবা আমার বড় ফুপা ছিল; আমার ঠিক মনে নাই, সম্ভবত ফুপা’ই ছিল (তখন’ও উনি ফুপা হয় নাই যদিও :D) । যাই হোক, বাবা-মা, ফুপা, মামা’রা সবাই পাশের রুমে মিটিং করতেসে কিভাবে কি করবে । কিডন্যাপার হলে তো ফোন আসবে তাই সব ওই রুমে অপেক্ষা করতেসে । মা’র কান্না’র সাথে বাবা’ও মনে হয় যোগ দিল । আমি তো পুরাই “চো*” । বের হওয়ার সাহস তখন টোটালি নাই, এদিকে নানি তখনো করিডোর দিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতেসে, হাতে দেখি সেই ফান্টা’র বোতল । আমি ডাইনিং’য়ের আপার ক্লথ একটু উচু করে আস্তে ডাক দিলাম, “নানি, ওই নানি” ! নানি আমাকে দেখেও দেখলো না যেন । প্রবল উত্তেজনা আর টেনশনে নানি’র মাথা’তেই নাই যে উনি আমাকেই খুজতেসে :P (লোল হবে) । নানি আমাকে দেখে টোটালি পাত্তা না দিয়ে পাশের রুমে চলে গেল, রি-আকশ্যন'র টাইম আমি গুনতে শুরু করলাম - এক,দুই,তিন... সাত কি আট পর্যন্ত যেই গেসি তখন পাশের রুম থেকে নানি’র চিৎকার “সঙ্গীইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইই” । এতক্ষনে নানি'র মাথায় ঢুকসে যে আমারেই খোজা হচ্ছে ! আর যাই কোথায়, টেবিলের নিচ থেকে এক ছুটে বের হয়ে আমি একবারে পাশের রুমে মায়ের কোলে গিয়ে পড়লাম । তখন’ও জানতাম, এখন’ও জানি, ওটাই একমাত্র জায়গা যেখানে আমি সবসময় নিরাপদ ।



পরে আর বিশেষ কিছু হয় নাই । মা’র কারনে বাবা দাবরানি দিতে পারে নাই । দাবরানি দেবে কি, ওরা দুজন কান্না থামাক আগে পারলে ! আমিও কাদতেসিলাম যদিও কেন কাদতেসিলাম সেটা বুঝতেসিলাম না, বোঝা’র ট্রাই করার কোন প্রয়োজনীয়তাও বোধ করছিলাম না ...



[বি.দ্রঃ আমি ভালো ছেলে । একদম ছোট বেলা থেকেই।] [[proved]]
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×