somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেন্ট্রালিয়া : জ্বলন্ত,পরিত্যক্ত এক আমেরিকান শহরের কাহিনী আর কিছু স্বদেশ ভাবনা

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমেরিকার ইস্ট কোষ্টের অন্যতম জনবহুল, শিল্প শহর ফিলাডেলফিয়া থেকে পঁচাশি মাইল উত্তর পশ্চিমে পেনসিলভানিয়ার কলম্বিয়া কাউন্টির এক ছোট শহর সেন্ট্রালিয়া (Centralia) I খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ সেন্ট্রালিয়া ১৮৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে গত শতকের ষাট দশক পর্যন্ত ছিল খুব সম্ভাবনাময় শহর I হাজার অধিবাসীর কোলাহলে মুখর সেন্ট্রালিয়ার ছিল সমৃদ্ধ ব্যবসা বাণিজ্য, প্রশস্থ রাস্তাঘাট,ব্যস্ত দোকানপাট,অভিজাত নেইবারহুড।মাইনিং ব্যবসার প্রসার বিশেষ করে খনি থেকে উত্তোলিত কয়লার ব্যবহার এই শহরের সমৃদ্ধিকে দিনে দিনে বাড়িয়েই তুলেছিল।গত শতকের মধ্য পর্যন্ত কয়লাই ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন, নির্মাণ শিল্পের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি। আর সেন্ট্রালিয়ার মাটির নিচে ছিল উন্নত মানের এনথ্রাসাইট কয়লার (anthracite coal) বিশাল মজুত।এই উন্নত মানের এনথ্রাসাইট কয়লা সাধারণ কয়লার থেকে বেশি শক্ত যার জন্য এই কয়লা পুড়িয়ে সাধারণ কয়লা থেকে বেশি শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব। গত শতাব্দীর শুরু থেকেই তাই সেন্ট্রালিয়ার উন্নতি হয়েছিল খুবই দ্রুত গতিতে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় একশত বছর পর্যন্ত সেন্ট্রালিয়া ছিল ইস্ট কোষ্টে আমেরিকান কয়লা উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র ।১৮৯০ সালের মধ্যেই এই শহরের জনসংখ্যা দ্বিগুনেরও বেশি হয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩০০০। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কারণে গত শতাব্দীর প্রথমার্ধে আমেরিকার স্টক মার্কেটে ধ্বস ও গ্রেট ডিপ্রেশনের অর্থনৈতিক ধাক্কাও সেন্ট্রালিয়া সামলে নিয়েছিল সহজেই।

এক সময়ের সমৃদ্ধ ও কোলাহলমুখর পাহাড় ঢাকা অপর্ব সুন্দর শহর সেন্ট্রালিয়া গ্রেট ডিপ্রেশনের তীব্র অর্থনৈতিক চাপ সামলে নিতে পারলেও প্রকৃতির প্রতিশোধ থেকে বাঁচতে পারেনি।সমৃদ্ধির আলোঝলমল সময়গুলোর এক বিষন্ন প্রহরে সেন্ট্রালিয়ার মৃত্যু ঘন্টা বেজে ওঠে মানুষের নির্বিচার পরিবেশ সংহারী কাজকর্মের ফল হিসেবে। ১৯৬২ সালের এক অশুভ সকালে এর শুরু । সেন্ট্রালিয়ার এক শিশু বেড়াতে যেয়ে দাদির বাড়ির পেছনের বুনো গাছ গাছালির আড়ালে মাটির নিচ থেকে ধোয়া উঠতে দেখে অন্যদের জানায় । প্রথম প্রথম সবাই এটাকে পাহাড়ের আড়ালে পচা ডোবার গ্যাস হিসেবে ভুল করে । তাছাড়া খনিতে এ'রকম অগ্নিকান্ড যেহেতু খুব অপরিচিত না তাই শুরুতে এনিয়ে খুব দুশ্চিন্তা হয়নি কারুরই । কিন্তু ধীরে ধীরে নানান জায়গা থেকেই মাটির নিচ থেকে শুধু ধোয়া বের হবার সাথে সেন্ট্রালিয়া উত্তপ্তও হয়ে উঠতে থাকে।শুরু হয় আগুন নেভানোর উদ্যোগ । কিন্তু এক সময় স্পষ্ট হয়ে উঠে যে সেন্ট্রালিয়ার মাটির নিচে মজুত সোনার মতো দামি এনথ্রাসাইট কয়লাতে লাগা আগুন ছড়িয়ে গেছে মাটির নীচে সারা সেন্ট্রালিয়াতেই । এতদিন যে কয়লা সেন্ট্রালিয়ার আনন্দ, আয়ের প্রধান উৎস হয়ে বিরাজ করছিলো সেটাই শহরের সাক্ষাৎ মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।


