নোমানের মন খারাপ । বেশ ভালো রকমেরই খারাপ ।
মেজাজ’ও বেশি ভালো না । আচ্ছা, মন আর মেজাজ’র মাঝে পার্থক্যটা কি ? দুটো কি এক জায়গা থেকেই আসে ? কে জানে ! এসব ভাবতে নোমানের একদম ইচ্ছা করছে না, কিন্তু মন খারাপ থাকলে ওর দার্শনিক ভাবটা প্রবল হয়ে ওঠে । অবাক হওয়ার মত কোন ঘটনা না কোন এটা, বেশিরভাগ মানুষের দার্শনিক সও্ব্বা জাগে কমোডে বসার পর, ছিঃ বললেও করার কিছু নাই, ঘটনা সত্যি ।
মোনার’ও যেন কেমন লাগছে । নোমান’কে উচিত শিক্ষা দেয়া হয়েছে । সারাদিন “লাভ ইউ, লাভ ইউ” বললে কতদিন আর ভালো লাগে ? মনটা শক্ত করে ইচ্ছামত নোমান’কে ঝাড়ার পর আইনস্টাইন’র থিওরি মতে তার ভালো লাগা উচিত । কিন্তু মনটা এমন লাগছে কেন ? নোমানের জন্য তার কি একটু মায়া লাগছে ? আইনস্টাইন’র থার্ড ল তো বলে, নোমানের খারাপ লাগলে তার ভালো লাগবে ! এ ক্ষেত্রে আইনস্টাইন কি ফেল খাইল ? আজিব্জজ্জজ্জজ !! টুউউউউউউট ইউ নোমান । আই ডোন্ট লাভ এনিওয়ান, এন্ড দ্যাটস ইট । আই কান্ট লাভ ইউ এভার ... মুখে বললেও সেকি এগুলো বিশ্বাস করে ? মোনা জানে না ...
নোমানের দুনিয়া এখন পুরো উলটা পালটা । কত কিছু ভেবেছে সে মোনাকে ঘিরে । সব শেষ হয়ে গেল ? কিন্তু মোনা’কে তো সে চেনে । চেনা মোনার অচেনা রুপে নোমান পুরোই ভ্যাবাচ্যাকা । আব তু ক্যায়া কারেগা রে কালিয়া ? সে হাল ছাড়বে না, নিজের পরী’কে এভাবে যেতে দেয়া যায় ?
মেসেজ’র পর মেসেজ, কলের পর কল, ফেইসবুকেও ওয়াল পোস্টে একাকার । মোনা বিরক্ত হয়ে যায়, সাথে কি একটু খুশি খুশিও লাগে ? নোমান হারিয়ে যায় নি, সে নব উদ্যম খুজে পেয়েছে । এখন কি বলা যায় ওকে ? নিজের ওয়েট’টাও ধরে রাখতে হবে তো ! ১৯ নাম্বার কল’টা সে রিসিভ করে -
‘হেই মোনা, কেমন আছ ? [কি আজব পোলা, এমন ভাব যেন কিছুই হয় নাই; মোনা কিছুটা অবাক হয়]
‘এই তো । [ নোমান কেমন আছে, এটা জিজ্ঞেস সে কখনোই করে না ]
‘আমিও ভালো । অনেক !
‘কেন ?
‘এই যে, ফোন ধরলা ! আমি তো ভাবছিলাম এই ইহজীবনে আর তা হবে না । এখন ফোন’টা ধরলা, অনেক ভাল্লাগতেসে । আগের কিছু আর মনে নাই ।
‘ওই !
‘কি ?
‘তুমি অনেক বেশি সুইট নোমান । চেঞ্জ হইয়ো না কখনো । হইলে কিন্তু মাইর দিবো ।
‘তোমার জন্য তো কখনোই চেঞ্জ হব না, যাই হোক, মাইর বেশি দিতে ইচ্ছা করলে এমনিই আইসা দিয়া যাইও”
‘ওই?
‘বল ?
‘আমরা কিন্তু এখনো ফ্রেণ্ড, কথা বলতেসি দেখে অন্য কিছু ভাইবো না ।
‘এমন সব টাইমে, এমন সব কথা বলোনা তুমি ! কেবলি রোমান্টিক হয়ে গেসিলাম, আর তুমি মুডে দিলা পানি ঢেলে ।
‘আমি এমনই।
‘জানি, তবু আমি এই মেয়েটাকেই ভালোবাসি ।
‘হইসে ! ডায়ালগ কম দাও ।
‘একটা কথা জানো মোনা ?
‘কি?