ফটো : সেন্টালিয়ার আবাসিক এলাকা ও পাহাড়ে আগুনের উত্তাপ আর ধোয়া

কিভাবে মাটির নিচে মজুত কয়লাতে আগুন লাগলো সেটা কখনোই নিশ্চিত হওয়া যায় নি। সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য থিয়োরিটি হলো সেন্ট্রালিয়ার একটি পরিত্যক্ত কয়লা খনি, যাকে শহরের বর্জ্য ফেলার ডাম্পিং গ্রাউন্ড করা হয়েছিল,পরিস্কার করার কাজ থেকেই এই আগুনের সূচনা ঘটে ।১৯৬২ সালের মে মাসে আমেরিকার মেমোরিয়াল ডে উদযাপনের আগে সেন্ট্রালিয়ার সিটি কাউন্সিল শহরের ডাম্পিং গ্রাউন্ডগুলো পরিষ্কার করার কাজ শুরু করে।সে সময় শহরের পরিত্যক্ত অনেক খনিতে অনেক ডাম্পিং গ্রাউন্ড গড়ে উঠে । শহরবাসীর অভিযোগ ছিল এগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে যাচ্ছে আশে পাশের এলাকায় আর তাছাড়া এই ডাম্পিং গ্রাউন্ডগুলো কাৰণে ইঁদুরের উৎপাত বেড়ে যায় শহরে।সেই অভিযোগে সারা দিয়ে সিটি কাউন্সিল ডাম্পিং গ্রাউন্ডগুলি পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেয়। ডেভিড ডিকক(David Dekok)তার ‘ফায়ার আন্ডারগ্রাউন্ড’ বইয়ে লিখেছেন সেন্ট্রালিয়ার সিটি কাউন্সিলের ডাম্পিং গ্রাউন্ড পরিষ্কারের পদ্ধতির কাৰণেই একটি ডাম্পে (যা ছিল একটি পরিত্যক্ত কয়লা খনি) আগুনের সূচনা হয় আর মাটির নিচে মজুত কয়লাতে আগুন ধরার ক্ষেত্রে তা স্পার্কের কাজ করে । একটি ডাম্পে লাগা আগুন মাটির নিচে কয়লার সংস্পর্শে আসা থেকেই মাটির নিচে বিশাল কয়লার মজুত থেকে সেন্ট্রালিয়ার রাস্তার নিচে পরিত্যক্ত খনির টানেলগুলো দিয়ে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে যায়।লোকাল মাইনগুলো অতিরিক্ত কার্বন মনোক্সাইড নিঃসরণে স্বাস্থ্য হুমকির কাৰণে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন জায়গায় মাটি খুঁড়ে আগুন নেভাবার উদ্যোগ নেয়া হলেও কোনো উদ্যোগই সাফল্য পায়নি।এই ব্যর্থতার ক্ষেত্রে পরিহাসটা হলো, যে মাইনিং সেন্ট্রালিয়ার উজ্জ্বল পরিচিতির কেন্দ্র হয়ে ছিল প্রায় একশ' বছর সেটাই এই আগুন নেভানোর ব্যর্থতার প্রধান কাৰণ হিসেবে দেখা দেয় । শহর জুড়ে পরিত্যক্ত কয়লা খনির এতো অসংখ্য টানেল ছিল যে এর যে কোনো একটা বা অনেকগুলো পরিত্যক্ত টানেলই মূল অগ্নিকাণ্ডের পেছনে দায়ী হতে পারে। পরিত্যক্ত সব খনির বন্ধ টানেলগুলো পুনঃ উন্মুক্ত করে এই আগুনের উৎস নিৰ্ধাৰণ করা ছিল খুবই ব্যয়বহুল। যা সেন্ট্রালিয়ার মতো ছোট শহরের পক্ষে সম্ভব ছিল না ।


ফটো : তীব্র উত্তাপে ফেটে গেছে হাইওয়ে, ফেটে যাওয়া রাস্তার নীচ থেকে বের হচ্ছে ধোয়া, একসময়ের ব্যস্ত রাস্তাগুলো এখন নির্জন, পরিত্যক্ত


ফটো: পাথুরে রাস্তার নিচে আগুন, উত্তপ্ত পাথরের কাছে ম্যাচ রাখলেই আগুন ধরে যাচ্ছে, সিঙ্ক হোলের উত্তাপে ডিম্ ভেজে দেখাচ্ছে জনৈক অধিবাসী

সময়ের সাথে শহর জুড়ে ভূমি ধ্বস আর তা থেকে নান জায়গার সিঙ্কহোল সৃষ্টি হয় । ধীরে ধীরে উত্তাপ বাড়তে তাকে শহরের ।শহরের কিছু কিছু জায়গায় তাপমাত্রা ৯০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় পাঁচশো ডিগ্রি সেলসিয়াস) রেকর্ড করা হয়। শহরের রাস্তাগুলো প্রচন্ড উত্তাপে ফেটে যেতে থাকে আর তার নিচ থেকে বের হয়ে আসতে শুরু করে গরম ধোয়া আর লক লকে লাল আগুন। অধিবাসিদের স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়তে থাকে আর ঘরবাড়ি,বাণিজ্যিক বিলডিঙেও বিপদজনক স্ট্রাকচারাল সমস্যা দেখা দিতে থাকে বিপদজনক গ্যাস নিঃসরণ, তীব্র উত্তাপ আর ভূমি ধ্বসের কারণে।এ'প্রসঙ্গে ১৯৮১ সালে গ্রেগ ওয়াল্টার বিখ্যাত পিপল ম্যাগাজিনে আবেগঘন একটা লেখা লেখেন:,জ্বলন্ত শহরের আগুনে এমন কি মৃত ব্যক্তিরাও কবরে শান্তিতে ঘুমাতে পারছে না। শহরের দুটো সেমিটারির ভূমিধ্বস হয়েছে।আর কবরে শায়িত লাশ হয়েছে লক লকে আগুনের গ্রাস ! সে বছরেরই শুরুতে বারো বছরের ছোট এক বাচ্চা উত্তপ্ত সিঙ্কহোলে পরে মারাত্মক ভাবে দগ্ধ হয় ।


ফটো: সেন্ট্রালিয়ার ব্যস্ত লোকাস্ট স্ট্রিট (Locust st.): তখন আর এখন

আগুন শুরু হবার পর থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরেও শহরের আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি । তাই ১৯৮৩ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৪১.৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে সরকার শহরের সব সম্পত্তি কিনে বাসিন্দাদের শহর থেকে রিলোকেট করার সিদ্ধান্ত নেয়।পেনসিলভানিয়া সরকার শহরের সব বাড়িঘর ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় এই সময়ে । ১৯৯২ সালে শহরের পোস্টাল কোড বাতিল করা হয় । শহরের মাত্র সাতজন লোক কোর্ট অর্ডারের কারণে শহরে থাকার অধিকার পায় ।কিন্তু তাদের নিজেদের বাড়ি ও সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তরের সব অধিকার লুপ্ত করা হয় ।


ফটো: বরফ ছাওয়া সেন্ট্রালিয়া কিন্তু কমেনি প্রকৃতির ক্রূদ্ধ আগুনে প্রতিশোধের পালা

পেন্সিলভেনিয়ার পাহাড়ে এখনো শীত আসে।তখন সেন্ট্রালিয়ার পাহাড়ে,সমতলে ঝরে পরে অবিশ্রাম শুভ্র সাদা স্নো।এক সময় সারা সেন্ট্রালিয়া ঢাকা পরে যায় ঝরে পরা অবিরাম স্নোর নিচে । কিন্তু তবুও প্রকৃতির প্রতিশোধ নেওয়া শেষ হয় না ।প্রকৃতি উদার হাতেই আমাদের সুখ স্বাচ্ছন্দের জন্য দিয়েছে অনেক ।কিন্তু প্রকৃতির দানগুলো ব্যবহারের ব্যাপারে আমরা অসচেতন হয়ে উঠলে প্রকৃতি কিন্তু ক্রূদ্ধও হয়ে উঠে কখনো কখনো।এখনো সেন্ট্রালিয়া জ্বলছে কয়লা খনির আগুনে।এই আগুন আরো একশো বছর জ্বলবে পেনসিলভ্যানিয়ার এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির হিসেবে । আমি টিভিতে একটা ডকুমেন্টারি দেখেছিলাম সেন্ট্রালিয়ার ওপর সেখানে জিওলজিক্যাল এক্সপার্ট বলেছেন এই আগুন আরো পাঁচশো বছরও জ্বলতে পারে!এক সময়ের সমৃদ্ধ সেন্ট্রালিয়া এখন জ্বলন্ত আগুনের শহর !