‘মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি হলাম নেস ক্যাফের গরম কফি আর তুমি কে এফ সি’র ঠান্ডা ক্রাশার্স ।
‘মানে?
‘মানে সবসময় এমন ঠান্ডা বিহেভ না করলে হয় না ?
‘না হয় না ।
‘আচ্ছা বাবা, থাকো তোমার মত । সোমবারে দেখা করা যায় ?
‘ওকে, ভেবে দেখি, পরে জানাবো । এখন রাখি, অনেকক্ষন কথা বলে ফেলসি । বাই !
--খট খট ।। নোমানের আর বাই বলা হয় না । ফোন কেটে গেছে ওপাশ থেকে ।
সোমবার ।
সন্ধ্যা ৭ টা । রমজান মাস । মোনা বলেছে সে আসবে ইফতারের পর । ইফতার হয়ে গেছে । নোমান’র সেই রকম নার্ভাস ফিল হচ্ছে । কোন বোর্ড পরীক্ষায় যাওয়ার আগেও কি এতটা টেনশন লেগেছে ? মনে তো হয় না ! সে চেয়ারে বসতেই পারছে না । এত নার্ভাস হলে চলে ?
-হেই ! নোমান, রাইট ?
-ইয়েস স্যার, মানে ম্যাডাম ! ওফফ ।। মোনা, বসো !
-দেরি করে ফেললাম ?
-না, নাহ । [এক ঘণ্টা ধইরা বসে আছি ]
- সো ? [ কথা কও না কেন এখন ? ফোনে তো কত পটর পটর, “রোমিও-গরম কফি” কত কিছু হইতেসিলা :@ ]
নিজের মন আতি পাতি করে খুজেও কোন কথা খুজে পাচ্ছে না নোমান । কিছু রোমাণ্টিক ডায়ালগ মুখস্ত’ও ছিল । কিচ্ছু মনে আসতেসে না !
-উমমম, কি খাবা মোনা ? [ রোমাণ্টিক ডায়ালগের নমুনা ! ]
-এনিথিং ! [ আমি কি খাইতে আসছে বেকুব? ]
-আমি নিয়ে আসি ? সেলফ সার্ভিস ।
-আমিও যাবো চলো ।
[ ট্রে হাতে নোমান, নিচ থেকে উপরে উঠছে, পেছনে মোনা ]
-জানো মোনা, ট্রে হাতে আমি এক জাদুকর । আমার হাত থেকে কোন কিছু কখনোইইইইইইইইইই ...
ধাআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআম !!
পড়ে না ।
-হাহআহাহহাহ ! তুমি একটা বেকুব নোমান ।
-আমি জানতাম এটা । কোক দিয়ে কেবল গোসল সারার পর সিওর হলাম ।
-আমার এই বেকুবটাকে পছন্দ হইসে !
-কি কও !!!
-আই লাভ ইউ বেকুব !
-মানে ?
-মানে বুঝতে হবে না, আমার জন্য একটা ঠান্ডা ক্রাশার্স নিয়া আসো বেকুব জাদুকর ।
নোমান নামছে সিড়ি দিয়ে । মাথার সব তার যেন প্যাচ খেয়ে এক তার হয়ে গেছে ! মোনা নামের পরী’টা এখন ওর ? মোনার মেয়ের বাবার নাম নোমান আহমেদ হবে, এইটা ভাবাই কত আনন্দের ! নোমানের চোখ জ্বলছে, পানিও কি পড়লো দু ফোটা ? এই যাহ ! ছেলেদের চোখে পানি মানায় না ।
৫ বছর পর
কাল নোমান-মোনালিসা’র বিয়ে । দুজনের সাংঘাতিক ঝগড়া । বরাবরের মত ফোনেই –
‘মোনা, বুঝতেসো না, এটা পসিবল না। লোকে পাগল বলবে ।
‘বললে বলুক । আমি এক ডজন বাচ্চার মা হব, এন্ড দ্যাটস ফাইনাল বেকুব ।
‘এহেম এহেম । কিছু কমাও !
‘এটা কি পেয়াজ কিনতে আসছো বাজারে যে কমাবো?
‘মোনা......
‘আমি জানি না কিছু তাসভীরের আব্বু ! [ বিয়ের আগেই ছেলের নাম রাখা ফিনিশ ! ]
নোমানের চোখ আবার জ্বলছে । ৫ বছর আগের মতই ...
‘তুমি যা চাও তাই হবে মিস ক্রাশার্স’ ।
‘আই লাভ ইউ বেকুবের বাচ্চাদের বাপ !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