ফটো: গ্রাফিটি হাইওয়ে (রুট -৬১) :মাইল জুড়ে পরিত্যক্ত স্টেট্ হাইওয়েতে হারিয়ে যাওয়া শহর স্বরণে অধিবাসী,ট্যুরিস্টদের আঁকা/লেখা

সেন্ট্রালিয়ার নিচের ফটোটা আমি যখনই দেখি তখনি আমার নানা কথা মনে হয় ।অনেক দিন আগে জানুয়ারির এক স্নো ঝরা সকালে আমি পেনসিলভেনিয়াতেই এসেছিলাম বাংলাদেশ থেকে ছাত্র হিসেবে । এখনো গ্রেট লেকসের পার থেকে নিউইয়র্ক বা ওয়াশিংটন ডিসির দিকে ড্রাইভ করে যেতে হলে পেন্সিলভেনিয়ার পাহারের মধ্যে দিয়েই যেতে হয় । এই পথে যাবার সময় মনে হয় 'সাইলেন্ট হিলের' নীরব শহর সেন্ট্রালিয়ার কথাIগত মাসের শেষেই পেন্সিলভেনিয়ার পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে নিউইয়র্ক যেতে যেতে মনে হলো সেন্ট্রালিয়ায় প্রকৃতির তান্ডব নিজে চোখে একবার দেখে যাই। কিন্তু নির্বিচারে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের মধ্যে দিয়ে পরিবেশ ধ্বংসের হুমকি সৃষ্টি করা মানব সমাজের একজন হয়ে সেই বীভৎস দায়ের মুখোমুখি হতে ইচ্ছে করলো না কেন জানি।তাই আমার আর যাওয়া হলো না সেন্ট্রালিয়া। সেন্ট্রালিয়ার ওপর প্রকৃতির প্রতিশোধ নেবার বীভৎসতা না দেখে পালিয়ে বাঁচতে পারলেও কেন জানি হাজার মাইল দূরে ফেলে আসা বাংলাদেশের পরিবেশ ধ্বংস ও তার পরিনাম সম্পর্কে ভাবনা থেকে পালিয়ে থাকতে পারি না।



কদিন আগেই 'বুল্বুল' দক্ষিণের কিছু অংশের অনেক ক্ষতি করলো। আরেকটা ঘূর্ণিঝড়ও নাকি সামনেই আঘাত করতে পারে । গত কয়েক বছরে বেশ কিছু বড় ধরণের ক্ষতিকর সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় এসে আঘাত করেছিল দক্ষিণের দ্বীপ আর মেইনল্যান্ডে।এতো ঘন ঘন সামুদ্রিক ঝড় কিন্তু আমাদের ছোট বেলায় দেশে হতো না। ছেলেবেলার চিটাগাঙের সবুজ পাহাড়গুলো নির্বিচারে কাটার খবরে মন অন্তহীন ভারীই হয় শুধু প্রতিদিন। ঢাকা শহরে যেই মাঠগুলোতে আমরা সব পেয়েছির আনন্দ নিয়ে খেলতাম, শুনেছি সেগুলোর কোনোটাই আর এখন নেই। বাণিজ্যিক আর আবাসিক বহুতল বিল্ডিঙের সগৌরবে উপস্থিতিতে সেগুলো লুপ্ত।দেশের সব খানেই সবুজ জমি হারিয়ে যাচ্ছে কংক্রিটের আড়ালে। বিশ্বে ঢাকা পরিচিত হয়ে উঠেছে ধুলাবালিময় আর স্বাস্থ্য হুমকির অন্যতম প্রধান শহর হিসেবে গত এক দশকের মধ্যেই !মাটির নীচ থেকে অনবরত পানি উঠাবার ফলে পানির স্তর অনেক নীচ নেমে গেছে দেশের অনেক জায়গাতে।এতে মাটিতে বাড়ছে লবনাক্ততা যা চাষাবাদের পক্ষে ক্ষতিকর,বাড়ছে ভূমি ধ্বসের আশংকা।দেশে বনাঞ্চলের পরিমান আশংকাজনক ভাবে কমে গেছে।এর মধ্যে আবার সরকার কয়লা চালিত পাওয়ার ল্যান্ট বসানোর সব আয়োজন সম্পন্ন করে ফেলেছেন সুন্দর বনের ধ্বংসের ঝুঁকি নিয়েও।গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশের আশংকায় থাকা একটা দেশ আমাদেরIদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের আভাষ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। সেন্ট্রালিয়ার পাহাড় সারির পাশ দিয়ে ড্রাইভ করতে করতে আমার সব সময়ই মনে হয় দেশের পরিবেশ ধ্বংসের বিষয় নিয়ে কি আমরা ভাবছি আসলেই?দেশের পরিবেশ বাঁচাতে প্রয়োজনীয় কাজগুলো
কি আমরা করছি ? পরিবেশ বাঁচাতে না পারলে আমাদের দেশেরও যে সেন্ট্রালিয়ার মতো একটা করুন ভাগ্য বরণ করতে হতে পারে সেটা কি ভাবেন আমাদের দেশের কান্ডারীরা ? বা আমরা নিজেরাই কি খুব একটা ভাবি?


ফটো: সেন্ট্রালিয়ার কাছেই পেনসিলভ্যানিয়ার পাহাড়ে I-80 দিয়ে পথ চলা (সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তোলা)

-------
** পেন্সিলভ্যানিয়ার পাহাড় সারি দিয়ে I-80তে প্রায় তিনশ' মাইল ড্রাইভিং নিয়ে এই লেখা একটা ছবিময় ভ্রমণ কাহিনী হতেই পারতো । কিন্তু ক’দিন আগেই পৃথিবীর পরিবেশ আন্দোলনের কিশোরী নেত্রী গ্রেটা থোনবেরীকে নিয়ে ব্লগে খুবই সুন্দর একটা লেখা লিখেছে ওমেরা।কয়েক মাস আগে পরিবেশ নিয়ে আহমেদ জি এস ভাইয়ের লেখা 'পশুরের জলে শেষ জলকর' কবিতাটাও ছিল অনেক ভালোলাগার Iসেন্ট্রালিয়ার অল্প দূর দিয়ে ড্রাইভ করতে করতে দেশের পরিবেশ নিয়ে মনে উঠে আসা কিছু আশংকা আর ওমেরা ও আহমেদ জি এস ভাইয়ের কবিতা মিলেই আমার ভ্রমণ কাহিনীটা কেমন করে যেন পরিবেশ ভাবনার এই লেখায় বদলে গেলো Iতাই প্রিয় দুই ব্লগারকেই মনে করছি এই লেখায় I

***লেখার উৎস : সেন্ট্রালিয়ার ওপর লিখিত সরকারি বেসরকারি অনলাইন রিসোর্সেস। ফটো উৎস : ইন্টারনেট ও আমি (I-80 ফটোটা)
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:১১
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টাঙ্গাইলের সব জমিদার বাড়ি একসাথে

লিখেছেন হাবিব স্যার, ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৫৮



(সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: পোস্টটি অনেক বড়।)

আজকে আমি টাঙ্গাইলে, আমার জানামতে সবগুলো জমিদার বাড়ি নিয়ে কথা বলবো। কিভাবে একদিনে প্রায় সবগুলো জমিদার বাড়ি ঘুরে আসবেন সে তথ্যও জানাবো। আমি কোন জমিদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযোদ্ধারা তো এমন চেতনাবাজ'ই হতে চেয়েছিলেন!

লিখেছেন Sami Al Shakib, ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:৪৬


১.
'মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ' নামে সরকারের মদদপুষ্ট কিছু সন্ত্রাসী 'দৈনিক সংগ্রাম' পত্রিকায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সাবেক জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা'কে একটি আর্টিকেলে 'শহীদ' হিসেবে উল্লেখ করার প্রতিবাদে গতকাল(১৩/১২/১৯ইং) বিকেল হতে পত্রিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি বীরাঙ্গনা বলছি

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:৩৯


এখনো রক্তের দাগ লেগে আছে আমার অত্যাচারিত সারা শরীরে।
এখনো চামড়া পোড়া কটু গন্ধের ক্ষতে মাছিরা বসে মাঝে মাঝে।
এখনো চামড়ার বেল্টের বিভৎস কারুকাজ খচিত দাগ
আমার তীব্র কষ্টের দিনগুলোর কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইনস্টাইন, হকিং ও মেরিলিন মনরো

লিখেছেন মুনির হাসান, ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৮:২০


আজ থেকে ১০০ বছর আগে, ১৯১৯ সালের ৬ নভেম্বর স্যার আর্থার এডিংটন তার এক্সপেডিশনের রেজাল্ট প্রকাশ করে বলেন - আইনস্টাইনের থিউরিই ঠিক। ভারী বস্তুর পাশ দিযে আসার সময় আলো বেঁকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ রাষ্ট্রপতি লেফট্যানেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)

লিখেছেন নীল আকাশ, ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৪৩



মুক্তিযুদ্ধের হে বীর সেনানী
লও লও লও সালাম,
অকুতোভয়ী হে বীর যোদ্ধা
লও লও লও সালাম।

স্বাধীন এই দেশের প্রতিটা ক্ষনে
বিনম্র শ্রদ্ধায় তোমারই স্মরণে,
ভালোবাসার এই পুষ্পাঞ্জলি
স্পন্দিত হৃদয়ে রাখতে চাই তোমারই চরণে।

তুমিই বিজয়ী বীর,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×